চাঁদপুর। মঙ্গলবার ২১ আগস্ট ২০১৮। ৬ ভাদ্র ১৪২৫। ৯ জিলহজ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগ দেবেন মোঃ কামরুজ্জামান। তিনি বর্তমানে এলজিইডি মন্ত্রণালয়ে উপ-সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪০-সূরা আল মু’মিন

৮৫ আয়াত, ৯ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৫৭। মানুষের সৃষ্টি অপেক্ষা নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের সৃষ্টি কঠিনতর। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বোঝে না।

৫৮। অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান নয়, আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং কুকর্মী তোমরা অল্পই অনুধাবন করে থাকো।

৫৯। কেয়ামত অবশ্যই আসবে, এতে সন্দেহ নেই; কিন্তু অধিকাংশ লোক বিশ^াস স্থাপন করে না।

৬০। তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব। যারা আমার এবাদতে অহংকার করে তারা সত্বরই জাহান্নামে দাখিল হবে লাঞ্ছিত হয়ে।      

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


যার বশ্যতার মধ্যে তোমার স্বার্থ নিহিত, তার সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ো না।        

-এরিস্টিটল

 


যে নামাজে হৃদয় নম্র হয় না, সে নামাজ খোদার নিকট নামাজ বলিয়াই গণ্য হয় না।


ফটো গ্যালারি
গরুর ভালোবাসা
জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়
২১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


'আমার গরুর গাড়িতে বউ সাজিয়ে, দুত্বর দুত্বর দুত্বর দু সানাই বাজিয়ে'। প্রিয় পাঠক, গরু হলো নীরব একটি প্রাণী। যার কোনো শুত্রু নেই, ইহা গৃহপালিত পশু! বলদ হলে হাল চাষ আর গাভী হলে দুধপান। আপ্যায়নে যেখানে-সেখানে গরু চাই, গরু খাই, গরুর কোনো জুড়ি নাই।



প্রিয় পাঠক, তেমনি আমিও ১৯৯৬ সালে আমার বড় বোনের কাছ থেকে একটি গরু এনেছিলাম সখ করে। গরু যখন এনে ছিলাম তখন সে সিংগেল ছিলো। পরে তার কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে লাল রংয়ের ছেলে সন্তান। তার নাম রেখেছি লালু। সেই লালুকে দীর্ঘদিন লালন করার পরে মাশাল্লা বেশ মোটাতাজা হয়। এই বাড়ির ও-বাড়ির সবাই লালুকে দিয়ে নানান ধরনের কাজ করাতো। বিনিময়ে খৈল, ভুষি দিয়ে যেতো।



এভাবে দেখতে দেখতে লালু অনেক বড় হয়ে গেছে। আরেকটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয় কালির ঘরে। আমি ঢাকা চলে যাই নাটকের কাজে। এই ফাঁকে আমার পরিবারের লোকজন প্রিয় লালুকে কোরবানির হাটে নিয়ে বিক্রি করে দেয়।



আমি বাড়ি এসে লালুকে দেখতে না পেয়ে দু চোখের কোণে পানি ধরে রাখতে পারিনি। জিজ্ঞাসা করলাম, লালুকে বিক্রি করা হলো কেনো? উত্তরে বলা হলো, লালু যখন যাকে পায় শিং দিয়ে ঢুঁশ মারে। লালুর শিং-এর গুঁতোয় একজন আহত হয়েছে, তাই তাকে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।



লালুর বিক্রির শোক কাটতে কাটতে কালির ঘরে জন্ম নেয়া কন্যা সন্তান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। দ্রুত ডাক্তার চান মিয়াকে নিয়ে এলাম। তিনি তার অবস্থা দেখে কিছু বনাজী পানির দাওয়াই দেন। তা খেয়ে ভুলু সুস্থ হলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই সে আবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে আমাদের ছেড়ে চির বিদায় নেয়। সন্তান হারিয়ে প্রিয় কালির চোখে পানি দেখে আমার চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি।



দীর্ঘদিন পরে কালির ঘরে আবার আরেকটি কন্যা সন্তানের জন্ম নেয়। তার নাম লাইলি। লাইলি দেখতে বেশ। ওর দুষ্টামিতে মাঝে মাঝে নিজেই হাঁপিয়ে উঠতাম। মায়ের সাথে যখন মাঠে যেতো এর জমি ওর জমিতে গিয়ে যা পেতো তা-ই খেয়ে ফেলতো। এ নিয়ে আশপাশের লোকদের সাথে ঝগড়া হতো। দেখতে দেখতে লাইলি বড় হয়ে গেলো। তার ঘরেও জন্ম নেয় নতুন সন্তান। কিছুদিন যেতেই পবিত্র ঈদুল আযহার কোরবানির হাটে কালিকে বিক্রি করে দেয়া হয়। আমি তখন বাড়ি ছিলাম না। প্রবাসে চলে আসার পরেই কালিকে বিক্রি করে দেয়া হলো। কালিকে যা দিতাম সে তা-ই খেতো। মানুষদের কোনো ক্ষতি করতো না। সে ছিলো শান্ত স্বভাবের। তাকে সবাই ভালোবাসতো। শুধু একটি অপরাধে তাকে কোরবানির হাটে বিক্রি করা হলো। কালির বয়স বেড়ে গেছে। আগের মতো চলতে পারে না। ঠিক যেমন সন্তান বড় হলে তার বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে আসেন।



আজো কালি মানে সেই গরুর ভালোবাসা ভুলতে পারিনি। তার রেখে যাওয়া সন্তান রয়েছে। যাকে আমার মেঝো ভাই খোরশেদ আলম লালন-পালন করছে। দূর প্রবাসে বসেও একটি দিনের জন্যে গরুর ভালোবাসা ভুলতে পারিনি।



লেখক : সৌদি আরব প্রবাসী সাংবাদিক।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৬০৪০
পুরোন সংখ্যা