চাঁদপুর । বৃহস্পতিবার ১২ জুলাই ২০১৮ । ২৮ আষাঢ় ১৪২৫ । ২৭ শাওয়াল ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৯-সূরা আয্-যুমার

৭৫ আয়াত, ৮ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৪২। আল্লাহ মানুষের প্রাণ হরণ করেন তার মৃত্যুর সময়, আর যে মরে না, তার নিদ্রাকালে। অতঃপর যার মৃত্যু অবধারিত করেন, তার প্রাণ ছাড়েন না এবং অন্যান্যের ছেড়ে দেন এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলি রয়েছে।

৪৩। তারা কি আল্লাহ ব্যতীত সুপারিশকারী গ্রহণ করেছে? বলুন, তাদের কোন এখতিয়ার না থাকলেও এবং তারা না বুঝলেও?

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

 


খাবার টেবিলে বসে যারা কথা বলে বেশি, তারা বেশি খেতে পারে না।  


-ও ডাব্লিউ ছোলম।


মানবতার সেবায় যিনি নিজের জীবন নিঃশেষে বিলিয়ে দিতে পারেন, তিনিই মহামানব।





                           


ফটো গ্যালারি
একজন চা বিক্রেতার মানবিকতা
১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


স্বেচ্ছায় উধাও হয়ে যাবার পনের বছর পর মতলব দক্ষিণ উপজেলায় এক বৃদ্ধ নিজ বাড়িতে ফিরেছেন। এ বৃদ্ধের নাম আবুল খায়ের লনু মিঞা। তিনি এই উপজেলার উপাদী উত্তর ইউনিয়নের পাঁচকিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। যখন তিনি উধাও হন তখন তার বয়স ছিলো ৫৫ বছর। আর এখন বয়স ৭০ বছর। তিনি ২ ছেলে ও ৫ মেয়ে সন্তানের জনক।



কেউ হারিয়ে গেলে কিংবা উধাও হয়ে গেলে ২-৩ বছরের মধ্যে খুঁজে পাওয়াটা স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু ১০-১৫ কিংবা ২০ বছর পর খুঁজে পাওয়াটা অস্বাভাবিক। ২-৩ বছরের মধ্যে কাউকে খুঁজে পাওয়া না গেলে ধরে নেয়া হয়, সে হয়তো দেশান্তরিত হয়েছে, নয়তো লোকান্তরিত হয়েছে। প্রথম প্রথম নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে পেতে আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে যেমন আকুলতা-ব্যাকুলতা থাকে, যতোই দিন যেতে থাকে ততোই সেটা কমতে থাকে। এক পর্যায়ে সেটা নিঃশেষ হয়ে যায়। তখন আত্মীয়-স্বজন নিখোঁজ ব্যক্তিকে খোঁজা বাদ দিয়ে বলতে থাকে, সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন সে/তিনি কোথায় আছে/আছেন, সৃষ্টিকর্তার দয়া হলেই হয়তো তাকে ফেরৎ পেতে পারি। যেমনটি মতলব দক্ষিণের নিখোঁজ লনু মিঞার পুত্র শাহজাহান সরকারও হয়তো বলেছেন। তবে পিতাকে খুঁজে পাওয়ার পর তিনি বললেন, পনের বছর ধরে বহু জায়গায় বাবাকে খুঁজেছি। দিনমজুর আমি। ক'দিন কামলা খেটে যে ক' টাকা পেয়েছি, তা দিয়ে সংসার চালিয়েছি, আর বাবাকে খুঁজেছি। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট কোথায় যাইনি আমি? এরই মধ্যে স্বামীকে হারিয়ে কাঁদতেন আমার মা। এক পর্যায়ে শয্যাশায়ী হলেন তিনি। আর উঠলেন না, চিরবিদায় নিলেন।



একজন লনু মিঞা হারিয়ে যাবার বা উধাও হবার ১৫ বছর পর তাকে পাওয়া গেলো কিংবা তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে এলেন-এটাতো ঘটনার স্বাভাবিক বিবরণ। কিন্তু তিনি কীভাবে হারালেন এবং কীভাবেই তাকে খুঁজে পাওয়া গেলো সেটাই মূল কৌতূহলের বিষয়।



চাঁদপুর কণ্ঠের মতলব ব্যুরো ইনচার্জ রেদওয়ান আহমেদ জাকির কর্তৃক বুধবার পরিবেশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, পনের বছর আগে কোনো এক বিকেলে চা খাওয়ার কথা বলে হুট করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান লনু মিঞা। তিনি কিছুটা মানসিক বিকারগ্রস্ত ছিলেন। তবে আচরণে কোনো পাগলামি ছিলো না। কাকতালীয় বিষয় হলো, নিজ এলাকার এক চা বিক্রেতার নিকট চা খাওয়ার কথা বলে যিনি উধাও হলেন, তাকে পনের বছর পর শত শত মাইল দূরবর্তী এলাকার আরেক চা বিক্রেতা আত্মীয়-স্বজনের হাতে তুলে দিলেন। শুধুমাত্র চা বিক্রেতার মানবিকতা ও সংবেদনশীলতার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে বলে ঘটনার বিবরণে মনে হয়েছে।



এই চা বিক্রেতার নাম নূর ইসলাম। তিনি সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা উপজেলার ত্রিশমাইল এলাকায় চা বিক্রি করেন। মাস তিনেক আগে তিনি স্থানীয় সাইকেল মিস্ত্রী গাউসের দোকানের সামনে এক বৃদ্ধ লোককে পড়ে থাকতে দেখেন। এতে তার মানবিকতা জাগ্রত হলো। তিনি বৃদ্ধকে তুলে নিয়ে মসজিদের পাশে থাকতে দেন, স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় খেতে দেন, চিকিৎসাসেবা দেন, এক পর্যায়ে থাকার জন্যে ছোট্ট ঘর বানিয়ে দেন। কিন্তু উপর্যুপরি বৃদ্ধের শারীরিক অসুস্থতায় তিনি বৃদ্ধের নাম-ঠিকানা জানার জোর প্রয়াস চালিয়ে সফল হন। সাংবাদিকদের কল্যাণে এই নাম-ঠিকানা চলে আসে মতলব দক্ষিণে এবং অবশেষে গত ৮ জুলাই এই বৃদ্ধ তার ভাই ও ছেলের আন্তরিকতায় সাতক্ষীরা থেকে উদ্ধার হয়ে চলে আসেন নিজ বাড়িতে।



প্রতিদিন চলার পথে কতো মানুষকেই না আমরা যেখানে-সেখানে পড়ে থাকতে দেখি। কিন্তু মানবিকতা ও সংবেদনশীলতার অভাবে আমরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ



 



অনুভব করি না, যে তাগিদটি অনুভব করেছেন সাতক্ষীরার চা বিক্রেতা নূর ইসলাম। বস্তুত তার এই তাগিদ এবং 'মানুষ মানুষের জন্যে' অনুভূতিতে পনের বছর যাবৎ নিখোঁজ হওয়া বৃদ্ধ লনু মিঞা খুঁজে পেয়েছেন আপন ঠিকানা, স্বজনদের সানি্নধ্য। পেশায় ছোট হলেও নূর ইসলামের অনেক বড় মানসিকতা থেকে সমাজের অন্যদের শিখার উল্লেখযোগ্য কিছুই আছে। সত্যিই নূর ইসলামকে অনেক ধন্যবাদ ও অশেষ কৃতজ্ঞতা।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৯১৯৬৬
পুরোন সংখ্যা