চাঁদপুর, বুধবার ১ এপ্রিল ২০২০, ১৮ চৈত্র ১৪২৬, ০৬ শাবান ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ আরো ৯ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ২১৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৯-সূরা হাক্‌কা :


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


২৭। 'হায়! আমার মৃত্যুই যদি আমার শেষ হইত!


২৮। 'আমার ধন-সম্পদ আমার কোন কাজেই আসিল না।


২৯। 'আমার ক্ষমতাও বিনষ্ট হইয়াছে।'


 


 


assets/data_files/web

শ্রেষ্ঠ বইগুলি হচ্ছে শ্রেষ্ঠ বন্ধু।


-লর্ড চেস্টারফিল্ড।


 


 


 


 


নম্রতায় মানুষের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় আর কড়া মেজাজ হলো আয়াসের বস্তু অর্থাৎ বড় দূষণীয়।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
যেনো শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির আপাতত অবসান
০১ এপ্রিল, ২০২০ ১৬:০৪:৪৮
প্রিন্টঅ-অ+


    গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে চাঁদপুর কণ্ঠের চারপৃষ্ঠা এই প্রথম চার রঙে ছাপা হয়েছে। ওইদিন ছুটি পালন করায় ২৭ মার্চ চাঁদপুর কণ্ঠ প্রকাশিত হয়নি। তবে অনেক জাতীয় দৈনিক প্রকাশিত হয়েছে। চাঁদপুরের সংবাদপত্র বিক্রেতারা মনের কষ্টে মনে হয় জাতীয় দৈনিকগুলো সেদিন বিতরণ করেন এবং তারপর জেলা সদরের প্রধান সংবাদপত্র এজেন্টের মাধ্যমে সংঘবদ্ধভাবে স্থানীয় পত্রিকার মালিকদের জানিয়ে দেন যে, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে চলমান অঘোষিত লকডাউনের মধ্যে তারা ২৮ মার্চ হতে ঢাকা থেকে আনা জাতীয় দৈনিকগুলো যেমন বিলি করবেন না, তেমনি স্থানীয় দৈনিকগুলোও। ২৭ মার্চ জুমার নামাজ শেষে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এই বিষয়ে সংবাদপত্র এজেন্ট ও পত্রিকা বিক্রেতাদের সাথে মধ্যস্থতার জন্যে দুই ঘন্টার প্রয়াস চালান। কিন্তু তারা পত্রিকা বিলিতে রাজি হলেন না। শেষ পর্যন্ত তিনি এতোটুকু অনুরোধ জানান যে, অন্তত ২৮ মার্চ একটি ঘোষণা ছাপার সুযোগ দিয়ে স্থানীয় পত্রিকাগুলোকে তাদের প্রিন্টিং সংস্করণ বন্ধ করতে দেয়া হোক। সে অনুরোধটুকু তারা রক্ষা করতে পারবেন না বলে বিনয়ের সাথে জানিয়ে দেন।

    পত্রিকা বিক্রেতারা শুধু চাঁদপুর শহরে অনিচ্ছাকৃত কর্মবিরতিতে গেছেন এমনটি কিন্তু নয়। চাঁদপুর জেলায় সর্বাগ্রে ফরিদগঞ্জে এই কর্মবিরতি শুরু হয়, তারপর হাজীগঞ্জসহ অন্যত্র। তাদের কর্মবিরতিতে যাওয়াটা যৌক্তিক ও বাস্তবভিত্তিক। পত্রিকা বেশি কিনে অফিস-আদালত এবং দোকানপাট ও বাজারে আগত লোকজন। অঘোষিত লকডাউনে এমন লোকজন ঘর থেকে বের হয়নি বিধায় পত্রিকা বিক্রেতারা তাদের কাছে থাকা পত্রিকাগুলো বিক্রি করতে পারেনি। এমনকি বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে গ্রাহকদের পত্রিকা দিতে গিয়ে তারা মৃদু তিরস্কারের মুখোমুখি হয়েছেন এবং গ্রাহকদের অনেকে টাকার কাগুজে নোটের ন্যায় সংক্রমণের ভয়ে পত্রিকা পড়া থেকে বিরত থাকার কথা পত্রিকা বিক্রেতাদের জানিয়েছেন। এমনটি জানান দেয়ার পর পত্রিকা বিক্রেতারা পত্রিকা বিলি করতে গিয়ে কিছু অতি সচেতন গ্রাহক দ্বারা রীতিমত নিগৃহীত হয়েছেন। সেজন্যে উদ্ভূত পরিস্থিতিকে যৌক্তিক ও বাস্তবভিত্তিক ভেবে পত্রিকা বিক্রেতারা ২৮ থেকে ৩১ মার্চ কর্মবিরতি পালন করেছেন। অবশেষে তারাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভয়কে জয় করার প্রত্যয়ে ১ এপ্রিল ২০২০ থেকে অর্থাৎ আজ বুধবার থেকে চাঁদপুর শহরে ও আশেপাশের এলাকায় পত্রিকা বিলির সিদ্ধান্ত সংবাদপত্র এজেন্টের মাধ্যমে চাঁদপুরের স্থানীয় পত্রিকার মালিক-সম্পাদকগণকে জানিয়েছেন। এদিকে তথ্যমন্ত্রী গত সোমবার সংবাদপত্রসহ অন্যান্য গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে সভা করেছেন এবং প্রকাশনা অব্যাহত রাখতে সরকারের পক্ষে পাশে দাঁড়াবার ঘোষণা দিয়েছেন।

    অঘোষিত লকডাউন আপাতত চলবে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত। করোনা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এটির মেয়াদ আরো বাড়তে পারে, আবার বাড়তে নাও পারে। এমন পরিস্থিতিতে চাঁদপুর কণ্ঠ অনলাইন সংস্করণ অব্যাহত রাখার পর আজ থেকে প্রিন্টিং সংস্করণ প্রকাশ করতে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে আপাতত যেনো এক শ^াসরুদ্ধকর পরিস্থিতির অবসান হতে যাচ্ছে।

    সংবাদপত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০৪০ সালের পর বিশে^র কোথাও আর সংবাদপত্রের মুদ্রিত সংস্করণ দেখা যাবে না। সব সংবাদপত্রই হয়ে যাবে অনলাইন। বিশেষজ্ঞদের এমন অভিমতে আপাতত একাত্ম হতে না পেরে বলছি, একটি সংবাদপত্রের প্রিন্টিং ও অনলাইন সংস্করণ দুটোরই দু ধরনের গুরুত্ব আছে। প্রিন্টিং সংস্করণের আবেদনকে অনলাইন সংস্করণের আবেদন দিয়ে ঢাকা যায় না, আবার অনলাইন সংস্করণের গুরুত্বকে প্রিন্টিং সংস্করণ দিয়ে বোঝানো যায় না। আপদকালীন সময়ে অনলাইন সংস্করণ কম ঝুঁকিপূর্ণ এটা এটা যেমন ঠিক, তেমনি এর দৃশ্যমান আঙ্গিক সাধারণ্যে সহজসাধ্য নয় বলে এর আবেদন যথাযথভাবে পরিস্ফুট হয় না। পাঠক সমাজে একটা পত্রিকাশূন্যতাই কাজ করে যেনো প্রতিনিয়ত। আমরা মহান আল্লাহর দরবারে এই প্রার্থনা জানাচ্ছি যে, বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি যেনো না হয়। এই প্রার্থনা কবুল হলে চাঁদপুর কণ্ঠ সহ দেশের অনেক সংবাদপত্রকেই প্রিন্টিং সংস্করণ বের করতে না পারার শ^াসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব হবে বলে আমরা মনে করি।


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৪৩৩৯৪
পুরোন সংখ্যা