চাঁদপুর। শনিবার ২ ডিসেম্বর ২০১৭। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯
kzai
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে মাসুদ রানা হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদন্ড ,, জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. শফিকুর রহমান ভুঁইয়া, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক কাজী গোলাম মোস্তফাকে আটক করেছে পুলিশ || বিক্ষোভ চলাকালে বিএনপি নেতা শফিকুর রহমান ভূঁইয়াসহ আটক ৫
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩২-সূরা আহযাব

৭৩ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

০৫। তোমরা তাহাদিগকে ডাক তাহাদের পিতৃ-পরিচয়ে; আল্লাহর দৃষ্টিতে ইহা অধিক ন্যায়সংগত। যদি তোমরা তাহাদের পিতৃ-পরিচয় না জান তবে তাহারা তোমাদের দীনি ভাই এবং বন্ধু । এই ব্যপারে তোমরা কোন ভুল করিলে তোমাদের কোন অপরাধ নাই; কিন্তু তোমাদের অন্তরে সংকল্প থাকিলে অপরাধ হইবে, আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


যারা আত্মপ্রশংসা করে খোদা তাহাদের ঘৃণা করেন।  

-সেন্ট ক্লিমেন্ট।




প্রভু, তুমি যেমন আমার আকৃতি পরম সুন্দর করে গঠন করেছো, আমার স্বভাবও তদ্রূপ সুন্দর করো।


ফটো গ্যালারি
কোরআন ও হাদিসের আলোকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
মাওঃ মোঃ মোশাররফ হোসাইন
০২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সকল প্রশংসা আল্লাহ জাল্লা মাজদুহুল করীম উনার জাতে পাকে এবং অসংখ্য দূরুদ সালাত সালাম নবীয়ে আকরাম, শাফিয়ে উমাম, নবীয়ে মুহতারাম, সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন, খতামান নবীঈন, নূরাল মুজাসসাম, হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পাক কদমে এই অধমের পক্ষ থেকে। প্রথমে জেনে নেয়া প্রয়োজন পবিত্র 'ঈদে মীলাদুন নবী' ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি?



ঈদ শব্দের আভিধানিক অর্থ হল খুশী হওয়া বা খুশী প্রকাশ করা, ফিরে আসা, আনন্দ উদযাপন করা ইত্যাদি। আর 'মীলাদুন নবী' সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনকে বুঝায়। 'ঈদে মীলাদুন নবী' সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনে খুশী প্রকাশ করাকে বুঝায়। অর্থাৎ অশান্তি আর বর্বরতায় ভরপুর সংঘাতময় আরবের বুকে, আধারের বুক চিড়ে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ' নবী ও রসূল হুযুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি শান্তি নিয়ে যেদিন জমিনে এসেছিলেন মানবজাতিকে সত্যের, সভ্যতা ও ন্যায়ের দিক নির্দেশনা দিয়ে গোটা বিশ্বকে শান্তিতে পরিপূর্ণ করে তুলতে সেই দিনকেই পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলা হয়। আর এই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র শুভাগমনে খুশী উৎযাপন করাটাই হচ্ছে 'ঈদে মীলাদুন নবী' সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সূরত। যেমনঃ [ميلاد] ] শব্দের অর্থ হচ্ছে জন্ম, আর [عيد ميلاد] অর্থ জন্মদিন, আর যখন তা [عيد ميلاد النبي] অর্থাৎ নবীর জন্মদিন। এবার বলুন তো ঈদে মিলাদ উন নবীর অর্থ হচ্ছে নবী যেদিন জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাহলে সেই দিন কি খুশির নয়? আপনি কি আপনার জীবনের স্বরণীয় দিনগুলকে স্মরণ করে খুশী হন না?



যারা বলে সেই দিনে খুশি হলে বিদয়াত? হারাম? তাদেরকে বলতে হয় যে, পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা শুনলে যারা খুশি হওয়া বা আনন্দ করাকে বিদয়াত বলে, তারাই হচ্ছে ইবলিশ শয়তান, কারন শয়তান তার জীবনে ৪বার খুব কেঁদেছিলো, তার মধ্যে মীলাদুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দিন ছিলো অন্যতম!



যে সকল ওহাবী/দেওবন্দী/আহলে হাদিস/খারেজী/লা মাজহাবি/সালাফি যারা পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরোধীতা করে তারা যে ইচ্ছায় অনিচ্ছায় ইবলিশ শয়তানের গোলামী করে ইবলিশের সুন্নত পালন করে, তার কান্নার দিবসে খুশি হয়ে তার বিরোধিতা না করে ক' পায় তারাই ইবলিশের কায়িম মাকাম। আর এই বিষয়ে এটা একটা প্রামান্য দলীল



সাইয়্যিদুল মুরসালিন ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফে সব চাইতে বেশি ক' পেয়েছিলো কে জানেন?



সব চাইতে বেশি ক' পেয়েছিলো ইবলিশ শয়তান। সে এতোটাই ক' পেয়েছিল যে, ক'ে সে রীতিমত কান্না আর বিলাপ করেছে। এ প্রসঙ্গে কিতাবে বর্ণিত আছেঃ



ইবলিশ শয়তান চার বার উচ্চস্বরে কেঁদেছিল। প্রথম বার যখন সে খালিক, মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে মালউন বা চির অভিশপ্ত বলে সাব্যস্থ হয়। দ্বিতীয়বার যখন তাকে মহাসম্মানিত বেহেস্ত থেকে বের করে দেয়া হয়। তৃতীয়বার, যখন সাইয়্যিদুল মুরসালিন ইমামুল মুরসালিন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুরপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ হয়এবং চতুর্থবার যখন পবিত্র সূরা ফাতেহা শরীফ নাযীল হয়।



দলীলঃ- আল-বেদায়া ওয়ান নেহায়াঃ- ২য় খ- ১৬৬ পৃষ্ঠা।



এখন বর্তমান সমাজে মানুষ রূপী কিছু ইবলিশ আছে, যারা মীলাদুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা শুনলেই এদের শরীর জ্বালা পোড়া করে। সূতরাং প্রমান হচ্ছে, যারা ঈদে মীলাদুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরোধী তারা মূলত শয়তানের উম্মত। কারন এদিনে শয়তান ক' পেয়েছিলো এখন তার উম্মতরা ক' পাচ্ছে।



শুধু তাই নয় বরং যেসব মানুষ নিজেকে মুসলমান বলে দাবি করেও অপপ্রচার করছে যে, ঈদে মীলাদুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা বিদয়াত/হারাম। নাউযুবিল্লাহ!!! তাদের কাছে যখন দলিল চাওয়া হয় যে আপনারা বিদয়াত/হারাম কোথায় পেলেন? তখন অনেকে অজ্ঞতা আর মূর্খতার কারণে বলে থাকে যে জন্মদিন পালন করা খ্রিস্টানদের রীতি-নীতি? নাউযুবিল্লাহ কিন্তু তাদের কাছে দলিল চাইলে তারা কখনোই তা দিতে সক্ষম হয়না, যে ইহা বিদয়াত বা খ্রিস্টানদের কালচার। আমি এদের অনেক কে জিজ্ঞেস করেছি যে, খ্রিস্টানেরা কবে থেকে জন্মদিন পালন করে, আর মুসলমানেরা কবে থেকে জন্মদিন পালন করে এর দলিল দাও। কিন্তু মূর্খদের দাঁতে দাঁত লেগে গেছে। সেই বিদয়াত বলনে ওয়ালা বিদয়াতিরা আর কথা বলতে পারেনি।



একজন আমাকে বিদয়াতের ভুলভাল সংজ্ঞা দিয়ে বললো ভাই, ঈদে মীলাদুন নবী পালন করা যাবে না। এটা বিদয়াত। আমি বলছিলাম যে ভাই, জন্মদিন পালন করা নব্য উদ্ভাবিত আমল এই কথা পেলেন কোথায়? একবার বলেন, জন্মদিন পালন করা খ্রিস্টানদের রীতিনীতি। এখন বলছেন, জন্মদিন পালন করা নব্য উদ্ভাবিত আমল। আপনার দলিলহীন কোন কথাকেই আমি সত্য বলে মেনে নিতে পারছি না। উপরন্তু আমি যদি দলিল দিয়ে প্রমাণ দেখাতে পারি যে, স্বয়ং নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার জন্মদিন পালন করতেন তখন ফায়সালা কি হবে? লোকটা চুপ করে গেল। মনে মনে কি যেন ভেবে দ্বিগুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে বললো, আগে প্রমাণ দেখান। তারপর ফায়সালা হবে। বাহ্! খুব ভালো কথা। আসেন তাহলে কুরআন শরীফ এবং সহীহ হাদিস শরীফের দলিল দেখে মিলিয়ে নেই।



কুরআন শরীফ অনুসারে সর্বপ্রথম মহান আল্লাহপাক জন্মদিনের শুভেচ্ছা দেন এবং সেই অনুসারে জন্মদিনের শুভেচ্ছা ইসলামিক পন্থায় দেয়া হলো মহান আল্লাহ পাক উনার সুন্নত এবং যে কেউ জেনেশুনে, বোঝে, ইহাকে ইহুদী নাসারার কালচার বলবে সে মহান আল্লাহ পাককে তা বলবে এবং মহান আল্লাহ পাককে বলার অর্থই হচ্ছে সে মুরতাদ হয়ে যাওয়া।



মহান আল্লাহ পাক বলেনঃ উনার (ইয়াহিয়া আলাইহিস সালাম) প্রতি সালাম-যেদিন উনি বিলাদত শরীফ লাভ করেছেন এবং যেদিন উনি বিছাল শরীফ লাভ করবেন এবং যেদিন জীবিতাবস্থায় পুনরুত্থিত হবে।



আমার (ইসা আলাইহিস সালাম) প্রতি সালাম যেদিন আমি বিলাদত শরীফ লাভ করেছি, যেদিন বিছাল শরীফ লাভ করবো এবং যেদিন পুনরুজ্জীবিত হয়ে উত্থিত হব। পবিত্র সূরা মারিয়াম আলাইহাস সালামঃ ১৯ আয়াত শরীফ-১৫/৩৩।



আর হাদিস শরীফে হযরত আবু কাতাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন যে, বাংলা অর্থঃ মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, 'ইয়া রসুলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি সোমবারের দিন কেন রোযা রাখেন?' মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করলেন, 'ওই দিন আমার বিলাদত (জন্ম) শরীফ হয় এবং ওই দিনই আমার উপর ওহী মুবারক নাযিল হয়'। সুবহানআল্লাহ!



১ মুসলিম শরীফ, বুক ৬, রোজা অধ্যায়, ভলিউম ৭, পৃষ্ঠা ৩২৩, হাদিস শরীফ নং ২৮০৭,২ সুনান আল কুবরা লিল বায়হাকী শরীফ, ভলিউম ৪, পৃষ্ঠা ২৮৬। ৩ মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক শরীফ, ভলিউম ৪, পৃষ্ঠা ২৯৬, হাদিস শরীফ ৭৮৬৫। ৪ সুনান আবু দাউদ শরীফ, ভলিউম ৭,পৃষ্ঠা ২৫৫, হাদিস শরীফ ২৪২৮। ৫ সুনানে বায়হাকী [কুবরা], হাদীছ শরীফ নং-৮২১৭। ৬ ইবনে খুজাইমা, হাদীছ শরীফ নং-২১১৭। ৭ মুসনাদে আবি আওয়ানা, হাদীছ শরীফ নং-২৯২৬। ৮ মুসনাদে আহমাদ, হাদীছ শরীফ নং-২২৫৫০।



আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনা শরীফের জীবনে বকরী জবেহ করে ফকির-মিসকিনদের মাঝে তা বন্টন করে দিয়ে নিজের আগমন দিবস পালন করেছেন। এই জন্য যে, মহান আল্লাহ পাক উনাকে সমগ্র জাহানের জন্য রহমত বানিয়ে পাঠিয়েছেন। আর এর মাধ্যমে তিনি এই জন্মদিন-এর উদ্যাপনকে উনার উম্মতের জন্য শরীয়ত সম্মত করে দিয়েছেন। ইমাম জালালউদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহী আলাইহি তিনি উনার 'আল-হাবী' নামক কিতাবের মিলাদ অধ্যায়ে এ সম্পর্কিত হাদীস শরীফ বর্ণনা করেছেন।



৯ম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ ইমাম সুয়ুতী আল হাবিলুল ফাতোয়া ১ম খন্ড ১৯৬ পৃষ্ঠা। ইমাম সুয়ুতী হুসনুন মাকাসিদ ফি আমালিল মওলিদ ৬৫ পৃষ্ঠা ইমাম নাবহানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি হুজ্জাতুল্লাহে আলাল আলামীন ২৩৭ পৃষ্ঠা। আর সাহাবায় কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ খুলাফায় রাশিদিন আলাইহিমুস সালামগণ ঈদে মীলাদুন নবী পালন করেছেন এবং পালনের পক্ষেও বলেছেন, যেমনঃ-



মক্কা শরীফের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস, ইমামুল মুহাদ্দেসিন আল্লামা শিহাব উদ্দিন আহমদ ইবনে হাজার আল হায়তামী আশশাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি আলাইহি (যার জন্ম ৮৯৯ হিজরী, ইনতিকাল ৯৭৪ হিজরী) উনার লিখিত 'আন নেয়মাতুল কুবরা আলাল আলাম' কিতাবের মধ্যে নিম্নোক্ত হাদীস গুলো তিনি বর্ণনা করেন-



১) হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম আনহু বলেন- 'যে ব্যক্তি মীলাদুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষ্যে এক দিরহাম ব্যয় করবে সে জান্নাতে আমার বন্ধু হয়ে থাকবে।'



২) হযরত উমর ফারূক আলাইহিস সালাম বলেন 'যে ব্যক্তি মীলাদুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে (বিলাদত দিবসকে) বিশেষ মর্যাদা দিল সে মূলতঃ ইসলামকেই পূনরুজ্জীবিত করল।'



৩) হযরত ওসমান যুন্নুরাইন আলাইহিস সালাম বলেন- 'যে ব্যক্তি মীলাদুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষ্যে এক দিরহাম খরচ করল সে যেন বদর ও হুনায়েন যুদ্ধে শরীক থাকল।'



৪) হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম বলেন- 'যে ব্যক্তি মীলাদুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি বিশেষ মর্যাদা প্রদান করল সে ব্যক্তি অবশ্যই ঈমান নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবে এবং বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।'



আল্লামা ইউসুফ নাবহানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার 'জাওয়াহেরুল বিহার' কিতাবের ৩য় খ-ের ৩৫০ পৃষ্ঠায় উপরে উলি্লখিত বর্ণনা উপস্থাপন করে বলেছেন যে, আমার উপরোক্ত হাদীস শরীফ সমূহের সনদ জানা রয়েছে। কিন্তু কিতাব বড় হয়ে যাবার আশঙ্কায় আমি সেগুলো অত্র কিতাবে উল্লেখ করিনি।



আর সাহাবায়ে কিরাম রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ সব সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মিলাদ শরীফ পাঠ করতেন যেমনঃ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে- অর্থঃ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উঁনার থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি একদা উনার নিজ গৃহে সমবেত ছাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণকে মহান আল্লাহ পাক উঁনার হাবীব হুযূর পাঁক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার বিলাদত শরীফ (মীলাদুন নবী)-এর ঘটনাসমূহ শুনাচ্ছিলেন। এতে শ্রবণকারীগণ আনন্দ ও খুশি প্রকাশ করছিলেন এবং মহান আল্লাহ পাক-উনার প্রশংসা তথা তাসবীহ-তাহলীল পাঠ করছিলেন এবং মহান আল্লাহ পাঁক উঁনার হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার শানে ছলাত-সালাম (দুরূদ শরীফ) পাঠ করছিলেন। এমন সময় হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিঁনি সেখানে উপস্থিত হলেন। (তিনি যখন উপস্থিত হলেন সমবেত লোকজন দাঁড়িয়ে উনাকে সালাম পেশ করতঃ অভ্যর্থনা বা স্বাগত জানিয়ে আসনে বসালেন) তিনি লোকজনের মীলাদ শরীফ-এর অনুষ্ঠান এবং বিলাদত শরীফ-এর কারণে খুশি প্রকাশ করতে দেখে উনাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমাদের জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব।



দলিল সূত্রঃ কিতাবুত তানবীর ফী মাওলিদিল বাশীর ওয়ান নাযীর, সুবুলুল হুদা ফী মাওলিদে মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হাক্বীক্বতে মুহম্মদী ও মীলাদে আহমদী পৃষ্ঠা-৩৫৫।



হযরত ফারূকে আজম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত অর্থঃ- 'হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেছেন, হযরত আদম আলাইহিস সালাম যখন দুনিয়াতে তাশরীফ আনেন তখন তিনি সবসময় কান্নাকাটি করতেন। একদিন তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকটে আরজ করলেন, হে মহান আল্লাহ! পাক 'মুহম্মদ' ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ওসীলা নিয়ে আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। তখন ওহী মুবারক নাজীল হলোঃ- 'মুহম্মদ' ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আপনি কিভাবে চিনলেন, আপনি তো উনাকে কখনো দেখেননি? তখন তিনি বললেন-যখন আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, আমার অভ্যন্তরে রূহ প্রবেশের পর মাথা তুলে আমি আরশে লেখা দেখলাম- 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ।' তখনই আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, 'মুহাম্মদ' ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চেয়ে সর্বাধিক প্রিয় ব্যক্তিত্ব আর কেউ নেই যার নাম আপনি স্বীয় নামের সাথেই রেখেছেন। তখন অহী মুবারক নাজীল হলো-তিনি সর্বশেষ রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। আপনার সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। যদি তিনি না হতেন, তাহলে আপনাকেও সৃষ্টি করা হতো না।



১২ই রবীউল আউয়াল শরীফ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্মদিন। এটাই সবচেয়ে ছহীহ ও মশহূর মত। যেমন, এ প্রসঙ্গে হাফিয আবূ বকর ইবনে আবী শায়বাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি ছহীহ সনদ সহকারে বর্ণনা করেছেনঃ- অর্থ: 'হযরত আফফান রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত তিনি হযরত সাঈদ ইবনে মীনা রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হযরত জাবির ও হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা বলেন, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্মদিন 'হস্তি বাহিনী বর্ষের ১২ই রবীউল আউয়াল শরীফের সোমবার শরীফ হয়েছিল।' কিতাব সূত্রঃ (বুলুগুল আমানী শরহিল ফাতহির রব্বানী, আল বিদায়া ওয়ান্ নিহায়া)



আর জগৎ বিখ্যাত অ্যাস্ট্রোনমারদের গবেষণায় নির্ভূলভাবে প্রমাণ হয়েছে যে ১২ই রবিউল আউয়াল শরীফই হচ্ছেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমণ (জন্ম/বিলাদত) শরীফ-এর দিন।



যারা বলে রবিউল আউয়াল শরীফ-এর ১২ তারিখ নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার বিছাল (ওফাৎ) শরীফের দিবস তাই শোক পালন করতে হবে (নাউযুবিল্লাহ) তাদের জন্যঃ-



প্রথমতঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি হায়াতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর দ্বীতিয়ত মহান আল্লাহ পাক উনার সরাসরি নিষেধ যা নিচে দেওয়া হলোঃ



অর্থঃ মহান আল্লাহ তা'আলা এবং কিয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাস রাখে এমন কোন মুসলিম নারীর জন্য (কারো মৃত্যুতে) ৩ দিনের বেশি শোক পালন করা হালাল নয়। তবে তার স্বামীর জন্য ৪ মাস ১০ দিন শোক পালন করতে পারবে। দলিলঃ বুখারী শরীফ হাদীস নং- ৫৩৩৮। কারো ইন্তিকালের ৩ দিন পর শোক পালনের রীতি শিয়াদের কালচার। আর শিয়ারা আকিদ্বাগত কাফির। তাই এখন ১২ই রবিউল আউয়াল শরীফে শোক পালন করা মুসলমানদের জন্যে জায়েজ নয় এবং যারা বলে নবী করীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার ওফাৎ গ্রহণের দিন ঈদের দিন কেমনে হয় তাদের জন্য নিচের দলিলগুলো।



১. 'তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে উত্তম দিন হচ্ছে, জুমুয়া শরীফের দিন। এদিনে আদম আলাইহিস সালাম পয়দা হয়েছেন এবং এদিনেই তিনি ওফাৎ বা ইন্তেকাল লাভ করেন! দলিল সুত্রঃ [সহীহ নাসায়ী শরীফ -জুমুয়ার অধ্যায়]



২. 'এ জুমুয়া শরীফের দিন হচ্ছেন এমন একটি দিন, যে দিনকে মহান আল্লাহ পাক ঈদের দিন সাব্যস্ত করেছেন!' দলিল সুত্রঃ [সুনানে ইবনে মাজাহ শরীফ; মুসনাদে আহমদ শরীফ; মিশকাত শরীফ; জুমুয়া শরীফ অধ্যায়] (চলবে)



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৪৩৪৩৩
পুরোন সংখ্যা