ঢাকা। শনিবার ১৯ জানুয়ারি ২০১৯। ৬ মাঘ ১৪২৫। ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৭-সূরা হাদীদ


২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


 


০৩। তিনিই আদি, তিনিই অন্ত; তিনিই ব্যক্ত ও তিনিই গুপ্ত এবং তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক অবহিত।


৪। তিনিই ছয় দিবসে আকাশম-লী ও পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছেন; অতঃপর 'আরশে সমাসীন হইয়াছেন। তিনি জানেন যাহা কিছু ভূমিতে প্রবেশ করে ও যাহা কিছু উহা হইতে বাহির হয় এবং আকাশ হইতে যাহা কিছু নামে ও আকাশে যাহা কিছু উত্থিত হয়। তোমরা যেখানেই থাক না কেনো_তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন, তোমরা যাহা কিছু করো আল্লাহ তাহা দেখেন।


 


assets/data_files/web

সংশয় যেখানে থাকে সফলতা সেখানে ধীর পদক্ষেপে আসে।


-জন রে।


 


 


যে ব্যক্তি উদর পূর্তি করিয়া আহার করে, বেহেশতের দিকে তাহার জন্য পথ উন্মুক্ত হয় না।


 


যে শিক্ষা গ্রহণ করে তার মৃত্যু নেই।


 


ফটো গ্যালারি
শিক্ষকদের লাইফ জ্যাকেট প্রদান!
১৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

হাইমচর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের ২১টি বিদ্যালয়ের ৬৭ জন শিক্ষককে লাইফ জ্যাকেট প্রদান করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে নয়, একটি বেসরকারি সেবামূলক সংগঠনের পক্ষ থেকে এই জ্যাকেট বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এই সংগঠনটি হচ্ছে হাইমচর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন। গত ১৭ জানুয়ারি ২০১৯ সকাল ১১টায় নীলকমল ওচমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জ্যাকেটগুলো শিক্ষকদের হাতে তুলে দেয়া হয়। কিন্তু এ অনুষ্ঠানটি নিতান্তই লাইফ জ্যাকেট বিতরণের অনুষ্ঠান ছিলো না। এটি ছিলো কৃতী শিক্ষার্থী ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে হাইমচর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭৪ জন কৃতী শিক্ষার্থীর মাঝে বৃত্তির সনদ, ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ বিতরণ এবং অবসরপ্রাপ্ত ১৮ জন শিক্ষককে গুণীজন হিসেবে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সাথে ব্যতিক্রম উদ্যোগ হিসেবে মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে হাইমচর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালনকারীদের জন্যে লাইফ জ্যাকেট বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়।

এই ব্যতিক্রম উদ্যোগের উদ্যোক্তা হচ্ছেন আমেরিকা প্রবাসী শাহাদাৎ মিয়াজী। তিনি আমেরিকা যাওয়ার পূর্বে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিয়ে দুর্গম চরাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক'বছর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা অর্জনের পর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছিলেন। তিনি নব্বইর দশকে চাঁদপুর সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগে অধ্যয়নকালীন তাঁর কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটান এবং কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন। তিনি স্থানীয় পত্রিকাগুলোতে লেখালেখি করতেন। কবি-লেখক হওয়ার কারণে তাঁর একটা সংবেদনশীল মন ছিলো। কিন্তু আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তরঙ্গবিক্ষুব্ধ মেঘনা পাড়ি দেয়া শিক্ষকদের জন্যে তিনি তখন কিছুই করতে পারেননি। ভাগ্য অনুকূল হওয়ায় ক'বছর আগে তিনি সপরিবারে আমেরিকায় যাওয়ার সুযোগ পান এবং পর্যাপ্ত অর্থ রোজগার করেন। তারপর তিনি বন্ধু ও সমমনাদের নিয়ে হাইমচর এডুকেশন ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট গঠন করেন এবং ছুটিতে দেশে এসে শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করেন। তিনি আমেরিকা ফিরে গিয়ে তার এই মহৎ কাজের কথা তুলে ধরলে বিদ্যোৎসাহী ও কল্যাণকামী কিছু লোক তার উদ্যোগের ধারাবাহিকতা রক্ষায় এবং ব্যাপকতা সৃষ্টিতে সম্ভাব্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। এতে তিনি উদ্দীপ্ত হয়ে সংগঠনটির নাম পরিবর্তন করেন। বর্তমান পরিবর্তিত নামটি হচ্ছে হাইমচর ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট। ভবিষ্যতে এই ট্রাস্ট শুধু শিক্ষার উন্নয়নে শুধু নয়, সামগ্রিক মানবকল্যাণে কাজ করবে বলে শাহাদাৎ মিয়াজী জানান।

সাধারণত ছুটিতে এসে প্রবাসীরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ান, পরিবার-পরিজনসহ ঘনিষ্ঠজনদের সাথে আনন্দ-আহ্লাদে সময় কাটান। আমেরিকা থেকে ছুটিতে এসে এই সাধারণ চিত্রের বিপরীত চিত্রে অবস্থান করেন হাইমচরের শাহাদাৎ মিয়াজী। তিনি বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীসহ কল্যাণবুদ্ধ সমমনা লোকজনকে নিয়ে শিক্ষার উন্নয়নসহ উন্নত হাইমচর গড়ার স্বপ্নে বিভোর হন। তাঁর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের শ্লোগান হচ্ছে 'সকলে মিলে চেষ্টা করি/স্বপ্নের হাইমচর গড়ি'। আমরা তাঁর এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন চাই। তাঁর উদ্যোগের সাথে আগ্রহী সকলের একাত্মতা চাই। আমাদের বিশ্বাস, সকলের সম্মিলিত উদ্যোগে নানাদিক থেকে পিছিয়েপড়া হাইমচর একদিন অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৪২০১২
পুরোন সংখ্যা