চাঁদপুর। মঙ্গলবার ২১ আগস্ট ২০১৮। ৬ ভাদ্র ১৪২৫। ৯ জিলহজ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪০-সূরা আল মু’মিন

৮৫ আয়াত, ৯ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৫৭। মানুষের সৃষ্টি অপেক্ষা নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের সৃষ্টি কঠিনতর। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বোঝে না।

৫৮। অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান নয়, আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং কুকর্মী তোমরা অল্পই অনুধাবন করে থাকো।

৫৯। কেয়ামত অবশ্যই আসবে, এতে সন্দেহ নেই; কিন্তু অধিকাংশ লোক বিশ^াস স্থাপন করে না।

৬০। তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব। যারা আমার এবাদতে অহংকার করে তারা সত্বরই জাহান্নামে দাখিল হবে লাঞ্ছিত হয়ে।      

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


যার বশ্যতার মধ্যে তোমার স্বার্থ নিহিত, তার সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ো না।        

-এরিস্টিটল

 


যে নামাজে হৃদয় নম্র হয় না, সে নামাজ খোদার নিকট নামাজ বলিয়াই গণ্য হয় না।


ফটো গ্যালারি
বাবা ও মেয়ের গল্প
মুক্তা পীযূষ
২১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


গড় আয়ুর অর্ধেক পার করেও শশী যেনো মনের কোনো এক কোণায় বেড়ে উঠতে পারেনি আজও। এই কোণাটাতে জমা আছে তার বাবার স্মৃতি। দিনেরাতে সবসময়ই কেবল মনের সে জায়গায় চলে যায় শশী, যেখানে গেলেই তার বাবা উঠে আসে স্মৃতি থেকে জীবন্ত হয়ে। মনের এই কোণায় সে দুই বেণী বেঁধে স্কুলে যাওয়া দূরন্ত কিশোরী। যার দৌরাত্ম্যে আশেপাশের সবাই স্নেহমাখা ভয়ে তটস্থ থাকতো। সে মনে মনে বাবার সাথে কতো কথা বলে!



আজকাল বড্ড বেশি অভিমানী হয়ে যায় মনটা যখন তখন। বাবার অভাব এত বেশি অনুভব করে কেন বুঝতেই পারে না শশী। সারাদিনের শত ব্যস্ততার মাঝেও হু-হু করে কেঁদে ওঠে অন্তর। হয়তো সকালে রুটি বেলতে বেলতেই দু'বার বাবাকে বকাঝকা করে শশী! বাচ্চাদের নিয়ে রিকশায় যেতে যেতে আজ আরো একবার বকা খায় ওর বাবা। যখন সে দেখে ক্লাস ফাইভে পড়া মেয়েটা ঈদের কেনাকাটা করে বাবার হাত ধরে রাস্তা পার হয় অপার্থিব ভালোলাগার সুখে।



আহা! শশীরও নাকি একদিন এমন ভালোবাসার ভালোলাগা দিন ছিলো। ঈদের কমপক্ষে দশদিন আগেই বাবার হাত ধরে দোকানে গিয়ে কেনা হয়ে যেতো ওর। চার পাঁচটা নতুন জামা জুতা ব্যাগ আর ব্যাগ ভর্তি থাকতো ম্যাচিং করা চুলের ক্লিপ, ব্যান্ড, লিপস্টিক, নেলপলিশ, কানের দুল, মালা, চুড়ি আর নতুন চিরুনি দিয়ে! সেবার কুরবানির ঈদের আগেরদিন শশীর ইচ্ছে হলো নানাবাড়ি যেয়ে ঈদ করবে। বাবার একমাত্র মেয়ে হওয়ায় তিনি খুব কষ্ট পাচ্ছিলেন মেয়েকে তার নানাবাড়ি পাঠাতে। কিন্তু জেদি মেয়ের কাছে হার মেনে পাঠালেন ঠিকই আবার রাত দুইটায় আলাদা করে নতুন জামা আর লিপস্টিক নিয়ে শশীকে দেখতে চলে গিয়েছিলেন! আর বাবার আহ্লাদী শশী সেই রাতেই বাবার সাথে বাড়ি চলে এসেছিলো; খালাতো মামাতো ভাইবোনদের সাথে চাঁদরাতের চড়ুইভাতির তার ভাগের পরোটা মাংস নিয়ে!



আসলে ঈদের সকালে একমাত্র মেয়ের হাতে আতর লাগানো পাঞ্জাবি পরেই নামাজে যেতো শশীর বাবা! আর ক্লাস সেভেনে পড়া শশী কি জানতো সেটাই ছিলো তার বাবার শেষ কুরবানির ঈদ শশী ও সবার সাথে!



এখনও চাঁদরাত এলে শশীর চোখে সাত-সাগরের জল আসে। তবে সংসার আর পুত্র-পরিজনদের মায়ায় তা কারও নজরেই আসে না আর! শশীর এখন প্রতিটি দিন আটপৌরে, দিনগুলো উদ্যাপনের নয়, শুধু যাপনের।



শশীর জন্য খুব মায়া হয় আমার! প্রাণ খুলে কথা বলারও কেউ নেই। বড় ভাই নেই, একটা বোন নেই যেখানে সে তার ভালোলাগা, মন্দলাগা অনুভুতি শেয়ার করতে পারে।



তবুও ভালো নিজেই নিজের সাথে কথা বলার একটা আশ্চর্য ক্ষমতা আছে মেয়েটার; তাইতো হাসি দিয়ে সব দুঃখ নদী পার হয়ে যায় অনায়াসে।



কি জানি কি ছিলো বিধাতার মনে মনে, ওর সাথেই কেন এমন হয়; দুঃখ করে বলছিলো আমায় শশী। ও দেখেছে সত্তর বছর পার করা এক বাবা তার চাকুরীজীবী মেয়েটার চুল ধোয়ার জন্য কত যত্ন করে দু'হাতে পানি বহন করে নিয়ে যায় রাস্তার পৌরসভার কল থেকে! কেনো যে ওর কিশোরবেলা না পেরুতেই বাবা চলে গেলো ওকে ছেড়ে!



আমি শশীকে প্রবোধ দিই_ও মেয়ে তুমি কষ্ট নিয়ো না মনে। তোমার পুত্ররা আছে তো তোমার সকল অভিমান কষ্ট নিরসনের নিত্য প্রচেষ্টায়! ভালো থেকো শশী তুমি, ভালো থেকো।



লেখক : সংগঠক।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৯১৭৭৭
পুরোন সংখ্যা