চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১১ অক্টোবর ২০১৬। ২৬ আশ্বিন ১৪২৩। ৯ মহরম ১৪৩৮
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৫-সূরা ফুরকান


৭৭ আয়াত, ৬ রুকু, 'মক্কী'


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৭৫। তাহাদিগকে প্রতিদান দেওয়া হইবে জান্নাতের সুউচ্চ কক্ষে যেহেতু তাহারা ছিল ধৈর্যশীল, তাহাদিগতে সেথায় অভ্যর্থনা করা হইবে অভিবাদন ও সালাম সহকারে।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


মাত্রাধিক নম্রতার অর্থই হল কর্কশতা।


-জাপানি প্রবাদ।


 


 


মানুষ যে সমস্ত পাপ করে আল্লাহতায়ালা তার কতকগুলি মাপ করে থাকেন, কিন্তু যে ব্যক্তি মাতা-পিতার অবাধ্যতাপূর্ণ আচরণ করে, তার পাপ কখনো ক্ষমা করেন না।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
শারদীয় দুগোর্ৎসব
তৃপ্তি সাহা
১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বাঙালির জীবনযাত্রা আবর্তিত হয় ছয়টি ঋতুকে ঘিরে। আর ঋতুর কথা যদি বলি তবে শরৎকাল নিঃসন্দেহে সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বদেহী সুন্দর ও কল্যাণময় একটি ঋতু। এটা তো সত্যি এই বাংলায় প্রত্যেকটি ঋতুর আছে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য, আলাদা আলাদা মোহনীয় সৌন্দর্য। আর সব ঋতুর কিছু সুবিধা যেমন আছে তেমনি অসুবিধাও আছে। ধরা যাক, বাঙালির কথিত ঋতুরাজ বসন্তের কথা। রবীন্দ্রনাথ গেয়েছেন_



'বসন্তে কি শুধু ফোটা ফুলের মেলা রে।



দেখিস নে কি শুকনো পাতা ঝরা ফুলের খেলা রে।'



এছাড়া গ্রীষ্মে বৃষ্টিহীনতা, অতি তাপদাহ, বর্ষায় অতি বর্ষণে বন্যা, শীতে শুষ্কতা। কিন্তু শরৎ প্রকৃতিকে উজাড় করে দিয়ে অপরূপ সাজে সাজিয়ে তোলে চারপাশ চারদিক। শরৎ কোমল, স্নিগ্ধ, মায়াময় এক ঋতু। বর্ষার শেষে চারিদিক স্বপ্নের মত সবুজ থাকে। গাছগুলোকে দেখে মনে হয় ভরা যৌবনা। সজীব পত্র-পল্লবে, ফুলে-ফলে পরিপূর্ণ এক ঋতু। সূর্য উঠে সোনার বরণ রূপ নিয়ে। সোনা ঝরা স্নিগ্ধ রোদ ঝরে পরে মাঠের ফসলের ওপর আর উঠোনে। ঝির-ঝির ঠা-া বাতাসে দোল খায় ধানের শীষ, মাঠের ফসল। কৃষকের মন নেচে উঠে নিজের অজান্তে। স্বচ্ছ পরিষ্কার স্বপ্নালু নীল আকাশে তুলোর মত মেঘেরা ঘুরে বেড়ায় মনের আনন্দে। ছেলেরা মেয়েরা রং-বেরংয়ের ঘুড়ি ছেড়ে দেয় আকাশের বুকে। রাতের আকাশে উজ্জ্বল তারার মেলা। আর পূর্ণিমার রাতে এত বড় মায়াবী চাঁদ আকাশের বুকে দেখে মানব জীবন আরও একবার ধন্য হয়। নদী তীরে কাশফুলেরা হাতছানি দিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রকৃতিকে ডাক দেয়। গাছভরা শিউলি ফুলগুলো টুপটাপ করে গাছ থেকে ঝরে পড়ে শিশির ভেজা নরম ঘাসের উপর, আর নিকোন উঠানে। নৌকার পাল তুলে ভাটিয়ালি গান গেয়ে মাঝিরা এক ঘাট থেকে অন্য ঘাটে যায়। মনোমুগ্ধকর এই শরতের রূপের বর্ণনা রবীন্দ্রনাথ ছাড়া পূর্ণতা পায় না_



'আমরা বেঁধেছি কাশের গুচ্ছ, আমরা গেঁথেছি শেফালিমালা/নবীন ধানের মঞ্জুরী দিয়ে সাজিয়ে এনেছি ডালা/এসো গো শারদলক্ষ্মী, তোমার শুভ্র মেঘের রথে/এসো নির্মল নীলপথে/এসো ধৌত শ্যামল আলো-ঝলমল-বনগিরি পর্বতে/এসো মুকুট পরিয়া শ্বেতশতদল শীতল-শিশির-ঢালা।'



অথবা, 'শরতে আজ কোন্ অতিথি এলো প্রাণের দ্বারে/ আনন্দ গান গা রে হৃদয়, আনন্দগান গা রে/নীল আকাশে নীরব কথা শিশির-ভেজা ব্যাকুলতা/বেজে উঠুক আজি তোমার বীণার তারে তারে/শস্যক্ষেতের সোনার গানে যোগ দে রে আজ সমান তানে/ভাসিয়ে দে সুর ভরা নদীর অমল জলধারে।'



অথবা, 'শরৎ, তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি/ছড়িয়ে গেল ছাপিয়ে মোহন অঙ্গুলি/শরৎ, তোমার শিশির-ধোওয়া কুন্তলে/বনের-পথে-লুটিয়ে-পড়া অঞ্চলে/আজ প্রভাতের হৃদয় ওঠে চঞ্চলি।'



এ রকম শরতের রূপের বর্ণনা ত্রিশ/চলি্লশ খানা গান এক নিঃশ্বাসে বলা যায়।



এ রূপময় শরতেই শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়।



স্বভাবগত অচঞ্চল বাঙালি চঞ্চলমুখর হয়ে ওঠে। ঢাকিরা জেগে উঠে, কুমোরেরা জেগে উঠে। জেগে উঠে পাখিরা। বর্ষার তোড়ে লুকিয়ে থাকা পাখিগুলো বেরিয়ে এসে কিচিরমিচির ডাকে চারিদিক মুখরিত করে তোলে। কর্মব্যস্ততা বাড়ে সমাজের প্রত্যেক শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে। বাড়ির বৌ-ঝিরা আরও ব্যস্ত। নারিকেল আর গুড়ের নাড়ু, মোয়া, সন্দেশ তৈরির গন্ধে মোহিত হয় চারদিক।



প্রত্যেকটি কাশফুল জানান দেয় মা আসছেন, প্রতিটি ঝরা শিউলি ফুল জানান দেয় মা আসছেন, নতুন পত্র-পল্লব জানান দেয় মা আসছেন। শিশির বিন্দু জানান দেয় মা আসছেন। ঢাকি, ঢাক বাজিয়ে প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে মায়ের আগমনী বারতা ঘনীভূত করে। ম-প তৈরি আর প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু হয় জোরেশোরে। ঘরে ঘরে ধোয়া মোছা,পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, সাদা রংয়ের আল্পনা অাঁকার ধুম পড়ে যায়। শঙ্খধনি ও ঢাকের আওয়াজে মুখরিত দুর্গাপূজার আনন্দ আয়োজনে সকলের চাই বর্ণিল পোশাক। পূজা মানেই রঙের ছড়াছড়ি। বিশেষ করে তাতে লাল-সাদা না হলে যেন পূজাই মনে হয় না। সাদা শুভ্রতার প্রতীক আর লাল তেজ বা শক্তির প্রতীক। আদিকাল থেকে সাদা লালের মিশেল করে পূজার সাজ রচিত হয়েছে। জানালায় নতুন পর্দা, বিছানায় নতুন চাদর উঠে। ছোট বড় সবার জন্য চাই নতুন পোশাক, নতুন জুতো আর কারো করো জুয়েলারী। দোকানগুলোতে কেনাবেচার ধুম পড়ে যায়। দর্জিবাড়ি জমে উঠে। দোকানীদের মুখে হাসি ফোটে। পূজার ম-পে মৃৎশিল্পী, কারুশিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করে। আলোকসজ্জা করা হয় ম-পে। অলঙ্কৃত হয় প্রত্যেকটি স্থান।



ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ শুরু হয়। 'উৎসব' কথাটির অর্থ যাহা 'সুখ প্রসব করে'। সুখ ও আনন্দ তো বটেই, সেই সুখ যেন সবার কাছে পেঁৗছায়, সেজন্যে যেন উৎসব শব্দটির মধ্যে 'সব' শব্দটি রয়েছে। আর শরৎ মানেই বাঙালির স্বপ্ন প্রণোদিত হওয়ার, মন রঙে রঙে রাঙিয়ে উৎসবে ভেসে যাওয়ার ঋতু। পূজো একটি বিশেষ ধর্মের কিন্তু উৎসব কোন বিশেষ শ্রেণি বা ধর্মের মধ্যে আবদ্ধ থাকে না। উৎসব হয়ে উঠে প্রতিটি মানুষের সকলের তরে। বাঙালি-উৎসব প্রিয় জাতি।



প্রতীক একটি পরিচয়জ্ঞাপক চিহ্ন। এর মূল গ্রীক শব্দের। এর অর্থ যার দ্বারা কোনো বস্তুকে জানা অথবা অনুমান করা সহজতর হয়। একটি প্রতীক কিছু বিশিষ্ট সমধর্মী গুণাবলি অথবা বস্তু অথবা তার প্রতিভূ হিসেবে মনে উদ্ভাসিত হয়। প্রতীক একটি চিহ্ন, যার দ্বারা অদৃশ্য কোনো দৃশ্য অথবা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুকে প্রকাশ করা হয। বহিঃজগতের সাথে আমাদের যোগাযোগের ভিত্তি প্রতীক। 'সব' ভাষারই শেষ আশ্রয় স্থল 'প্রতীক' এবং ধর্মীয় ভাষার ক্ষেত্রে তা একটি বিশেষ মাত্রা পায়। কারণ ধর্ম যেন সত্যকে প্রকাশ করতে চায়, যার গভীরতাকে অক্ষর স্পর্শর্ করতে পারে না। কোনো দেবমূর্তি বা ঈশ্বরের প্রতীক আমাদের সেই উদ্দেশ্যই সিদ্ধ করে যাতে আমরা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য যোগ্য কোনো বস্তুর মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে আমাদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে পারি। ভাবের সহজ আদান প্রদানের জন্য প্রতীক ব্যবহার করা হয়।



অন্যদিকে পূজা শব্দের অর্থ প্রশংসা বা শ্রদ্ধা জানানো। আর তাইতো ফুল, দুর্বা, তুলসিপাতা, বেলপাতা, চন্দন, মধু, আতপচাল, ধূপ, দ্বীপ প্রভৃতি উপকরণ দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে পূজার আয়োজন করা হয়। কিন্তু দুর্গাপূজার উপকরণ আরও বিস্তৃত আরও তাৎপর্যপূর্ণ। দুর্গাপূজা কোনো একটি ঘরের পূজা নয়। সমাজের প্রত্যেকটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে একত্রিত করার উৎকর্ষতা এই পূজার মাহাত্ম্য। তাই জ্ঞানচর্চাকারী ব্রাহ্মণ, দেশ শাসনকারী ক্ষত্রিয়, ব্যবসার কাজে নিয়োজিত বৈশ্য আর খেটে খাওয়া মানুষ শুদ্র_সকলেরই সমান অংশদারিত্ব এই পূজিতে। কথিত আছে যে, দেবতারা যখন বরপ্রাপ্ত অপ্রতিরোধ্য অসুরকুল দ্বারা স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়েছিল, তখন অসুরকুলকে বধ করার উদ্দেশ্যে দেবী দুর্গার আবির্ভাব। আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন বলে তাঁর এক নাম মহিষমর্দিনী। মহাবিশ্বের যাবতীয় দুঃখ কষ্ট বিনাশ করেন বলে তাঁর আরেক নাম দুর্গতিনাশিনী দেবী।



দেবী দুর্গা দশভুজা। অর্থাৎ দশটি হাত। আবার তিনটি চোখ। তাই তাঁকে ত্রিনয়না বলা হয়। তাঁর বাম চোখ চন্দ্র, ডান চোখ সূর্য আর কপালের চোখটি জ্ঞান বা অগি্নকে নির্দেশ করে। দশ হাতে দশটি অস্ত্র রয়েছে। শক্তিধর প্রাণী সিংহ তাঁর বাহন।



শরতের আকাশ, শরতের প্রকৃতি, শুভ্র কাশফুল, শিউলি ফুল, শিশির ভেজা সবুজ ঘাস, ঢাকির ঢাক আর শঙ্খ বাজিয়ে চ-ীপাঠের মাধ্যমে মায়ের আগমনী সঙ্গীত রচিত হয়। যাকে মহালয়া বলে। বাঙালির মন অপার্থিব আনন্দে ভরে যায়। চারিদিকে আনন্দসঙ্গীত ধ্বনিত হয়।



মাতলো যে ভূবন বাজলো তোমার আলোর বেনু।



আজ প্রভাতে সে সুর শুনে



খুলে দিনু মন



বাজলো তোমার আলোর বেনু ...



মা আসেন অতসী ফুলের আলো ঝলমল সোনার রং নিয়ে।



পাঁচ দিনব্যপী ধাপে ধাপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হয়।



প্রথম দিন : ষষ্ঠী পূজা : বোধন অর্থ জাগরণ। আশ্বিনের শুক্লা ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় বেলগাছ তলায় দেবীর বোধন অনুষ্ঠিত হয়। এর পরই আমন্ত্রণ বা আবাহন। বোধনে দেবী জাগরিত হয়, আবাহনে দেবীকে নিয়ে আসা হয়। তারপর অধিবাস। অধিবাস মানে বিশেষ বাস বা অবস্থান করা। বাইশটি উপকরণ দিয়ে অধিবাস সম্পন্ন হয়। তৈলহরিদ্রা, গন্ধ, মহী, শিলা, ধান, দুর্বা, ফুল, ফল, দধি, ঘি, সিঁদুর, শঙ্খ, কাজল, গোরচনা, স্বর্ণ, রুপা, তামা, চামর, দর্পণ, প্রদীপ, বরাহদন্ত ও খড়গ_এই বাইশটি উপকরণ 'প্রশস্তিপাত্রে' সাজানো থাকে। একে বরণডালাও বলা হয়ে থাকে।



দ্বিতীয় দিন : মহা সপ্তমী_নবপত্রিকা অর্থাৎ নব মানে নয় আর পত্রিকা হল পাতা যুক্ত গাছ বা গাছের ডাল। শরতে সবুজের প্রাচুর্য 'নবপত্রিকা' পক্ষে ভারি অনুকূল। এই নয়টি গাছ দিয়ে সপ্তমী পূজার সূচনা। প্রথমটি 'রম্ভা' অর্থাৎ কলাগাছ। এর সঙ্গে আরও আটটি গাছ। সাদা অপরাজিতা লতা জড়ায়ে শাড়ি পরিয়ে কলাগাছের মাঝের ডগাটির মাথায় সিঁদুর দিয়ে দেবীর ডান দিকে গণেশের পাশে রাখা হয়, নাম কলাবউ। দেবীর এক এক রূপের প্রকাশ এক এক নাম। দেবীর ব্রহ্মাণী রুপটি কলাগাছে অধিষ্ঠিত। কচু গাছে 'কলিকা' হলুদ গাছে 'দুর্গা', জয়ন্তী গাছে 'কার্তিক', বেল গাছে 'শিবা', ডালিম গাছে 'রক্তদন্দকা'। অশোক গাছে 'শোকরহিতা' মানগাছে 'চ-িকা', ধানগাছে 'লক্ষ্মী'। প্রত্যেকটি গাছের ভিন্ন ভিন্ন পূজা হয়। অবশেষে একসঙ্গে নবপত্রিকার পূজা 'নবপত্রিকাবাসিন্যৈ দুর্গায়ে নমঃ' সম্পন্ন হয়। এটি দুর্গাপূজার অসাধারণ অঙ্গ। ঘটে, প্রতিমায়, নবপত্রিকায় দেবীর আবির্ভাব হয়। মৃন্ময়ী প্রতিমা চিন্ময়ী রুপে আবির্ভূত হলেন।



তৃতীয় দিন : অষ্টমী পূজা, বিশেষ ভাবগাম্ভীর্য ও মাহাত্ম্যপূর্ণ দিন। অষ্টমী তিথিতে মহাস্নান, কুমারীপূজা, পুষ্পাঞ্জলি, সন্ধিপূজা এবং নারায়ণ সেবা। কুমারী পূজা সম্পর্কে বিভিন্ন মতভেদ আছে । তবে এক থেকে ষোল বছরের একটি কুমারী কন্যাকে মাতৃরুপে পূজা করা হয়। রাণী রাসমণি প্রতিবছর কুমারী পূজা করতেন। বেলুড় মঠে দুর্গাপূজার অন্যতম আকর্ষণ হলো কুমারী পূজা। ১৯০১ সালে ১৯ অক্টোবর স্বামী বিবেকানন্দ প্রথম কুমারী পূজা করেন। নারীর প্রতি শ্রদ্ধা জাগ্রত করাই এর অন্যতম কারণ।



সন্ধিপূজা : অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিতে দেবীর যে বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয় তাকেই সন্ধি পূজা বলা হয়। অষ্টমীর শেষ চবি্বশ মিনিট আর নবমীর প্রথম চবি্বশ মিনিট মোট আটচলি্লশ মিনিটের মধ্যে এই পূজা সম্পন্ন করতে হয়। সন্ধি পূজায় ১০৮ টি মাটির প্রদীপ প্রজ্বলন করে দেবীর পূজা করা হয়। এ সময় দেবী দুর্গাকে বিভিন্ন ধরনের ভোগ নিবেদন করা হয়। প্রচুর ভক্তের সমাগম হয় এদিন।



নবমী পূজা : নবমী তিথিতে নবমীবিহিত পূজা করা হয়। আরতি প্রতিযোগিতা নবমীর অন্যতম আকর্ষণ।



দশমী পূজা : দশমী তিথিতে পূজাবিধি অনুসারে দেবী দুর্গার দশমবিহিত পূজা করা হয়। এই দিনে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন। দেবীকে সিঁদুর পরিয়ে মিষ্টি মুখ করা হয়। নারীরা একে অন্যকে সিঁদুর পরিয়ে মিষ্টি মুখ করে এক অপরকে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করে। বিজয়া দশমী নামে এটি পরিচিত। দুর্গাপ্রতিমা নদী, পুকুর, প্রভৃতি জলাশয়ে বিসর্জনের মাধ্যমে শারদীয় দুর্গা উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।



দেবী দুর্গা যেন আমাদের ঘরের মেয়ে। তিনি শ্বশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে আসেন। চারদিন থাকার পর তাঁর ছেলেমেয়ে কার্তিক গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতীকে নিয়ে কৈলাস ভবনে যাত্রা করেন।



মহিষাসুরকে বধ করে অর্থাৎ অসুভ শক্তিকে পরাজিত করে বিজয়া দশমীর মাধ্যমে বিজয় পালিত হয়। অন্যায় অবিচারকে প্রতিহত করা হয় এই পূজার মাধ্যমে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকদের মধ্যে সৃজনশীলতা তৈরি করে। এই পূজোকে ঘিরে কত নতুন গান, কত নতুন নাচ, কত নতুন সাহিত্য রচিত হয় তা বলা বাহুল্য। মৃৎশিল্পী, অলঙ্কার শিল্পী, আল্পনা শিল্পী, ম-প তৈরিকরণ শিল্পী, শোলা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন শিল্পকর্ম একদিকে যেমন নান্দনিক সৃজনশীলতা চোখে পড়ার মত তেমনি জীবিকা নির্বাহের দারুণ সুযোগ সৃষ্টি হয়। পুজারীদের, রাঁধুনীদের, মিষ্টিবিক্রেতাদের, ফেরিওয়ালাদের সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যে কর্মযজ্ঞ তৈরি হয়। তাই পূজার আরেক নাম সৃজনশীলতা। যে সৃজনশীলতার মাধ্যমে সমাজের সুবিধার জন্য সৃষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে একেই মঞ্চে একত্রিত করে, পৃথিবীর সকল মানুষ, সকল প্রাণীর জন্য মঙ্গল কামনা করা হয়। পৃথিবীতে সৃষ্ট প্রত্যেকটি প্রাণী প্রত্যেকটি উদ্ভিদের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। ধুপ, চন্দন ফুল, বেলপাতা, তুলসি পাতা, দুর্বাঘাসের মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে মমত্ববোধ, প্রেম, ভালোবাসা জাগ্রত করাই পূজার অন্যতম উদ্দেশ্য।



দেবী দুর্গা আমাদের সমাজের নারীর প্রতিচ্ছবি। নারী শুধু মমতাময়ী মা, প্রেমময়ী স্ত্রী, স্নেহময়ী কন্যা_তা নয়, নারীর ভিতরের যে শক্তি, যে তেজ, যে ক্ষমতা তারই বহিঃপ্রকাশ দেবী দুর্গার মধ্যে প্রকাশিত। নারী শুধু চুল বাধে আর রান্না করে না। নারী যে কোন অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে, অবিচার-অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। তাই আজকের নারী যেমন সন্তান ধারণ, লালন পালনে পারঙ্গম তেমনি চুলবাঁধাতে, রান্নাতেও পারঙ্গম। নারী স্থান আজ শুধু গৃহে নয়, যেমন আছে যুদ্ধ ক্ষেত্রে, তেমনি খেলার মাঠে, আকাশে, জলে সবজাগাতেই নারী তার পারঙ্গমতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। তাই দেবী দুর্গা আমাদের আরাধ্য যুগ যুগে।



 



লেখক : গ্রন্থাগারিক, চাঁদপুর সরকারি কলেজ।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৭৬২২৮
পুরোন সংখ্যা