চাঁদপুর, শুক্রবার ১৫ মার্চ ২০১৯, ১ চৈত্র ১৪২৫, ৭ রজব ১৪৪০
jibon dip
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৩-সূরা নাজম


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


assets/data_files/web

মনের যাতনা দেহের যাতনার চেয়ে বেশি। -উইলিয়াম হ্যাজলিট।


 


ঝগড়াটে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট অধিক ক্রোধের পাত্র।


 


 


ফটো গ্যালারি
ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের টাকায় অপ্রয়োজনীয় সেতু!
১৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


কোনো তদন্ত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করা লাগে না, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকল ধরনের পর্যবেক্ষক অকপটে বলে ফেলেন, সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থব্যয় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তুলনামূলকভাবে বেশি অনিয়মে ভরপুর থাকে। কোথাও কোথাও ভুয়া প্রকল্পে রাম-রহিমের সন্ধিতে হয় হরিলুট। এই লুট ধরা পড়ার সম্ভাবনায় কখনো কখনো প্রকল্প এমন জায়গায় বাস্তবায়ন করা হয়, যে জায়গায় প্রকল্পের নূ্যনতম উপযোগিতা থাকে না। এমন একটি প্রকল্প সংক্রান্ত সংবাদই ছবি সহকারে গত বৃহস্পতিবার দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রথম পৃষ্ঠায় শীর্ষ সংবাদ হিসেবে ছাপা হয়।



'ঘরের পেছনে রাস্তাবিহীন ১৬ লাখ টাকার সেতু!' শিরোনামে উক্ত সংবাদটিতে প্রতিবেদক শওকত আলী লিখেছেন যেনো এক কাব্যিক বিবরণ-'বসতঘরের পেছনে ছোট্ট নালা। সেই নালায় ঘরের পেছনের বেড়া সামনে রেখে নির্মাণ করা হয়েছে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পাকা সেতু। ওপার থেকে মনে হয় বেড়া দিয়ে সেতুর মুখ আটকা। আদতেই আটকা। সেতুর মুখে রাস্তার বদলে আছে ওই ঘরটি। ওপারে আর কোনো বসতিও নেই, দুটি পরিবারের ঘর ছাড়া। চাঁদপুর সদর উপজেলার ৯নং বালিয়া ইউনিয়নের তালুকদার বাড়ির পেছনে এই সেতু নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এলাকায়। এ সেতু দিয়ে কারো যাতায়াত নেই। যাতায়াতের মানুষও নেই। অপ্রয়োজনীয় এই সেতু ঠিকাদারের স্বার্থরক্ষার জন্যে বানানো হয় বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এলাকাবাসী বলেন, হাজার হাজার মানুষের দাবি আর চাহিদার পরও যেখানে সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে না, সেখানে একটি বাড়ির ভেতরে রাষ্ট্রের ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বিনা প্রয়োজনে সেতু করা জনগণের সাথে পরিহাস করার সামিল। জানা গেছে, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এ ঘটনায় বালিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ইসমাইল হোসেন তপন বাদী হয়ে ১০টি ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ওমর ফারুক তালুকদারের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেন।



সংবাদটিতে বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে আরো লিখা হয়, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার কাউন্সিলর মজিবুর রহমানের মিনহা এন্টারপ্রাইজকে বালিয়া তালুকদার বাড়ির সেতুর কাজ দরপত্রের মাধ্যমে দেয়া হয়েছিল। পরে এই বাড়ির ওমর ফারুক তালুকদার কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারের নিকট থেকে সাব-ঠিকাদারি নিয়ে উক্ত অপ্রয়োজনীয় সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। জনবহুল রাস্তায় সেতু না করে বাড়ির ভেতরে ব্যক্তিস্বার্থে সেতু নির্মাণের পূর্বে বালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের নিকট লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু এই কর্মকর্তা সেটি আমলে নেননি। তিনি চাঁদপুর সদরে দায়িত্বগ্রহণের পূর্বে সেতুটির অনুমোদন হয়েছে বলে এটির অপ্রয়োজনীয় বাস্তবায়নে বাদ সাধেননি, বরং তিনি তদারকি করেছেন। বস্তুত এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ে তিনি প্রত্যক্ষভাবেই সহযোগিতা করেছেন। এজন্যে কোনো যুক্তিতেই তিনি দায় এড়াতে পারবেন না বলে অভিজ্ঞজন মনে করছেন। আমরা এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আশু তদন্ত প্রত্যাশা করছি এবং জেলা প্রশাসক মহোদয়কেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরো জানাচ্ছি।



 



 



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪০৩৬১৭
পুরোন সংখ্যা