চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১১ অক্টোবর ২০১৬। ২৬ আশ্বিন ১৪২৩। ৯ মহরম ১৪৩৮
ckdf

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৫-সূরা ফুরকান


৭৭ আয়াত, ৬ রুকু, 'মক্কী'


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৭৫। তাহাদিগকে প্রতিদান দেওয়া হইবে জান্নাতের সুউচ্চ কক্ষে যেহেতু তাহারা ছিল ধৈর্যশীল, তাহাদিগতে সেথায় অভ্যর্থনা করা হইবে অভিবাদন ও সালাম সহকারে।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


মাত্রাধিক নম্রতার অর্থই হল কর্কশতা।


-জাপানি প্রবাদ।


 


 


মানুষ যে সমস্ত পাপ করে আল্লাহতায়ালা তার কতকগুলি মাপ করে থাকেন, কিন্তু যে ব্যক্তি মাতা-পিতার অবাধ্যতাপূর্ণ আচরণ করে, তার পাপ কখনো ক্ষমা করেন না।


 


 


 


শারদোৎসবের সমকালীনতা
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
১১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

সুর-অসুরের দ্বন্দ্ব পৃথিবীর প্রাচীন দ্বৈরথ। এই দ্বৈরথে মানুষ পরিণামভোগী মাত্র। আধুনিক পৃথিবীতে মানুষের মাঝেই সুরাসুর। কিছু মানুষ সদ্্গুণরাজির মাধ্যমে সুরের মতো আলোকিত করে পৃথিবী। কিছু মানুষ মনে ও মননে অসুর হয়ে দুনিয়া কাঁপায়। নষ্ট করে মানবতার অনুপম ফল্গুধারা। শারদোৎসব এই সুরের সুরক্ষা আর অসুর বিনাশের উৎসব। মানুষের মনের মাঝে বিরাজিত সুরকে সুরক্ষা দিয়ে তাকে সর্বজনে প্রতিষ্ঠা করা এবং বিশ্ব মানবতাকে শক্ত ভিত প্রদানের মাধ্যমে সম্মিলনের চাতাল তৈরির অনন্য প্রয়াসই শারদাবাহনের লক্ষ্য। শারদাবাহনের মাধ্যমে মনের মাঝে তা-ব নৃত্যকারী অসুরকে দমন করার শক্তি অর্জিত হয়, সাহস সঞ্চারিত হয়।

ধরিত্রী আমাদের মা-সদৃশ। দেবী দুর্গাও মা। তিনি রক্ষাকারী, পালনকারী। ধর্ম চর্চা মানুষের মানবিক বোধ হতে উৎসারিত। তাই দেবী দুর্গাকে মর্ত্যলোকের মেয়ের মতো করে ভাবা হয় যিনি শারদীয়া হয়ে আসেন পিতৃগৃহে। অর্থাৎ তিনি আমাদের আপনজন। তিনি মানুষের পরিত্রাতা। মর্ত্যলোকের শান্তি প্রতিষ্ঠাতা। এর মধ্যেই আমরা লক্ষ্য করি নারী শক্তির জাগরণ। তাঁর সাথে যাঁরা আসেন মর্ত্যে তাঁদের একজন বীণাপাণি এবং আরেকজন কমলা। দুজনেই দুটো দরকারী বিষয়ের দেবী। একজন ভাগ্যের, ধনের আর অন্যজন বিদ্যার, বাকের। অর্থাৎ নারী শক্তির উদ্বোধন না হলে মর্ত্যের শান্তি বিরাজিত হবে না। তাই নারী জাগরণ জরুরি। দুর্গার শক্তি কিংবা বীণাপাণি বা লক্ষ্মীর শক্তির মধ্য দিয়ে মর্ত্যলোকের নারীকে অবলা না ভাবার বীজমন্ত্র নিহিত আছে। মর্ত্যলোকে বিশেষতঃ এই উপমহাদেশে নারীরা যখন অবহেলিত ছিলো, যখন তাদের 'ঘর হইতে আঙিনা বিদেশ' ছিলো তখন এই দেবী শক্তির মহিমার মধ্যেই নারী শক্তির উদ্বোধনের আহ্বান বিরাজিত ছিলো। অহঙ্কারে অন্ধ অসুর অমরত্বের বর চেয়ে নারীকে তুচ্ছ করে। আর বরদাতা নারী শক্তির মাধ্যমেই অসুরের বিনাশ নিশ্চিত করে জগতের নারীকে অগ্রণী হওয়ার প্রেরণা দিয়েছেন। সামন্তবাদী বাঙালি সমাজে আদিকাল হতেই নারীকে পিছিয়ে রাখার এক কলাকৌশল সমাজপতিরা বজায় রেখেছিলো। সারাদিন অন্দরে বন্দী থেকে হেঁসেল ঠেলতে ঠেলতেই তাদের জীবন শেষ হয়ে যেতো। সূর্যের আলো তাদের চোখে ছিলো না, ছিলো না কোনো নিজস্ব মত ও রুচির কদর। সেই নিপীড়িত নারীকে সামন্তবাদী পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মুক্তির আলোকনে আনতেই বারে বারে দেবী দুর্গার বর্তমান সময়ে আগমন।

যে মা করিৎকর্মা, যে বধূ সকল সাংসারিক কাজ একা সামলায়, যে বোন একা একাই পরিবার সামলায় তাকে আমরা বলি দশভুজা যেনো। অর্থাৎ তার মাঝে দেবী দুর্গা ভর করেছেন। তার মধ্যে শক্তির উদ্বোধন হয়েছে। নারীকে দশভুজা বলা মানেই তাকে যেমন স্বীকৃতি দেয়া হলো তেমনি তার মুক্তির পথও প্রশস্ত হয়। শারদীয়ার আগমন তাই নারী শক্তির সম্মিলন এবং নারীকে তার মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করার উৎসব। এই নারী আমার মা, এই নারী আমার বোন, এই নারী আমার মেয়ে। নারী শক্তির যথাসম্মান প্রদানের উৎসব বলেই অষ্টমীতে আজও কুমারী পূজার আচার-শাস্ত্র বিধিমোতাবেক অনুষ্ঠিত হয়। অর্থাৎ এতেও আমরা বুঝে নিতে পারি, নারী যতো ক্ষুদ্র বা ছোটই হোক না কেনো, তার শক্তি অপার, তার সম্মান অতুল। আবার নিরঞ্জনের মাধ্যমে, শান্তির বারি গ্রহণের মাধ্যমে এই ধারণাই আমাদের মনে জাগ্রত হয়, অসুর বিনাশী রণরঙ্গিনী সেতো মা-ও বটে। তার আছে জাগতিক কর্ম। সুতরাং যতো দ্রুত সে স্বাভাবিক রূপে ফেরৎ আসবে ততো তার সন্তানের জন্যে মঙ্গল, ততো তাঁর পালিতদের পক্ষে উত্তম। তাই বিজয়ার মধ্য দিয়ে সূচিত নারী শক্তির বিজয়োৎসবকে নিরঞ্জনের মধ্য দিয় শান্তরূপে শক্তিকে প্রত্যাবর্তন করেই এগিয়ে যায় জগৎ সংসার।

মর্ত্যে শারদীয়ার যখন আবির্ভাব তখন নীল আকাশে সাদা মেঘের স্তব্ধবাক আল্পনায় জুড়িয়ে যায় চোখ। নদীর তীর ধরে শুভ্র কাশবন মনে সত্যিই উৎসবের মাদল-বাদ্য বাজিয়ে তোলে। ভোরের শিশিরস্নাত শিউলিঝরা দিনে শারদীয়ার উৎসব তাই মর্ত্যে অকাল নয় যথাকালেই আনন্দ নিয়ে আসে। শারদীয়া আসে সিংহ বাহিনী হয়ে। অর্থাৎ সিংহ হলো রাজশক্তির চিহ্ন। সিংহ অরণ্যের রাজা। নারী শক্তিকে জাগ্রত করে ক্ষমতায়ন করতে হলে রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা অনিবার্য। রাষ্ট্র যদি নারীর পাশে না দাঁড়ায় তবে নারী জাগরণ সম্ভব নয় কিছুতেই। দশভুজার দশ হাতে দশ অস্ত্র। অর্থাৎ তিনি সকলের সহযোগিতার মাধ্যমেই জগতে শক্তি প্রতিষ্ঠা করেন। তেমনি পশ্চাদপদ নারীকে এগিয়ে এনে সামাজিক উন্নয়ন ঘটাতে হলে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। নারী যেমন একদিকে রণরঙ্গিনী তেমনি অন্যদিকে শুভ্র কাশের মতোই কোমল, সাদা মেঘের মতোই অনিন্দ্য আর শিউলির মতোই সদা হাস্যময়ী। আজকের এই সমৃদ্ধ সময়ে দেবী দুর্গার আগমন তাই কেবল অসুর বিনাশের পুরাণ নয়, নারী শক্তির সামাজিক ক্ষমতায়নেরও আহ্বান বটে।

আজকের পাঠকসংখ্যা
১৯২৫২৩৬
পুরোন সংখ্যা