চাঁদপুর। শনিবার ১১ আগস্ট ২০১৮। ২৭ শ্রাবণ ১৪২৫। ২৮ জিলকদ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪০-সূরা আল মু'মিন


৮৫ আয়াত, ৯ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৩৬। ফেরাউন বলল, হে হামান, তুমি আমার জন্যে একটি সুউচ্চ প্রসাদ নির্মাণ কর, হয়তো আমি পেঁৗছে যেত পারব।


৩৭। আকাশের পথে, অতঃপর উঁকি মেরে দেখব সূসার আল্লাহকে। বস্তুতঃ আমি তো তাকে মিথ্যাবাদীই মনে করি। এভাবেই ফেরাউনের কাছে সুশোভিত করা হয়েছিল তার মন্দ কর্মকে এবং সোজা পথ থেকে তাকে বিরত রাখা হয়েছিল। ফেরাউনের চক্রান্ত ব্যর্থ হওয়ারই ছিল।


৩৮। মুমিন লোকটি বলল: হে আমার কওম, তোমরা আমার অনুসরণ কর। আমি তোমাদেরকে সৎপথ প্রদর্শন করব।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


পরামর্শ মানুষের কাজে বলিষ্ঠতা আনয়ন করে।


-ভার্জিল।


 


 


মানবতাই মানুষের শ্রেষ্ঠতম গুণ।


 


 


 


 


 


 


 


 


জাতীয় শোক দিবসের পোস্টার ছিঁড়ায় সংশ্লিষ্টদের খুঁজে বের করুন
১১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


প্রতি বছর আগস্ট আসলেই শোকের আবহ ছড়িয়ে পড়ে দেশের সর্বত্র। কারণ ১৯৭৫ সালে এ মাসেরই পনেরো আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঢাকাস্থ ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের নিজ বাসায় কতিপয় বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে সপরিবারে নিহত হন। তখন দু কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে অবস্থান করায় তাঁরা এ নির্মম হত্যাকা- থেকে বেঁচে যান। এছাড়া বঙ্গবন্ধু, তাঁর স্ত্রী, তিনপুত্র, দু পুত্রবধূ, ভাই শেখ আবু নাসের, ভগি্নপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মণি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মণিসহ ২৬ জন এবং বঙ্গবন্ধুর জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা কর্নেল জামিল ঘাতকের বুলেটে প্রাণ হারান। সেজন্যে প্রতি বছর ১৫ আগস্ট জাতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সকল সদস্যকে এবং পালিত হয় জাতীয় শোক দিবস।



রাষ্ট্রধানদের মধ্যে খ্যাতিমান ও বিশ্বনেতার মর্যাদায় বিবেচিত অনেকেই হত্যাকা-ের শিকার হয়েছেন। আমাদের উপমহাদেশে ভারতের জাতির জনক ও অহিংস আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী (মহাত্মা গান্ধী) ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি নথুরাম গডস্ নামক এক হিন্দু মৌলবাদীর গুলিতে প্রাণ হারান। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর কন্যা, ভারতের তৃতীয় ও প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীও হত্যাকা-ের শিকার হন। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর দুই শিখ দেহরক্ষীর গুলিতে তিনি প্রাণ হারান। প্রধানমন্ত্রী পদে তাঁর স্থলাভিষিক্ত তাঁর পুত্র রাজীব গান্ধীও ১৯৯১ সালের ২১ মে তামিলনাডুতে একটি নির্বাচনী জনসভায় এলটিটিই জঙ্গির আক্রমণে নিহত হন। একই উপমহাদেশের পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারান ২০০৭ সালে। তিনি রাওয়ালপিন্ডিতে একটি নির্বাচনী র‌্যালিতে অংশ নিতে গিয়ে বুলেট প্রুফ গাড়ি থেকে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়ার জন্যে মাথা বের করা মাত্রই আততায়ীর গুলিতে আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।



যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫তম রাষ্ট্রপতি জন.এফ. কেনেডি ১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর এবং ১৬তম রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিংকন ১৮৬৫ সালের ১৪ এপ্রিল আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। এছাড়া আফ্রিকান আমেরিকান কিংবদন্তীতুল্য মানবাধিকার কর্মী মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ১৯৬৮ সালের ৪ এপ্রিল আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারান। সৌদি বাদশাহ ফয়সাল বঙ্গবন্ধুকে হত্যার বছরে অর্থাৎ ১৯৭৫ সালের ২৫ মার্চ সৎভাইয়ের ছেলে মুসাইদের রিভলভারের গুলিতে প্রাণ হারান। ইসরাইলের সবচে' ভদ্র আর নম্র রাজনৈতিক নেতা হিসেবে বিবেচিত, প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক রবিন ১৯৯৫ সালের ৪ নভেম্বর ইগল আমির নামে এক উগ্রপন্থী ইহুদীর হাতে প্রাণ হারান।



উপরোক্ত বিবরণের আলোকে বলা যায়, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী, জাতির জনক, বিশ্বখ্যাত নেতৃবৃন্দ আততায়ী, বিক্ষুব্ধ উগ্রব্যক্তি কিংবা ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ছাড়া অন্য কেউ সপরিবারে ও আত্মীয়-স্বজনসহ হত্যাকা-ের শিকার হননি। এটা বিশ্বের রাজনীতির ইতিহাসে এক বিরল ও ভয়াবহ শোকের ঘটনা। সেজন্যে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসেই শুধু নয়, প্রতি বছর আগস্ট মাসের ৩১ দিনব্যাপী চলে শোক পালনের বহুবিধ কর্মসূচি। এর মধ্যে একটি সহজ কর্মসূচি হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পোস্টার ছাপানো এবং বিভিন্ন স্থানে সাঁটানো। মতলব উত্তর উপজেলার বাসিন্দা, খ্যাতিমান ব্যবসায়ী, চাঁদপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ইসফাক আহসান চলতি আগস্ট মাসের শুরু থেকেই জাতীয় শোক দিবসের পোস্টার ছাপিয়ে মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সাঁটানোর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু এই পোস্টারগুলো কে বা কারা ছিঁড়ে ফেলছে। এতে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কোনো বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে জনাব ইসফাক আহসান তাঁর পোস্টারগুলো ছেঁড়ার অভিযোগ আনেননি, তবে নিজ দলের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতিই তাঁর ও সমর্থকদের সন্দেহমূলক অভিযোগ রয়েছে। সরকারের চৌকষ গোয়েন্দাদের পক্ষে শোক দিবসের পোস্টার ছিঁড়ায় জড়িতদের খুঁজে বের করা খুব কঠিন কাজ নয়। আশা করি এর মধ্য দিয়েই অভিযোগের নিষ্পত্তি হতে পারে। সন্দেহমূলকভাবে কেউ কাউকে অভিযুক্ত করে যাতে চাঁদপুর-২ আসনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে এ ব্যাপারে আমরা সরকারি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং রাজনৈতিক কর্তাব্যক্তিদের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছি।



 



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৯১০৯
পুরোন সংখ্যা