চাঁদপুর, সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ মহররম ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৬ সূরা-ওয়াকি'আঃ


৯৬ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৮০। ইহা জগৎসমূহের প্রতিপালকের নিকট হইতে অবতীর্ণ।


৮১। তবুও কি তোমরা এই বাণীকে তুচ্ছ গণ্য করিবে?


৮২। এবং তোমরা মিথ্যারোপকেই তোমাদের উপজীব্য করিয়া লইয়াছো!


 


 


 


 


 


assets/data_files/web

হিংসা একটা দরজা বন্ধ করে অন্য দুটো খোলে।


-স্যামুয়েল পালমার।


 


 


নামাজ বেহেশতের চাবি এবং অজু নামাজের চাবি।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
জনপ্রতিনিধি যখন মাদক ব্যবসায়ী
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৭:৪০:০৯
প্রিন্টঅ-অ+




    হাজীগঞ্জে মাদকের আধিপত্য দীর্ঘদিন ধরে। মাদক সেবনকারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ প্রকাশ্যেই বলে ফেলে, হাজীগঞ্জে তো মাদকের আড়ত ও আড়তদার রয়েছে। এখানে রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু বিপথগামী লোকজন, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেক নেতা-কর্মী, ভদ্রবেশী বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন পর্যন্ত মাদকের সাথে সংশ্লিষ্ট। ভদ্রবেশীদের কেউ কেউ সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগও করায়ত্ত করে চলছে। হাজীগঞ্জ পৌরসভার কোনো কোনো ওয়ার্ডে সুধীজনদের কেউ কাউন্সিলর প্রার্থী হলে খুব সহজে জয়ী হতে পারে না। কারণ, মাদক ব্যবসায়ীদের অর্থায়নে ও সমর্থনে সেখানে কোনো না কোনো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, এমনকি জয়লাভও করে। এই জয়লাভের পেছনে তারা উশৃঙ্খল মাদকসেবীদের ব্যবহার করে ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ে লিপ্ত করায়। হাজীগঞ্জে মাদকের আধিপত্যে শিক্ষার্থীরা তো বটেই, শিক্ষকদের কেউ কেউ মাদকাসক্ত হওয়ার কথা শোনা যায়। হাজীগঞ্জের প্রশাসন মাদক নির্মূল তো দূরের কথা, কাক্সিক্ষত মাত্রায় নিয়ন্ত্রণেও খেতে হয় হিমশিম।

    হাজীগঞ্জ নৌপথ ও রেলপথে যেমন সমৃদ্ধ, তেমনি জালের মতো বিস্তৃত সড়ক নেটওয়ার্কে চতুর্মুখী যোগাযোগ সুবিধায় অনেক উন্নত। দিনের অন্তত ১৮ ঘন্টা জমজমাট থাকে হাজীগঞ্জ বাজার। জনাকীর্ণ কোলাহলময় পরিবেশে ভারাক্রান্ত এই বাজারে মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধীরা খুব সহজেই পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিতে পারে এবং বিভিন্ন পথে পালিয়েও যেতে পারে। হাজীগঞ্জের সাবেক এক ইউএনও তো এক অনুষ্ঠানে মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের বলেছেন, তোমাদের জন্যে সবচে’ বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মাদকের রাজ্যে নিজেকে মাদকমুক্ত রাখা। প্রকৃতপক্ষ এই চ্যালেঞ্জ শুধু শিক্ষার্থীদের জন্যে নয়, বলা যায় হাজীগঞ্জে বসবাসকারী সকল স্তরের মানুষের জন্যেই বটে।

    হাজীগঞ্জে মাদক সংশ্লিষ্টতা পরিত্যাগে পুলিশ সুপারের সাথে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে কারো ভালো মানুষ হওয়া এবং জনপ্রতিনিধি হবার নজির যেমন রয়েছে, আবার জনপ্রতিনিধি হবার পর মাদক সংশ্লিষ্টতায় বার বার পুলিশে ধরা খাওয়ার ঘটনাও রয়েছে। এতে জনমনে সৃষ্টি হচ্ছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। নির্দিষ্ট জনপ্রতিনিধির প্রতি তার এলাকার সাধারণ মানুষের যে দাবি ও প্রত্যাশা, তাতে সাড়া দেয়ার পরিবর্তে যদি তিনি মাদকাসক্তি, মাদক ব্যবসাসহ বিপথগামিতায় আক্রান্ত হন, তাহলে ওই এলাকায় জনস্বার্থরক্ষা ও জনকল্যাণ কোন্ পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছে, তা ভাবতেও গা শিউরে উঠে।

    জনপ্রতিনিধিদের কাউকে কাউকে প্রকাশ্যে-গোপনে মাদকগ্রহণ, মাতলামি করা, ওপেন সিক্রেট পদ্ধতিতে নারী কেলেঙ্কারীতে সংশ্লিষ্ট থাকার প্রবণতায় ভুগতে দেখা যায়। এক সময় এমন জনপ্রতিনিধিরা ম্যানেজ করার গুণে উপজেলা ও থানা প্রশাসনের অন্ধ বিশ^াসের আওতায় থাকতো। এখন গণমাধ্যম সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনেক বেশি সক্রিয় থাকায় এমন বিশ^াসের আওতায় কেউ সাময়িক থাকতে পারে, তবে দীর্ঘ সময় থাকতে পারে না বলে মনে হচ্ছে।

    লক্ষ্য করা যায়  যে, একজন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোনোরূপ বিপথগামিতায় আইনের আওতায় আসলে অর্থাৎ পুলিশে আটক হলে ও দ-িত হলে বরখাস্ত হয়। তেমনটি জনপ্রতিনিধিদের বেলায় হওয়াটা বাঞ্ছনীয়। জনপ্রতিনিধিদেরকে তাদের শপথের সমান্তরালে নির্দিষ্ট আচরণবিধি মানায় বাধ্যবাধকতা আরোপ করা জরুরি বলে মনে করি। এক্ষেত্রে কোনোরূপ শৈথিল্য ও ঔদাসীন্য জনপ্রতিনিধিদের প্রতি অবৈধ আনুকূল্য প্রদর্শনের সামিল বলে আমাদের সুস্পষ্ট অভিমত।

 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬১৩৯৩৬
পুরোন সংখ্যা