চাঁদপুর। শনিবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭। ১৫ আশ্বিন ১৪২৪। ৯ মহররম ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩০-সূরা রূপ 


৬০ আয়াত, ৬ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬। ইহা আল্লাহরই প্রতিশ্রুতি; আল্লাহ তাঁহার প্রতিশ্রুতি ব্যতিক্রম করেন না, কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না।


৭। উহারা পার্থিব জীবনের বাহ্য দিক সম্বন্ধে অবগত, আর আখিরাত সম্বন্ধে উহারা গাফিল।     


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


প্রত্যেক মানুষের ভিতরেই একটা শিল্পীমন ঘুমিয়ে আছে।


                                 -বেকন।


দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞনচর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


 

অসুর নিধনে দুর্গা
পীযূষ কান্তি রায় চৌধুরী
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আমাদের সনাতন ধর্মে দুর্গা পূজা অসুর বধের পূজা, আমাদের মধ্যেও নানা প্রকার অসুরত্ব আছে। আমরা দুর্গা পূজা করি সেই অসুর বিনাশের লক্ষ্যে। নিজের মধ্যে বিরাজিত অসুরত্বের যদি নিধন না হয় তবে ব্যর্থ হয়ে যাবে দুর্গা পূজার ব্যাপক আয়োজন ও অনুষ্ঠানমালা। সব হয়ে উঠবে অন্তঃসারশূন্য। সৃষ্টির আদি মহাশক্তি দুর্গা দেহ দুর্গেরও মূল শক্তি। মানুষের দেহও একটি দুর্গ বিশেষ। ষড়রিপু দেহের মূল যে প্রাণশক্তি আছে সেই শক্তিকে আক্রমণ করছে। শুধু দেহ ভাগে নয় সমগ্র বিশ্বব্রহ্মা-ে প্রাণই শ্রেষ্ঠ, প্রাণ ব্রহ্মাসনাতন। প্রাণ তার স্বরূপে বিকশিত হয় সাধনায়। প্রাণশক্তির উদ্বোধনে, উপলব্ধিতে সাধক হয় মহাশক্তিধর। দুর্গাপূজায়ও একই উদ্দেশ্য মহাশক্তির আত্মসাক্ষাৎকার।



মানুষের মধ্যে সুরবৃত্তি ও অসুরবৃত্তি আছে। সুরবৃত্তির প্রতীক শিব আর অসুর বৃত্তির প্রতীক মহিষাসুর। পার্থিব ভোগ সম্পাদনের প্রতি উগ্রাসক্ত মানুষই মহিষ। আমরা মহিষ থাকতে বা হতে চাই না। আমরা শিবজ্ঞানী হতে চাই। তপস্যা বা সাধনা ব্যতীত কোনো মহৎ কার্য সাধিত হয় না। আসুরিক শক্তিকে প্রতিহত করতে মহাসাধনার দরকার। আমাদের পার্থিব জীবনে অসুরের সংখ্যাটাই বেশি। তারা নানা কৌশলে এবং কূটবুদ্ধিতে অনেক সময় আত্মগোপনে থাকে, মানুষের চক্ষুর আড়ালে চলে যায়। আবার সময় ও সুযোগ বুঝে সম্মুখে চলে এসে প্রাণনাশের কর্মকা-ে মেতে উঠে। তখন আমরা বুঝতে পারি অসুরকুলের সাথে মানুষ কুলের যুদ্ধ হচ্ছে। যেমনটি দেবকুলে হয়েছিল অসুর আর দেবতাদের যুদ্ধ। দেবতার মহাশক্তির আরাধনা করে দেবী দুর্গার দশহস্তে দশ অস্ত্র শোভিত করে অসুর নিধন করেছেন। কিন্তু অসুরের যে রক্ত পৃথিবীতে এসেছিল সেই রক্ত বীজ থেকে আবার অসুর সৃষ্টি হতে লাগলো। সুতরাং পৃথিবীতে অসুরের যেন ধ্বংস নেই। যুগে যুগে, কালে কালে, প্রতিদিন, প্রতি ঘণ্টায়, সেকেন্ডে অসুর জন্মগ্রহণ করেছে। আসুরিক ভাব নিয়ে তারা ল-ভ- করছে, নতুন নতুন বিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করছে। আজকে আমরা দেখি পারমাণবিক বোমা, অস্ত্র তৈরি, ব্যবহার বন্ধ করতে বিশ্ব সোচ্চার হয়েছে। অর্থাৎ অশান্তি থেকে সবাই পরিত্রাণ চায়। সেই আলোকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শরৎকালে ও বসন্তকালে দেবীদুর্গাকে ধরাধামে চিন্ময়ী রূপ থেকে মৃন্ময়ী রূপে আহ্বান করে নানা সাজে সাজিয়ে দেবী দুর্গা দুর্গতনাশিনী মাকে অর্ঘ্য নিবেদন করে বলছে-মাগো তুমি অসুরকে বিনাশ কর, শান্তি আনয়ন কর, তুমি শক্তিরূপিনী, শান্তিদায়িনী, বর্তমানে আমাদের দেশে তথা বিশ্বে সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ, ধর্ষণ, হত্যা, অপহরণের মত যে জঘন্য কাজগুলি হচ্ছে তা প্রতিহত করতে হবে; সত্যের, ন্যায়ের পথে লড়াই করে বিশ্ব শান্তি আনতে হবে। আমাদের দুর্গা পূজা সেই কল্পনা ও বিশ্বাস। এবারের দুর্গা পূজা সনাতনীদের একটি তাৎপর্য পূর্ণ উৎসব।



কঠোপনিষদে যম নচিকেতাকে বলেছিলেন, 'উত্তিষ্ঠিত জাগ্রত প্রাপ্য বরান নিবোধত' অর্থাৎ উঠ, জাগ, শ্রেষ্ঠকে লাভ করে প্রবৃদ্ধি হও। শ্রেষ্ঠকে লাভ করার জন্য যাবতীয় পূজা এবং প্রতিমা গঠন। দুর্গা পূজারও একই উদ্দেশ্য-মহাশক্তির আত্মসাক্ষাৎকার। সাধক যে কুলিনী শক্তিকে মূলধারে জাগ্রত করে ক্রমে ক্রমে চক্রে চক্রে তুলে কুঠস্থে প্রবেশ করিয়েছেন তা তখন মহাশক্তিতে পরিণত হয়, তাকে দুর্গতিনাশিনী দুর্গা বলা হয়। তার সহায়ে সাধক তখন মহিষাসুরকে বধ করতে পারেন। সেই মহাশক্তিই মহিষাসুর মর্দিনী শক্তি।



'এসো শান্তির পথে



এসো মঙ্গলের পথে'



 



লেখক পরিচিতি : পীযুষ কান্তি রায় চৌধুরী, কবি ও লেখক।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৯৩৭৯
পুরোন সংখ্যা