ঢাকা। শুক্রবার ১৮ জানুয়ারি ২০১৯। ৫ মাঘ ১৪২৫। ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্

৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩৮। আমি আকাশম-লী ও পৃথিবী এবং উহাদের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছু সৃষ্টি করিয়াছি ছয় দিনে; আমাকে কোন ক্লান্তি স্পর্শ করে নাই।৩৯। অতএব উহারা যাহা বলে তাহাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং তোমরা প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে,


assets/data_files/web

প্রতিভাবান ব্যক্তিরাই ধৈর্য ধারণ করতে পারে। -ই. সি. স্টেডম্যান।


যে শিক্ষিত ব্যক্তিকে সম্মান করে, সে আমাকে সম্মান করে।


ফটো গ্যালারি
পীযূষ চৌধুরীর প্রয়াণে শোক
১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুরে সত্তরোর্ধ্ব বয়সী এক যুবকের অকাল প্রয়াণ ঘটেছে। চাঁদপুরের সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের এক সক্রিয় ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর চির বিদায় হয়েছে। চির সবুজ এই মানুষটির নাম পীযূষ কান্তি রায় চৌধুরী। কোনো দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন না তিনি। তাঁর দেহাবয়বে ছিলো না বার্ধক্যের উল্লেখযোগ্য ছাপ। হাসিখুশি সুখী জীবন ছিলো তাঁর। সুখী পরিবারের কর্তা ছিলেন তিনি। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক এবং সুগৃহিণী স্ত্রীর স্বামী হিসেবে তিনি পরিচালনা করতেন একটি আদর্শ পরিবার। চাঁদপুর শহরের হাজী মহসিন রোডস্থ আলিমপাড়ায় ছিলো তাঁর স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ বসবাস। ছেলে সপরিবারে থাকেন কর্মস্থলে, আর মেয়ে থাকেন স্বামীগৃহে। আর স্ত্রীকে নিয়ে নির্ঝঞ্ঝাট দিনযাপন করতেন তিনি চাঁদপুরে।



বাংলাদেশ রেলওয়েতে ট্রাভেলিং টিকেট এঙ্ামিনার (টিটিই) হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন। চাকুরিজীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন উত্তরবঙ্গে। অবসরগ্রহণের পূর্বে তিনি রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল (চট্টগ্রাম)-এ বদলি হয়ে আসেন এবং অবসরগ্রহণের পর চাঁদপুরে নিজেদের বাসায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। আর ষাটের দশকে চাঁদপুরের যে সংস্কৃতি অঙ্গনে তিনি সক্রিয় ছিলেন, সেই অঙ্গনে ক্রমশ ভীষণ সরব হয়ে উঠলেন। তিনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ চাঁদপুর জেলা শাখার। হয়ে গেলেন বাংলাদেশ বেতারের নিয়মিত শিল্পী। তিনি চাঁদপুরের শীর্ষ স্থানীয় নাট্যগোষ্ঠী অনন্যা, সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলার মুখ, বাঙালি সংস্কৃতি মঞ্চ ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক ফোরামের সহ-সভাপতির দায়িত্বও গ্রহণ করলেন। তিনি চাঁদপুর সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্রের সদস্য হিসেবে মনোনীত হন এবং এ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠায় আন্তরিক ভূমিকা পালন করেন। তিনি গান, কবিতা, প্রবন্ধ লেখায় ভীষণ মনোনিবেশ করেন এবং একের পর এক বই প্রকাশ করেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সাহিত্য একাডেমী, চাঁদপুর-এর নির্বাহী সদস্য হিসেবেও নির্বাচিত হন। সম্প্রতি তিনি আবৃত্তিতে জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননার জন্যে মনোনীত হন।



পীযূষ কান্তি রায় চৌধুরী শাহরাস্তি উপজেলার সাহাপুর চৌধুরী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন ভূপেশ রায় চৌধুরী। নবতিপর বয়সেও হোমিও চিকিৎসায় সক্ষমতার পরিচয় দেন। তিনি দীর্ঘজীবন লাভ করে প্রয়াত হন। পীযূষ কান্তি রায় চৌধুরী পিতার ন্যায় হোমিও চিকিৎসা চর্চা করেন এবং অনেক বেশি স্বাস্থ্য সচেতন ছিলেন। চলাফেরায় ছিলেন আধুনিক ও স্মার্ট, যার ফলে বার্ধক্য থাকতো লুকিয়ে। ৭৪ বছর বয়সেও কাজে কর্মে মনে হতো চির সবুজ এক যুবক। সবাই ভেবেছিলেন, পিতার ন্যায় তিনি দীর্ঘজীবী হবেন। কিন্তু সবার এই ভাবনায় ছেদ ঘটিয়ে গ্রামের বাড়িতে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে খাদ্য গ্রহণের পর অসুস্থ হয়ে গত ১৩ জানুয়ারি গভীর রাতে তিনি ভর্তি হন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে। রাতশেষে দিনে আরোগ্যও লাভ করেন। ১৪ জানুয়ারি রাতে বাসায়ও ফেরার কথা। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে তিনি আকস্মিকভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। সেজন্যে বাসায় জীবিত ফিরলেন না, ফিরলেন একেবারে লাশ হয়ে। তাঁর এমন মৃত্যুতে চাঁদপুরের সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। শোকে মুহ্যমান ও হতবিহ্বল হয়ে পড়ে এই অঙ্গনের সকলে। চাঁদপুর কন্ঠ পরিবারও ভীষণ শোকাভিভূত। কারণ, তিনি চাঁদপুর কণ্ঠের একজন ভক্ত পাঠক ও নিয়মিত লেখক ছিলেন। আমরা পীযূষ চৌধুরীর বিদেহী আত্মার সদ্গতি কামনা করছি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। চাঁদপুরের সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গন পীযূষ চৌধুরীর মতো কর্মঠ ও সক্রিয় কর্মীর অভাব দীর্ঘদিন অনুভব করবে বলে আমরা মনে করি।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৮২১৭০
পুরোন সংখ্যা