চাঁদপুর, বুধবার ১২ জুন ২০১৯, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৮ শাওয়াল ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


 


৬। তৃণলতা ও বৃক্ষাদি তাঁহারই সিজ্দায় রত রহিয়াছে,


৭। তিনি আকাশকে করিয়াছেন সমুন্নত এবং স্থাপন করিয়াছেন মানদ-,


৮। যাহাতে তোমরা সীমালঙ্ঘন না কর মানদন্ডে।


 


 


 


assets/data_files/web

যার বন্ধু নাই তার শত্রুও নাই।


-টেনিসন।


 


 


যে পরনিন্দা গ্রহণ করে সে নিন্দুকের অন্যতম।


 


 


ফটো গ্যালারি
এ সম্ভাবনাকে কবে কাজে লাগানো হবে?
১২ জুন, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

প্রতি বছর দুটি ঈদ এবং পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে চাঁদপুর শহরের পশ্চিমাংশে বড়স্টেশন মোলহেড এলাকায় লাখো মানুষের ঢল নামে। উদ্দেশ্য থাকে নদীকেন্দ্রিক বিনোদন। বাংলাদেশ কেনো, বিশ্বের মধ্যে বিরল একটি জায়গা হচ্ছে এই মোলহেড। এখানে চাঁদপুর শহরকে দু ভাগে বিভক্তকারী ডাকাতিয়া নদী পূর্ব দিক থেকে তার প্রধান ধারায় এসে সর্বাধিক প্রশস্ততায় বিদ্যমান দেশের অন্যতম বৃহত্তম নদী মেঘনার সাথে মিলিত হয়েছে। আবার বিপরীত দিকে অদূরেই আন্তর্জাতিক নদী পদ্মা একটি বড় ধারায় এসে মেঘনার স্রোতধারায় লীন হয়েছে। এর ফলে তিন নদীর সঙ্গম বা মিলনস্থলে পরিণত হয়ে মোলহেড এলাকা অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিনোদনপিয়াসী মানুষের কাছে প্রতিনিয়ত নিজেকে তুলে ধরেছে। সেজন্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কটি দিন ছাড়া সারা বছরই মোলহেডে চাঁদপুর জেলা এবং পার্শ্ববর্তী কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষসহ দূর-দূরান্তের পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে। শতভাগ নির্মল বায়ু সেবন এবং নদীর বিশালত্বে অবগাহন করতে মোলহেড যে কতো উত্তম ও উপযুক্ত জায়গা সেটি সরেজমিনে না গেলে কেবল বাণীচিত্রে বা কথাচিত্রে কারো উপলব্ধিতে শতভাগ ধরিয়ে দেয়া সম্ভব নয়।

মোলহেডটি বাংলাদেশ রেলওয়ের জায়গায় অবস্থিত। এটি বস্তুত চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের পশ্চিমদিকের প্রান্তিক এলাকা। মেঘনা ও ডাকাতিয়ার ভাঙ্গণে রেলওয়ের সকল স্থাপনা এখান থেকে সরিয়ে পূর্বদিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং এ স্থানটিকে 'মোলহেড' নামকরণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর সংরক্ষণসহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিয়েছে। এখানে পূর্বদিক ছাড়া তিন দিকেই রয়েছে নদীর অবস্থান। সেজন্যে বালুভর্তি জিও টেঙ্টাইল এবং চতুষ্কোণ বস্নক ফেলে এ স্থানটির নদী তীরবর্তী এলাকা সুদৃঢ়ভাবে বেঁধে ফেলা হয়েছে। পাউবো'র এমন কার্যক্রমে এককালে 'বড় স্টেশন ঠোঁডা' নামে পরিচিত এলাকাটি 'মোলহেড' নামে নদীর গর্ভে বিস্ময়কর অস্তিত্ব ধারণ করে আছে। এখানে প্রতিদিন মেঘনার বিশালত্বে নীলাকাশের সামিয়ানাকে বাহ্যিক দৃষ্টিতে নীল হওয়া এবং সন্ধ্যার প্রাক্কালে অনেকটা কঙ্বাজার ও কুয়াকাটার ন্যায় সূর্যাস্ত অবলোকন করে হৃদয়ে প্রশান্তি অনুভব করা যায়। এখান থেকে যন্ত্রচালিত নৌযান (ট্রলার, টেম্পু, স্পীড বোট) এবং বৈঠাচালিত নৌকায় মেঘনা ও পদ্মার বালুচরে যাতায়াত করা যায়। নিরাপদে নদীকে কাছ থেকে দেখার এবং জাতীয় আন্তর্জাতিক নৌরূটে চলমান সকল নৌযানের গতিবিধি অবলোকন করা যায়।

মোলহেডে পৌরসভার সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন নির্মাণ করেছে 'রক্তধারা' নামে মুক্তিযুদ্ধের দৃষ্টিনন্দন এক স্মারক ভাস্কর্য। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকবাহিনী ও তাদের দোসরদের গণহত্যার স্মৃতি বিজড়িত এ স্থানটিতে চাঁদপুর পৌরসভার বর্তমান মেয়রের উদ্যোগে দর্শনার্থীদের জন্যে বসার স্থান এবং টয়লেট নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মাণ করেছে 'ইলিশ ভাস্কর্য'। বেসরকারি উদ্যোগে গেলো পহেলা বৈশাখে উদ্বোধন করা হয়েছে উন্নতমানের রেস্তোরাঁ 'হিলশা কিচেন'। এছাড়া আরো কিছু স্থাপনাও গড়ে উঠেছে। এই মোলহেডের লাগ-পূর্বদিকে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র দেশখ্যাত চাঁদপুর মাছঘাটের অবস্থান। এই ঘাটটিকে সরকার অত্যাধুনিক করার সকল পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

চাঁদপুরের সদ্য সাবেক জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল তাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় দেশের মধ্যে প্রথম ব্র্যান্ডিং জেলা হিসেবে চাঁদপুরের সরকারি স্বীকৃতি আদায় করে মোলহেডকে ব্র্যান্ডিং পর্যটন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে 'মোলহেড' যেনো পেয়ে গেছে জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্ব এবং স্মরণাতীত কালের সবচে' বেশি খ্যাতি ও পরিচিতি। সর্বোপরি অফুরন্ত পর্যটন সম্ভাবনায় উদ্ভাসিত হয়েছে। কিন্তু এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পর্যটন মন্ত্রণালয়কে প্রত্যাশিত মাত্রায় তৎপর বলে মনে হচ্ছে না। সেজন্যে চাঁদপুর সদরের এমপি, বর্তমান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনিসহ সরকারের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারকদের সুদৃষ্টি এবং আশু পদক্ষেপ যেনো অতি জরুরি হয়ে পড়েছে।

এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
১০৮০৮৬
পুরোন সংখ্যা