চাঁদপুর। বুধবার ৪ জানুয়ারি ২০১৭। ২১ পৌষ ১৪২৩। ৫ রবিউস সানি ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা


২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৬৭। উহারা বলিল, ‘হে লূত! তুমি যদি নিবৃত্ত না হও তবে অবশ্যই তুমি নির্বাসিত হইবে।


১৬৮। লূত বলিল, ‘আমি তোমাদের এই কর্মকে ঘৃণা করি।’’  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 

বুদ্ধিমান লোক নিজে নত হয়ে বড় হয় আর নির্বোধ ব্যক্তি নিজেকে বড় বলে অপদস্থ হয়।      -হযরত আলী (রাঃ)। 



বিদ্যা অর্জন করো; কারণ যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে বিদ্যা অর্জন করে সে ধর্মকর্ম করছে। যে ব্যক্তি বিদ্যা আলোচনা করে, সে খোদাতায়ালার প্রশংসা করছে। যে বিদ্যা শিক্ষা দেয়, সে দান করার পূণ্যের অধিকারী হবে। যে জন উপর্যুক্ত পাত্রে বিদ্যা দান করে, সে আল্লাহর প্রতি ভক্তি প্রদর্শন করে।             


  

ফটো গ্যালারি
রজব আলীর গজব!
রাসেল হাসান
০৪ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আধুনিক গানের কনসার্টে গ্রাম বাংলার শুদ্ধ সংস্কৃতিমনা রজব আলীর মন কিছুতেই ভরে না। সে খুঁজে বেড়ায় বাঙালির শুদ্ধ সংস্কৃতির স্বাদ। একতারা-দোতারার টুং টাং শব্দ, বাঁশির পাগল করা সূর আর লোকজ সংস্কৃতির গান খুব বেশি টানে রজব আলীকে। সখিপুর নদীর পাড়ে বসে বসে রজব আলী ভাবছে হারানো দিনের কথা। গত কয়েকদিন রজবের মনটা ভালো নেই। সে শুনেছে নদীর ওপারে রসুলপুরে মেলা বসেছে। মেলায় যাওয়ার জন্য তার মন পাগলপ্রায়। হঠাৎ কোনদিন থেকে যেন গান গাইতে গাইতে কালু চলে আসলো। নদীর পাড়ে বাতাসে কালুর মাথার চুল উড়ছে আর হাঁক দিয়ে বলে উঠলো,



_ ও রজু কাকু। এ তুমি দুপুর বেলা নদীর পাড়ে একা একা বসে বসে কি কইচ্ছো? কিছু ভাবতেছ নাকি?



_ কালুরে, আমার ক্যান জানি একটু মেলায় জাতি মন চায় রে। শুইনেছি নদীর ওপারে রসুলপুরে নাকি মেলা বইসেছে!



_ হ্ রজু কাকু আমিতো তাই শুইনলাম। তোমার পুতের বউ কাইল রাতি কইলো তার লাগি যেন এক ডিব্বা আলতা নিয়ে ঘরে যাই।



_ কালুরে তাইলে চলনা, আইজ দুইজনে মিল্লা একটু মেলা থেইকা ঘুইরা আসি। শুইনেছি মেলায় নাকি পুতুল নাচ বইসেছে। কত বছর পুতুল নাচ দেখি না!



_ আচ্ছা রজু কাকু তালি পড়ে তুমি সইন্ধার লগে লগেই চইলে আইসো। রাত বেশি হইলেতো আবার নাও পাওয়া যাইবে না।



এভাবে রজব আলী আর কালু দু'জনে মেলায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। সন্ধ্যার সাথে সাথেই নৌকায় করে পাড়ি জমায় রসুলপুরে। নসুলপুর নদীর তীর বেয়েই মেলা বসে। মেলার যতই কাছে যাচ্ছে ততই বিভিন্ন গানের মিশ্র সুর ভেসে আসছে তাদের কানে। পথে পথে হকারদের আনাগোনা আর কবিরাজদের হাবিজাবি বিক্রির দৃশ্যতো আছেই। রজব আলী মেলাতে ঢুকেই সোজা কালুকে নিয়ে পুতুল নাচের কাউন্টারে চলে যায়। লুঙ্গির মোচড়া থেকে কচকচা ২০ টাকার ২টি নোট বের করে টিকিট কাটে। লাইনে দাঁড়িয়ে পুতুল নাচের পর্দা ঘেরা তাবুতে প্রবেশ করে তারা। কিছু সময় পরই শুরু হয় ঝুমুর ঝুমুর পুতুল নাচ। মঞ্চের পাশে একটি কাঠের পুতুল দাঁড়িয়ে। কাঠের পুতুলের দিকে তাকিয়ে অধির অপেক্ষায় আছে রজব। কখন সে কাঠের নৃত্য দেখবে! কিছু সময় পর শুরু হয়ে গেল নাচের শো! 'তুমি দিও নাকো --- বাত্তি নিভাইয়া...' গান বাজছে আর তালে তালে মঞ্চে উঠে আসলো বিশাল আকৃতির একটি পুতুল! পাশ থেকে কালু বলে উঠলো কাকু গো, এডাতো পুতুল না এ দেহি ডাঙ্গর মাইয়া! গানের সময় যত গড়ায় মেয়েটি ততই যেন নিজের দেহ থেকে পোশাক কমিয়ে ফেলছে। একটু পরে জীবন্ত ১৬ বছরের পুতুলটি নিজের ওড়না ছুড়ে মারলো দর্শকদের দিকে। ওড়না এসে পড়লো রজবের নাকের উপর! রজব বললো কালুরে নদী সাঁতরাইয়া কি দেখতে আইসলাম আর কি দেখতাছি! এই ডাঙ্গর ডাঙ্গর মাইয়ারা আবার পুতুল হইলো ক্যাবা কইরা? রজব-কালু কথা বলতে বলতে গান শেষ হলো। এবার শুরু ২য় পুতুল নাচের দৃশ্য। এবারের পুতুলটা আরও বড়! ঠোঁটে লাল লিপিস্টিক, পরনে লেহেঙ্গা। নিচের গুহা থেকে ধীরে ধীরে মঞ্চে উঠলো আর একটি শিশ বাজিয়ে বলে উঠলো 'আমার বুকের ভেতর লিখে দিলাম যার নামরে, সে আমার পেয়ার লালরে...' সাথে সাথেই একদল যুবক শিস দেয়া শুরু করলো। কালুও ঐ যুবক দলের সাথে নাচতে শুরু করলো। ষাটোর্ধ্ব রজব আলী কোন রকম রজবের হাত ধরে রাখলো! আর বললো কালুরে তোগো যুগের পুতুল গুলান যে এত বড় হইয়া গেছে তা জানলেতো এই মেলাতেই ঢুকতামনারে! আমাগো দেশীয় সংস্কৃতিতে কি গজব ঢুকলো নাকিরে! ঝুমুর ঝুমুর পুতুল নাচের নামে দেহি ঝুমুর ঝুমুর মাইয়া নাচন চলছে। চলরে কালু মান ইজ্জত পান্সার হওনের আগে পথ ধরি।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৬০২৬৭
পুরোন সংখ্যা