চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ১৫ আগস্ট ২০১৯, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৩ জিলহজ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে স্কুল শিক্ষিকা জয়ন্তীর চাঞ্চল্যকর হত্যার রহস্য উদঘাটন * হত্যাকারী ডিস ব্যবসায়ী লাইনম্যান জামাল ও আনিসুর রহমান আটক
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৪-সূরা কামার


৫৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৩৭। উহারা লূতের নিকট হইতে তাহার মেহমানদিগকে অসদুদ্দেশ্যে দাবি করল, তখন আমি উহাদের দৃষ্টিশক্তি লোপ করিয়া দিলাম এবং আমি বলিলাম, আস্বাদন কর আমার শাস্তি এবং সতর্কবাণীর পরিণাম।


 


 


 


assets/data_files/web

একজন অল্প বয়স্ক মেয়ে স্ত্রী হিসেবে অথবা মা হিসেবে কোনোটাতেই ভালো নয়। -নজ এডামস।


 


 


নফস্কে দমন করাই সর্বপ্রথম জেহাদ।


 


 


ফটো গ্যালারি
আত্মত্যাগের মহিমায় চিরস্মরণীয় শোকাবহ পনর আগস্ট
১৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহীম (আঃ)। তিনি বার বার স্বপ্নাদিষ্ট হন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে যাতে প্রিয়বস্তু কোরবানি করেন। তিনি বার বার বিভিন্ন সংখ্যায় পশু কোরবানি করার পরও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারেন নি। তাই স্বপ্নাদিষ্ট হওয়া বন্ধ হচ্ছিলো না। অবশেষে অনেক ভেবে চিন্তে সবচে' প্রিয় বস্তু হিসেবে নিজের ঔরসজাত সন্তান হযরত ইসমাইল (আঃ)কে কোরবানি করার জন্যে উদ্ধত হন। আল্লাহ এতেই খুশি হয়ে যান। ঈমানী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন হযরত ইব্রাহীম (আঃ)। তাঁর ছুরিতে পুত্র কোরবানি হয়নি, আল্লাহর কুদরতি ইশারায় কোরবানি হয়েছে বেহেশতী দুম্বা। এ ঘটনার স্মারক হিসেবে প্রতি বছর ১০ জিলহজ্ব ঈদুল আজহার নামাজ শেষে হালাল পশু কোরবানি করা হয়। সেজন্যে ঈদুল আজহাকে হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর একটি মহান দিন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।



আমাদের বাঙালি জাতির পিতা হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি এবং স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি। অথচ তাঁকেই কিনা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তে স্বাধীনতার ৩ বছর ৭ মাস ২৯ দিনের মধ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর বিপথগামী সদস্য আত্মস্বীকৃত খুনি হিসেবে নিজগৃহে নির্মমভাবে সপরিবারে ও আত্মীয়-স্বজনসহ হত্যা করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাঁর মতো কিছু রাষ্ট্রনায়ক আততায়ী কিংবা আত্মস্বীকৃত খুনিদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মতো সপরিবারে ও আত্মীয়-স্বজন সহ অন্য কাউকে প্রাণ হারাবার ইতিহাস জানা যায় নি।



আমাদের ভারত উপমহাদেশে রাজনৈতিক হত্যাকা-ের অনেক ঘটনা আছে। ১৯৪৮ সালে ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী উগ্রবাদী হিন্দু নথুরাম গড্সের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দিল্লীতে নিজ কার্যালয়ে দুই দেহরক্ষীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। পরবর্তীতে তাঁর পুত্র রাজীব গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে ১৯৯১ সালের ২১ মে এলটিটিই জঙ্গিদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো ২০০৭ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারালেন। এছাড়া আমেরিকার বহুল আলোচিত ১৬তম প্রেসিডেন্ট ১৮৬৫ সালের ১৪ এপ্রিল ওয়াশিংটনের ফোর্ড থিয়েটারে নাটক দেখার সময় আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারান। আমেরিকার নোবেল বিজয়ী মানবাধিকার কর্মী মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ১৯৬৮ সালের ৪ এপ্রিল আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারান। একইভাবে ১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর আমেরিকার ৩৫তম প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডী প্রাণ হারান। ১৯৭৫ সালের ২৫ মার্চ সৎ ভাইয়ের ছেলে মুসাইদের রিভলভারের গুলিতে নিজ বৈঠক ঘরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সৌদি আরবের জনপ্রিয় বাদশাহ ফয়সাল। বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই হত্যাকা-ের ৪ মাস ২০ দিনের মাথায় বাংলাদেশে নিজগৃহে হত্যাকা-ের শিকার হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।



বঙ্গবন্ধু ব্যতীত বিশ্বের প্রাগুক্ত নেতৃবৃন্দ ব্যক্তিগতভাবে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। কাউকেই স্ত্রী-পুত্র, পুত্রবধূসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং ভাই-ভাগ্নে ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজন সহকারে প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়নি। এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে বঙ্গবন্ধুর পাহাড় পরিমাণ আত্মত্যাগের অপরিসীম-অমূল্য এক বিরল দৃষ্টান্ত। খুনিদের উদ্দেশ্য ছিলো বঙ্গবন্ধুর নাম-নিশানা মুছে ফেলে তাঁর আদর্শের কবর রচনা করা। খুনিরা ভেবেছিলো, প্রবাসে থাকা বঙ্গবন্ধুর দু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেঁচে গেলেও তাঁর পিতার আদর্শের ধ্বজা কোনোদিনও উড্ডীন করতে পারবেন না। খুনিরা এই জঘন্য হত্যাকা-ের বিচার যাতে না হয় সেজন্যে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারির ব্যবস্থা করে। কিন্তু খুনিদের ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণ করে নির্বাসিত জীবন শেষে শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেন, সভানেত্রী হিসেবে আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত ও পুনর্গঠিত করলেন। ক্ষমতায় আসলেন, বিতর্কিত সেই অধ্যাদেশ বাতিলের ব্যবস্থা নিলেন। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করলেন, বিচারের রায়ও কার্যকর করলেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায়ও কার্যকর করতে পিছপা হলেন না। দেশ ও জাতিকে অভিশাপ থেকে মুক্ত করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে দেশকে নিয়ে উন্নয়নের মহাসড়কে যেনো অদম্য গতিতে ধাবমান আছেন। পিতার ন্যায় তাঁকেও বারবার হত্যার প্রয়াস চালালেও তিনি হতোদ্যম হননি। অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশকে রোল মডেল করেছেন এবং নিজেও বার বার সম্মানিত হয়ে চলছেন।



 



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৬৩৮৫৯
পুরোন সংখ্যা