চাঁদপুর, শুক্রবার ৩১ জুলাই ২০২০, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৭, ৯ জিলহজ ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭২-সূরা জিন্ন্


২৮ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


২৪। যখন উহারা প্রতিশ্রুত শাস্তি প্রত্যক্ষ করিবে, বুঝিতে পারিবে, কে সাহায্যকারীর দিক দিয়া দুর্বল এবং কে সংখ্যায় স্বল্প।


২৫। বল, 'আমি জানি না তোমাদিগকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হইয়াছে তাহা কি আসন্ন, না আমার প্রতিপালক ইহার জন্য কোন দীর্ঘ মেয়াদ স্থির করিবেন।'


 


 


ভিক্ষাবৃত্তি পতিতাবৃত্তির চেয়েও খারাপ।


-লেলিন।


 


দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞানচর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


 


 


ফটো গ্যালারি
পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা
৩১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মুসলিম উম্মাহর দুটি বৃহৎ ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে পবিত্র ঈদুল আযহা একটি। যা আগামীকাল ১০ জিলহজ্ব ১ আগস্ট শনিবার বাংলাদেশে উদ্যাপিত হবে। চাঁদপুর জেলাবাসীকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা। ইতঃমধ্যে ধর্মপ্রাণ মুসলমান ঈদ উদ্যাপনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তবে এবারের ঈদ উদ্যাপনে সম্পূর্ণ ভিন্নতা থাকবে। যেমনি ঈদুল ফিতরেও ছিলো। বিশ্বব্যাপী চলমান মহামারী করোনাভাইরাস থেকে রক্ষায় এ ভিন্নতা। ঈদের জামাতসহ কোরবানির পশু জবাইতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে ঈদের নামাজের পর এবং ঈদের অন্য সময়েও এক মুসলমান অপর মুসলমানের সাথে প্রথম দেখায় কোলাকুলি করাটা অন্যতম অনুষঙ্গ। কিন্তু করোনায় তা নিষিদ্ধ। তাছাড়া ঈদ জামাতেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরুত্ব বজায় রাখতে হবে। আর ঈদ জামাত করতে হবে মসজিদে। কোনো খোলা জায়গায় করা যাবে না।



জিলহজ্ব মাস শুধু ঈদুল আযহাই নয়, হজ্বের মতো ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক একটি বিষয়ও জড়িয়ে আছে। সামর্থ্যবান মুসলমানরা অর্থাৎ যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়েছে তারা এখন কোরবানির উপযুক্ত হালাল পশু কিনতে ব্যস্ত। অনেকেই কিনে ফেলেছেন, আর যারা এখনো কিনেননি, তারা আজকের মধ্যে কিনে ফেলবেন। এর মাঝে ইবাদতের পাশাপাশি নির্মল আনন্দও রয়েছে। তবে ইবাদতটিই যেনো মুখ্য উদ্দেশ্য হয়। আর আনন্দ লাগবে এজন্যে যে, রাব্বুল আলামিন আমাকে আর্থিক সামর্থ্য দিয়েছেন কোরবানি দেয়ার জন্যে, তাই আমি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কোরবানির উপযুক্ত হালাল পশু ক্রয় করতে পেরেছি সে শোকরিয়ায় আনন্দ উপভোগ করা।



পবিত্র ঈদুল আযহার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য যে কীরূপ তা আমরা অনেকেই বুঝি না, বুঝতেও চাই না, অনুভবও করি না। আমরা অনেকেই মনে করি যে, শুধুমাত্র পশু কোরবানি করাটাই হচ্ছে ঈদুল আযহার সবকিছু। এখানে যে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মহান ইবাদতের বিষয় রয়েছে, তা আমাদের অনেকের কাছ থেকেই যেনো হারিয়ে যাচ্ছে। যেমন আমরা কে কত দামী পশু ক্রয় করবো সে প্রতিযোগিতায় মেতে উঠি। কিন্তু একবারও আমরা কি কেউ ভাবি যে, আমি যে অর্থ দিয়ে কোরবানির জন্যে পশুটি ক্রয় করছি, সে অর্থ কতটুকু হালাল অর্থাৎ বৈধ পন্থায় উপার্জিত? আরো একটি অন্তর্নিহিত বিষয় হচ্ছে, মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম তাঁর প্রাণাধিক প্রিয় বস্তু আল্লাহর রাহে কোরবানি দিতে খোদায়ী ইঙ্গিতকে নিজের একমাত্র সন্তান ইসমাইল আলাইহিস সালামকে নির্বাচিত করলেন, আর তা আল্লাহ কবুল করলেন এবং নবী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ যে খোদায়ী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন, তার বদৌলতে রাব্বুল আলামিন জিব্রাইল ফেরেশতার মাধ্যমে বেহেশত থেকে দুম্বা পাঠিয়ে দিয়ে নবী ইসমাইল আলাইহিস সালামের পরিবর্তে দুম্বাকে কোরবানি দিয়ে নবী ইসমাইলকে রক্ষা করলেন। খোদায়ী পরীক্ষায় পিতা-পুত্র উভয়েই উত্তীর্ণ হলেন। আর এই নবী ইসমাইল আলাইহিস সালামের বংশের ধারায়ই আমরা আমাদের প্রিয় নবী আল্লাহর প্রিয় হাবীব হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পেয়েছি। প্রিয় বান্দাকে এতো পরীক্ষার মাঝে রাব্বুল আলামিনের কতই না কৌশল নিহিত তার ছিটেফোঁটাও যেনো আমরা একটু অনুভব করি। কোরবানির আরো বহু অন্তর্নিহিত দিকগুলোর মধ্য থেকে চুম্বক এ কটা দিক যেনো আমাদের অন্তরে জাগরূক থাকে, তাহলেই এ কোরবানি ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে।



ঈদুল আযহা জিলহজ মাসে এটা আমরা সবাই জানি। তাই এখানে ঈদুল আযহার সাথে আরো একটি মহান এবং শ্রেষ্ঠ ইবাদত যে জড়িয়ে আছে, সেটি আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। সেটি হচ্ছে পবিত্র হজ। মুসলমান বলতেই তার আমৃত্যু লালিত স্বপ্ন থাকে জীবনে একবার হলেও হজ ভাগ্যে জোটা। যা তাওয়াফে বায়তুল্লাহ ও জেয়ারতে মাদিনা মোনাওয়ারাসহ হজের আরো আহকাম পালনের মধ্য দিয়ে আদায় হয়ে থাকে। আর যে মুসলমানের ভাগ্যে হজ জুটেনি, সে মুসলমান উকুফে আরাফা অর্থাৎ আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের দিন তথা ৯ জিলহজ ফজর নামাজ থেকে শুরু করে ১৩ জিলহজ আছর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের সালাম ফিরিয়ে তাকবীরে তাশরীক পাঠ করবে, এটা ওয়াজিব। পৃথিবীর যে প্রান্তেই মুসলমান থাকুক না কেনো, এই তাকবীরে তাশরীক আদায়ের দ্বারা মুসলমান কিছুটা হলেও হজের কাজের সাথে শামিল হতে পারলো। ঈদের জামাতে যখন যাবে তখনও তাকবীর পাঠ করবে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে-প্রিয় নবীজির হাদিস মতে যে পাঁচটি মহিমান্বিত রাতে বান্দার দোয়া আল্লাহ কবুল করেন, তার মধ্যে ঈদুল আযহার রাত একটি। এটিও আমরা অবৈধ আনন্দের আতিশয্যে বেমালুম ভুলে যাই।



পরিশেষে মুসলিম উম্মাহর কাছে আহ্বান এটাই যে, আমরা যেনো ঈদুল আযহাসহ প্রতিটি ধর্মীয় উৎসবকে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে ইসলামী বিধিবিধানকে অনুসরণ করে ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখি। নিছক কোনো আনন্দ উৎসবে যেনো পরিণত না হয়। আর কোভিড-১৯ নামক মহামারী থেকে যেনো পরম করুণাময় রাব্বুল আলামীন আমাদের মুক্তি দেন সে দোয়াটি যেনো আমরা খালেছভাবে ঈদের রাতের এবং ঈদের জামাতে নামাজ শেষে দুই হাত তুলে দু চোখের পানি ফেলে করি। এসব ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনের মধ্য দিয়ে সমাজও যেনো পরিবর্তন হয়, এর প্রভাব যেনো সমাজে পড়ে। কোনো ইবাদতই যেনো লোক দেখানো না হয়। আমাদের এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, আমরা সৃষ্টির সেরা জীব। আর এর সার্থকতা তখনই, যখন আমাদের মাঝে মানবিক মূল্যবোধ সবসময় জাগ্রত থাকবে।



 


এই পাতার আরো খবর -
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ২,৫৫,১১৩ ১,৯৫,৬২,২৩৮
সুস্থ ১,৪৬,৬০৪ ১,২৫,৫৮,৪১২
মৃত্যু ৩৩৬৫ ৭,২৪,৩৯৪
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৮৯২০০
পুরোন সংখ্যা