চাঁদপুর, বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১ আশ্বিন ১৪২৭, ২৭ মহররম ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭৬-সূরা দাহ্র বা ইন্সান


৩১ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬। এমন একটি প্রস্রবণ যাহা হইতে আল্লাহ্র বান্দাগণ পান করিবে, তাহারা এই প্রস্রবণকে যথা ইচ্ছা প্রবাহিত করিবে।


৭। তাহারা কর্তব্য পালন করে এবং সেই দিনের ভয় করে, যেই দিনের বিপত্তি হইবে ব্যাপক।


 


 


অশিক্ষিত সন্তানের চেয়ে সন্তান না থাকাই ভালো।


-জন হে উড।


 


 


 


কবরের উপর বসিও না এবং উহার দিকে মুখ করিয়া নামাজ পড়িও না।


 


 


ফটো গ্যালারি
মসজিদের প্রবেশ মুখে গ্যাসের রাইজার!
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির কথা অধিকাংশ দেশবাসীরই জানা। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকাল পৌনে ৯টায় এই ট্র্যাজেডির সূত্রপাত। ওই সময় ঢাকার সাভারে 'রানা প্লাজা' নামে একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ে। এর ক'টি তলা মাটির নিচে দেবে যায় এবং বাকি অংশ পাশের একটি ভবনের ওপরে গিয়ে পড়ে। এ দুর্ঘটনাটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচে' বড় এবং বিশ্বের ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। এই দুর্ঘটনায় ১১শ' ৭৫ জন শ্রমিক নিহত এবং দু সহস্রাধিক মানুষ আহত হয়। ভবনটিতে ফাটল থাকার কারণে এটি না ব্যবহারের সতর্কতা জারি থাকলেও শাসক দলের সাথে সংশ্লিষ্ট মালিক অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে সেটি ঝুঁকি নিয়েই ব্যবহার করে চলছিলো। যার ফলে অনিবার্য পরিণতি হিসেবে ভবন ধসের ঘটনাটি ঘটে এবং জানমালের বড় ক্ষতি সাধিত হয়। এই দুর্ঘটনার পর সরকার সারাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা করার জন্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দেয়। তড়িঘড়ি করে তালিকাও তৈরি করা হয়। অনেকে শত্রুতা উদ্ধারের জন্যে অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ ভবনকেও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করিয়ে দেয় এবং উৎকট উল্লাসে লিপ্ত হয়। ফলে বিতর্কিত তালিকায় বিপত্তিহেতু বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভাঙ্গার কিংবা পরিত্যক্ত ঘোষণার ব্যাপারে সরকারের কঠোর মানসিকতা শিথিল হয়। এমনকি এ সংক্রান্ত পদক্ষেপ থেমে যায়।



এভাবে আমাদের দেশে কোনো ক্ষেত্রে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেই অনুরূপ দুর্ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে সে ব্যাপারে নানামুখী পদক্ষেপ বিশেষজ্ঞ মতামত ও তদন্ত কমিটির সুপারিশকে প্রাধান্য দিয়ে বাস্তবায়ন করা হয় কিংবা নিতান্তই উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু উক্ত দুর্ঘটনার চেয়ে অন্য ক্ষেত্রে বড় আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটলে উপরোক্ত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। যেমন নৌ-দুর্ঘটনার পর লঞ্চসহ সকল নৌযানের ফিটনেস, যাত্রীধারণ ক্ষমতা ইত্যাদি নিয়ে কথা উঠে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার জোর তাগিদ তৈরি হয়। এমতাবস্থায় যদি ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে যায়, তাহলে প্রাগুক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও তাগিদ হাওয়া হয়ে যায়। শুরু হয় রেল নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি এবং অনেক কিছু করে ফেলা কিংবা পরিবর্তন করার তাগিদ। বস্তুত একটি দুর্ঘটনা ঘটলে আরেকটি দুর্ঘটনার কথা বেমালুম ভুলে যাওয়া এবং করণীয় সম্পর্কে উদাসীন হওয়া আমাদের অতি সাধারণ বাঙালি মানসিকতা। এই মানসিকতা আম জনতা ধারণ করলেও সরকারের ধারণ করা উচিত হয়। কিন্তু আম জনতার মানসিকতা দুঃখজনকভাবে সঞ্চারিত হয় সরকারের মধ্যেও। এটাই হচ্ছে বড় সমস্যা।



গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম তল্লায় অবস্থিত বায়তুস সালাত জামে মসজিদে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে নামাজরত পঞ্চাশ জনের মধ্যে ৩৭ জন গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়, যাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। ইতিমধ্যে ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ ত্রিশের অধিক মৃত্যুবরণ করেছেন। এই ঘটনার কারণ হিসেবে মসজিদের মেঝের নিচে বিদ্যমান গ্যাস লাইনের লিকেজকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এই লিকেজ সারাতে পঞ্চাশ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়াসহ অন্যান্য অবহেলার দায়ে তিতাস গ্যাসের সংশ্লিষ্ট সকলকে বরখাস্ত করা হয়েছে।



দেশে সংঘটিত সাম্প্রতিক সকল দুর্ঘটনার মধ্যে মর্মান্তিকতা বিবেচনায় নারায়ণগঞ্জের গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনাটি খুবই আলোচিত এবং করুণ ও বেদনাবহ ঘটনা। এ ঘটনা এবং তৎপ্রেক্ষিতে তিতাস গ্যাসের লোকজনের বরখাস্তের ঘটনায় অন্যান্য গ্যাস কোম্পানি নড়েচড়ে বসেছে, পত্রিকাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জনগণকে সচেতন করছে, যাতে সকল ধরনের গ্যাসজনিত দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। সে আলোকে জনগণ যে কম-বেশি সতর্ক হয়েছে, তার প্রমাণ মিলেছে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক কার্যালয় সংলগ্ন বায়তুল আমান জামে মসজিদের প্রবেশ মুখে বিদ্যমান গ্যাসের রাইজারের প্রতি বিশেষ নজর দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যমে। এটি নিয়ে সোমবার চাঁদপুর কণ্ঠে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ সংবাদে লিখা হয়েছে, চেয়ারম্যানঘাট এলাকার জনৈক ফারুকের বাসায় গ্যাস সংযোগের পাইপ লাইন মসজিদের নিচে দিয়ে গেছে, যেটির রাইজার মসজিদের প্রবেশ পথে সিঁড়ির মধ্যে অবস্থিত। এটা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। এই উদ্বেগ নিরসনে গ্যাসের রাইজার সরানোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে মসজিদ কমিটি, মুসলি্ল ও স্থানীয় জনগণ বাখরাবাদ গ্যাস কোম্পানির আশু দৃষ্টি কামনা করছে। আমরাও তা-ই করছি। আমরা মনে করি, এতে সময়ের এক ফোঁড়ে দশ ফোঁড়ের কাজই হবে।



 


এই পাতার আরো খবর -
করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৩,৩৯,৩৩২ ২,৯২,০১,৬৮৫
সুস্থ ২,৪৩,১৫৫ ২,১০,৩৫,৯২৬
মৃত্যু ৪,৭৫৯ ৯,২৮,৬৮৬
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৩৩৮৬১
পুরোন সংখ্যা