চাঁদপুর, মঙ্গলবার ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ৩০ পৌষ ১৪২৬, ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর শহরে গৃহপরিচারিকার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬১-সূরা সাফ্‌ফ


১৪ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৭। যে ব্যক্তি ইসলামের দিকে আহূত হইয়াও আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে তাহার অপেক্ষা অধিক যালিম আর কে? আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।


 


ব্যবসায়ীদের নিজস্ব কোনো দেশ নেই। - জেফারসন।


 


 


যদি মানুষের ধৈর্য থাকে তবে সে অবশ্য সৌভাগ্যশালী হয়।


ফটো গ্যালারি
এক মুক্তিযোদ্ধার করুণ বিদায়
১৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


১৯৭১ সালে শিশু থাকাকালীনও যদি কেউ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়, তাহলে তার বয়স এখন প্রায় ষাট। আর কিশোর থাকাকালীন কেউ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলে তার বয়স এখন ষাটোর্ধ্ব। আর যুবক থাকাবস্থায় কেউ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলে তার বয়স এখন সত্তরোর্ধ্ব, আর মধ্য বয়সে অংশ নিলে তিনি এখন অশীতিপর কিংবা নবতিপর বৃদ্ধ। অবশ্য বৃদ্ধদের অধিকাংশই গতায়ু হয়েছেন, আর যারা জীবিত আছেন, তাঁদের অধিকাংশই বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন কিংবা অসুস্থতায় চলৎশক্তি বা বাকশক্তি হারিয়েছেন। বলা যায়, এমন কোনো দিন বা সপ্তাহ নেই, যে দিন বা সপ্তাহে চাঁদপুর কণ্ঠ সহ স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে কোনো না কোনো মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুসংবাদ ছাপা হচ্ছে না। এটা অতি স্বাভাবিক বিষয় হলেও উদ্বেগজনক। কারণ, মুক্তিযোদ্ধারা নীরবে নিভৃতে হারিয়ে যেতে যেতে একেবারে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছেন।



চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টর কমান্ডার মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলেছেন, আগামী প্রজন্ম মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শুনতে পারবে না। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধারা প্রায় সকলে বিদায় নিয়ে চলে যাবেন। তিনি শাহরাস্তি উপজেলা মুুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার রুহুল আমিনের মৃত্যু প্রসঙ্গে এ কথাগুলো বলেন। তাঁর এই কথাগুলো একেবারেই সত্য কথা।



জনাব রুহুল আমিনের দাফনের দু ঘন্টা আগে গত ১১ জানুয়ারি মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম শাহরাস্তিতে বহুল কাঙ্ক্ষিত মুক্তিযোদ্ধা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার রুহুল আমিন এই ভবনটি প্রতিষ্ঠায় চেষ্টা-তদবিরে ছিলেন অগ্রণী। কিন্তু দুর্ভাগ্য, ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিনেই তিনি সকল মায়ার বাঁধন ছিন্ন করে এ পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন। সেজন্যে তাঁর এমন বিদায়ে অপরিসীম কারুণ্য সৃষ্টি হয়েছে, যা সহযোদ্ধা সহ অনেককেই বিষাদ ভারাক্রান্ত করেছে।



সত্যি কথা বলতে কি, জন্মিলে মৃত্যুবরণ করতেই হবে-তিনি মুক্তিযোদ্ধা, অমুক্তিযোদ্ধা যে-ই হোন না কেন। বার্ধক্যজনিত কারণে মুক্তিযোদ্ধারা ক্রমশ হারিয়ে যাবেন-এটা স্বাভাবিক। এই হারিয়ে যাওয়া রোধের কোনো উপায় নেই। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিতে ধরে রাখার যথার্থ অনেক উপায় আছে। ভিডিওতে তাদের বক্তব্য ধারণ, সংরক্ষণ, তাঁদের জীবন ও কর্ম নিয়ে প্রকাশনার উদ্যোগ গ্রহণ, তাঁদেরকে সম্মাননা প্রদান, বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তাঁদের মুখ থেকে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ শোনা ইত্যাদি। আমরা যদি এমনটি না করি, তাহলে মূল্যবান দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা না দেয়ার সমতুল্য কাজই হবে বলে মনে করি।


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৮০৫৩৭
পুরোন সংখ্যা