চাঁদপুর। সোমবার ১৭ জুলাই ২০১৭। ২ শ্রাবণ ১৪২৪। ২২ শাওয়াল ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৮৬। তুমি আশা কর নাই যে, তোমার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ হইবে। ইহা তো কেবল তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ। সুতরাং তুমি কখনও কাফিরদের সহায় হইও না। ’


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


সৌভাগ্যবান হওয়ার চেয়ে জ্ঞানী হওয়া ভালো।


                        -ডাব্লিউ জি বেনহাম।


যাহাদের হৃদয় পবিত্র, দয়া ও সত্যে পূর্ণ, তাহারাই অমৃতলোক বেহেশতের অধিবাসী হবেন।


 

অনেক বৃত্তির ছড়াছড়ি, কিন্তু
১৭ জুলাই, ২০১৭ ২০:০৯:১৮
প্রিন্টঅ-অ+
শিক্ষা ক্ষেত্রে এখন সরকারি বৃত্তির পাশাপাশি অনেক বৃত্তির ছড়াছড়ি। অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখন তাদের সন্তানদের পক্ষেই ভালোভাবে পড়ালেখা করা সম্ভব, যাদের ব্যাপক অর্থ-সামর্থ্য আছে। মাসিক বেতন, পরীক্ষার ফিসহ অন্যান্য সকল ফি প্রদানের বাইরে যারা কোচিং ফি দিয়ে বছরের অন্তত নয় মাস বিদ্যালয়ে তাদের সন্তানদের কোচিং ক্লাস করাতে সক্ষম, সকালে কিংবা সন্ধ্যায় অর্থাৎ বিদ্যালয়ের সময়ের আগে বা পরে বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে উচ্চ ফিতে ক্লাস করাতে সক্ষম, বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বিভিন্ন শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়াতে সক্ষম, হাউজ টিউটর দিয়ে পড়াতে সক্ষম-এখন তাদের সন্তানরাই বলা যায় একচেটিয়া বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাচ্ছে। বার্ষিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় এরাই ১ থেকে ১০ অর্থাৎ মেধা তালিকায় স্থান করে নিচ্ছে। পরীক্ষায় এই কৃতিত্বের ওপর ভিত্তি করে এরা যেমন সরকারি বৃত্তি পাচ্ছে, তেমনি অসংখ্য বেসরকারি ব্যক্তি ও সংস্থা প্রদত্ত বৃত্তিও পাচ্ছে। 

বলতে দ্বিধা নেই, শিক্ষা এখন শিক্ষার্থীদের জিপিএ-৫ প্রাপ্তির লক্ষ্যে এমন এক দামী পণ্য, যা সন্তানদের জন্যে কেনার সামর্থ্য দরিদ্র মানুষ মাত্রেরই নেই। অন্তত ডিঙ্গি নৌকার মাঝি বা খেয়াপারের তরণীর মাঝি, রিক্সাচালক, ভ্যানচালক, বিভিন্ন প্রকার শ্রমিক, দিনমজুরসহ সর্বপ্রকার অতি দরিদ্র মানুষদের সামর্থ্যরে আওতায় নেই। তাহলে তাদের সন্তানরা কি লেখাপড়া করে না?-হ্যাঁ করে। তবে তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোচিং করতে পারে না, শিক্ষকদের নিকট প্রাইভেট পড়তে পারে না, কোচিং সেন্টারে যেতে পারে না। ওরা বরং টিউশনি করে টাকা কামিয়ে নিজের পড়ালেখার খরচ চালায়, এমনকি পিতামাতার সংসারে সহযোগিতাও করে। এরা ধার-দেনাসহ বহু কষ্টে অর্থ জোগাড় করে পরীক্ষার ফি প্রদান করে পরীক্ষায় অংশ নেয়, আর জিপিএ-৫ পায় না বললেই চলে। ২-১ জন বিস্ময়করভাবে জিপিএ-৫ পেয়ে চমক সৃষ্টি করলেও বাকিরা গড়পরতা জিপিএ-৩ বা তারচে’ কম পেয়ে পরীক্ষা পাসের সামর্থ্য দেখায়। কিন্তু দারিদ্র্যের সাথে সংগ্রাম করে তাদের এই পাসকে কেউই কৃতিত্ব বলে স্বীকৃতি দিতে চায় না। এই পরীক্ষা পাসের পথে এই হতদরিদ্রদের মধ্যে কেউ কেউ শিক্ষালয়ের পাওনা বা পরীক্ষার ফি দিতে না পেরে শিক্ষক-করণিক কর্তৃক লাঞ্ছিত হয়। এই লাঞ্ছনা সইতে না পেরে কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় কিংবা শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়ে। এদের পাশে বৃত্তি প্রদানকারী কোনো সরকারি-বেসরকারি সংস্থাকে সাধারণত খুব বেশি দেখা যায় না। 

গরীব অথচ মেধাবী এই খাতে আজকাল শিক্ষার্থী তেমন খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে দারিদ্র্যের সাথে সংগ্রাম করে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া অসংখ্য সাধারণ শিক্ষার্থী খুঁজে পাওয়া যায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান বা শিক্ষকরা এমন শিক্ষার্থীদের সন্ধান জানেন। কিন্তু বৃত্তি প্রদানকারী সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এদেরকে খুঁজতে চায় না। এর মধ্যে ব্যতিক্রম হিসেবে চাঁদপুরের বর্তমান জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডলকে পাওয়া গেছে, যিনি হাতে গোণা ক’জন দরিদ্র শিক্ষার্থীকে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের মাধ্যমে খুঁজে বের করে বৃত্তি প্রদান করছেন। এমনটি চাঁদপুর সেন্ট্রাল 

 

রোটারী ক্লাবও করছে। আরো কেউ যে করছে না এমনটি নয়, তবে তা আমাদের জানার বাইরে। বলা যায়, গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেয়ার মতো কিংবা তেলে মাথায় তেল দেয়ার মতো অধিকাংশ বৃত্তি প্রদানকারী সংস্থাই শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করছে। তাদেরকে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও চাঁদপুর সেন্ট্রাল রোটারী ক্লাবের মতো ব্যতিক্রম কিছু করার বিষয়টি ভাবা দরকার। মেধাবৃত্তি প্রদানে তাদের চলমান উদ্যোগের পাশাপাশি দারিদ্র্যের সাথে সংগ্রামরত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানের বিষয়টি তারা সীমিত আকারেও প্রবর্তন করতে পারে কি না সেটির সম্ভাব্যতা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে যাচাই করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

 

এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৩৫৬৪০
পুরোন সংখ্যা