চাঁদপুর, শনিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২ ফাল্গুন ১৪২৬, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৪-সূরা তাগাবুন


১৮ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৪। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে সমস্তই তিনি জানেন এবং তিনি জানেন তোমরা যাহা গোপন কর ও তোমরা যাহা প্রকাশ কর এবং তিনি অন্তযামী।


 


 


 


 


 


 


আমি অস্বীকার করছি না যে, মেয়েরা বোকা, মহান খোদা তাদের তৈরি করেছেন পুরুষদের জুরী হিসাবে।


-জর্জ ইলিয়ট।


 


 


স্বভাবে নম্রতা অর্জন কর।


 


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
এই সম্ভাবনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


'ছোট বলে ঘৃণা করো না, কুড়িয়ে রাখো'-এই প্রবাদ বাক্যটির কম-বেশি সত্যতা রয়েছে। ভারতের পশ্চিবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুর নামক জায়গায় প্রায় এক লক্ষ লোক পরচুলার রপ্তানিযোগ্য কাঁচামাল তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে। পরচুলা তৈরিতে যে চুল ব্যবহার করা হয়, সেটি কিন্তু পাট বা অন্য কিছুর অাঁশ দিয়ে তৈরি কৃত্রিম চুল নয়। মানুষ চুল অাঁচড়াতে গেলে চিরুণীর সাথে যে চুল ঝরে পড়ে, সেটি সংগ্রহ করে ধুুয়ে, মুছে, শুকিয়ে বিভিন্ন আকারে পরচুলায় সংযোজন করা হয়। সারা ভারত থেকে মানুষের ঝরে পড়া চুল সংগ্রহ করে সেটিকে উন্নত প্রক্রিয়ায় পরচুলার কাঁচামালে রূপান্তর করে পশ্চিমবঙ্গের ভগবানপুর এলাকার বিপুল সংখ্যক লোক, যা কিনা বিদেশে রপ্তানি হয়। বাংলাদেশের নীলফামারীর ইপিজেডে এবং অন্য কিছু স্থানে এই পরচুলা তৈরির কারখানা আছে। এসব কারখানা কর্তৃপক্ষ দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে মানুষের ঝরে পড়া প্রক্রিয়াজাত চুল সংগ্রহ করে এবং বিদেশ থেকেও আমদানি করে। চাঁদপুরেও মানুষের ঝরে পড়া চুল সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষুদ্র উদ্যোগের খবর চাঁদপুর কণ্ঠেই ছাপা হয়েছে।



নিঃসন্দেহে চুল একটি অপচনশীল মানববর্জ্য। কবরস্থানে কোনো কারণে কোনো কবর খুঁড়লে মানুষের মাংস ও হাড় পুরোপুরি পচে যেতে দেখা গেলেও চুলকে দেখা যায় অটুট। এতেই বোঝা যায় চুল কতোটা অপচনশীল। চুলের মতো ঝরে পড়া ক্ষুদ্র বস্তুকে ঘৃণা ছাড়া কুড়িয়ে রাখার কাজটি খুব কম লোকই করে। অথচ এ চুলকে কুড়িয়ে রাখলে সেটি যে কী কাজে লাগে তা উপরোক্ত বর্ণনাতেই স্পষ্ট।



আমাদের দেশে মিনারেল ওয়াটারসহ বোতলজাত সামগ্রী ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ার সাথে সাথে প্লাস্টিক বোতল হয়ে গেছে অপচনশীল বিরাট বর্জ্য। এর সাথে নিষিদ্ধ পলিথিন-বর্জ্যের চাপ তো রয়েছেই। এই কারণে আমাদের নদীসহ অন্যান্য জলাশয় এবং নালা-নর্দমায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত ও পানি দূষণসহ পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছে মারাত্মকভাবে। সৌদি আরবসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে ব্যবহৃত পলিথিন গারভেজ ট্রাকে বিদ্যমান মেশিনে গুঁড়ো করে ধ্বংস করার কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয় প্রতিনিয়ত। বাংলাদেশে এই কার্যক্রম নেই। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেসরকারি উদ্যোগে প্লাস্টিক বোতলসহ অন্যান্য প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের পদ্ধতি শুরু হওয়ায় বিপর্যস্ত পরিবেশে সম্ভাবনার সামান্য সুবাতাস হলেও বইতে শুরু করেছে। চাঁদপুরেও দেখা যাচ্ছে এমন বেসরকারি উদ্যোগ। এই উদ্যোগ নিয়ে বুধবার দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে একটি দৃষ্টি আকর্ষণী সংবাদ, যার শিরোনাম হয়েছে 'পুরাণবাজারে প্লাস্টিকের বর্জ্য থেকে তৈরি হচ্ছে পণ্য আসছে বৈদেশিক মুদ্রাও।' এই সংবাদে স্থানীয়ভাবে উক্ত বর্জ্যে সুতা উৎপাদন এবং বিভিন্ন পণ্য তৈরির কাঁচামাল হিসেবে উক্ত বর্জ্য ভারত, ভিয়েতনাম, কোরিয়া ও চীনে রপ্তানির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ছিন্নমূল, পথশিশু ও পরিচ্ছন্ন কর্মীরা প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে সেটি বিক্রি করে আয় করা এবং উক্ত বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজে কিছু নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের বিষয়টি সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।



নিঃসন্দেহে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহপূর্বক প্রক্রিয়াকরণের বেসরকারি উদ্যোগটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। এই উদ্যোগকে প্রণোদনা দিতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অতীব প্রয়োজন। এক্ষেত্রে স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণসহ অন্য কিছু করা যায় কিনা সে ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ভেবে দেখার জোর অনুরোধ জানাচ্ছি।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২১০১২৩
পুরোন সংখ্যা