চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ৭ ডিসেম্বর ২০১৭। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯
kzai
muslim-boys

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৩-সূরা আহ্যাব

৭৩ আয়াত, ৯ রুকু, মাদানী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১০। যখন উহারা তোমাদের বিরুদ্ধে সমাগত হইয়াছিল তোমাদের উপরের দিক ও নিচের দিক হইতে,  তোমাদের চক্ষু বিস্ফারিত হইয়াছিল, তোমাদের প্রাণ হইয়া পড়িয়াছিল কণ্ঠাগত এবং তোমরা আল্লাহ সম্বন্ধে নানাবিধ ধারণা পোষণ করিতেছিলে;

১১। তখন মু'মিনগণ পরীক্ষিত হইয়াছিল এবং তাহারা ভীষণভাবে প্রকম্পিত হইয়াছিল।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


চা খাদ্য নহে, ইহা মাদক উত্তেজক গুণ বিশিষ্ট।                


-ডাঃ জন ফিসার


কবর এবং গোসলখানা ব্যতীত সমগ্র দুনিয়াই নামাজের স্থান।


ফটো গ্যালারি
কিশোরী শামিমার বিদ্রোহ এবং হাইমচরের সাংবাদিকদের মহতী উদ্যোগ
০৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৮:৩৪:৫৭
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স  ঘোষণা করে বহুবিধ কাজ করছেন। ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে তাঁরা চাঁদপুরে যোগদান করে এমন ঘোষণা দেন। তাঁদের এই ঘোষণার আলোকে জেলার প্রতিটি উপজেলাতে বাল্য বিয়ে বিরোধী অনেক কাজ হচ্ছে। সমাজ সচেতন ব্যক্তিবর্গ এই কাজে ব্যাপক সাড়া দিলেও চরাঞ্চলে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে কম। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে হাইমচর উপজেলার চরাঞ্চল। বেশ ক’মাস আগে হাইমচরে বাল্য বিয়ে বিরোধী এক সমাবেশে পুলিশ সুপার উপস্থিত থাকলেও মঞ্চে বসেই ২/৪ জন কানাঘুষা করে বলেছেন, জেলার অন্য সকল অঞ্চল শতভাগ বাল্য বিয়ে মুক্ত করা গেলেও হাইমচরে তা’ সম্ভব নয়। কারণ, এই এলাকার নিম্ন মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র মানুষগুলোর মধ্যে যাদেরই কন্যা আছে, তারা নিজেদেরকে কন্যাদায়গ্রস্তই ভাবে এবং আঠার বছর পূর্ণ হবার অনেক আগেই কৈশোরকালে কন্যাদেরকে পাত্রস্ত্র করে দায়মুক্ত হবার চেষ্টা করে। পিতৃহীন, অভিভাবকহীন কন্যাদের সম্ভ্রম রক্ষাকে চ্যালেঞ্জ মনে করেও কেউ কেউ তাদের শুভাকাক্সক্ষী সেজে পাত্রস্থ করার উদ্যোগ নেয় এবং অপরিণামদর্শিতার সাথে বাল্য বিয়ের মতো জঘন্য কাজ করে থাকে। এজন্যে তারা কিছু অসাধু জনপ্রতিনিধি, পুলিশের অসাধু কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের নিচু স্তরের কর্মচারীদের ম্যানেজ করে। আর গোপনে কিংবা ওপেন সিক্রেটভাবে এমন বাল্য বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে সাধারণত বাল্য বিয়ের শিকার ৯৮ ভাগ মেয়েই কোনো প্রতিবাদ করে না কিংবা প্রতিবাদ করার কোনো সুযোগই খুঁজে পায় না।

    বাল্য বিয়ে সংক্রান্ত এমন সাধারণ চিত্রের বিপরীতে ব্যতিক্রম এক চিত্র খুঁজে পাওয়া গেলো বাল্যবিয়েপ্রবণ হাইমচরেই। এখানকার নীলকমল ইউনিয়নের মাঝির বাজার সংলগ্ন মোল্লাকান্দির ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী শামিমা আকতার তার ব্যক্তিগত বিদ্রোহের কারণে এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের আন্তরিক সহযোগিতা ও মহতী উদ্যোগের কারণে বাল্য বিয়ে ঠেকিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। পিতার অকাল মৃত্যুতে তার ভাই ও ভাবী সোমবার তার বিয়ের দিন ধার্য করে। শামিমা এ বিয়েতে রাজি না থাকায় বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। তার ভাই-ভাবী শামিমাকে খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়ে দীপু ও হাসান নামে স্থানীয় দু সাংবাদিকের শরণাপন্ন হন এবং অবশেষে এই সাংবাদিকরাই ঢাকার উদ্দেশ্যে পলায়নপর শামিমাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তারা হাইমচর থানা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহযোগিতায় শামিমার বাল্য বিয়ে বন্ধ করতে সক্ষম হন। শুধু তা-ই নয়, শামিমা প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা অর্জন অবধি



হাইমচর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদের জিম্মায় থাকার ব্যবস্থা করে দেন।

    আমরা কিশোরী শামিমাকে তার বাল্য বিয়ে বিরোধী বিদ্রোহের জন্যে বাহবা জানাই, আর হাইমচরের সাংবাদিকদের জানাই সাধুবাদ এবং শামিমাকে মমত্ববোধ সহকারে জিম্মায় নেয়ার জন্যে শিক্ষক নেতা নাসির উদ্দিনকে জানাই ধন্যবাদ। সেই সাথে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে সপ্রশংস অভিব্যক্তিতে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। সত্যিই হাইমচরের এঁরা সকলে অনেক বড় মানবিক কাজই করলেন।


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৩৯৭৫৫
পুরোন সংখ্যা