চাঁদপুর। মঙ্গলবার ২১ আগস্ট ২০১৮। ৬ ভাদ্র ১৪২৫। ৯ জিলহজ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগ দেবেন মোঃ কামরুজ্জামান। তিনি বর্তমানে এলজিইডি মন্ত্রণালয়ে উপ-সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪০-সূরা আল মু’মিন

৮৫ আয়াত, ৯ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৫৭। মানুষের সৃষ্টি অপেক্ষা নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের সৃষ্টি কঠিনতর। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বোঝে না।

৫৮। অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান নয়, আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং কুকর্মী তোমরা অল্পই অনুধাবন করে থাকো।

৫৯। কেয়ামত অবশ্যই আসবে, এতে সন্দেহ নেই; কিন্তু অধিকাংশ লোক বিশ^াস স্থাপন করে না।

৬০। তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব। যারা আমার এবাদতে অহংকার করে তারা সত্বরই জাহান্নামে দাখিল হবে লাঞ্ছিত হয়ে।      

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


যার বশ্যতার মধ্যে তোমার স্বার্থ নিহিত, তার সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ো না।        

-এরিস্টিটল

 


যে নামাজে হৃদয় নম্র হয় না, সে নামাজ খোদার নিকট নামাজ বলিয়াই গণ্য হয় না।


ফটো গ্যালারি
হাছা কথার ভাত নাই
মইনুদ্দিন লিটন ভূঁইয়া
২১ আগস্ট, ২০১৮ ১৪:০০:৫০
প্রিন্টঅ-অ+


আমার এলাকায় এটা একটা খুব প্রচলিত কথা। এখানে ‘হাছা’ অর্থে ‘সাচ্চা’ বা ‘সত্য’কে বোঝানো হয়েছে। আর ‘ভাত’ শব্দটা দিয়ে ‘মূল্য’ বোঝানো হয়েছে। মানে ‘সাচ্চা কথার মূল্য নাই’ বা ‘সত্য কথার দাম নাই’ এটাই বোঝানো হয়ে থাকে। এখানে এই ‘সাচ্চা’ বা ‘সত্য’টা ‘হাছা’ শব্দে কথ্য হয়। আর ‘মূল্য’ বা  ‘দাম’ শব্দের প্রতীকী ভাবার্থে ‘ভাত’ শব্দটা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আমার এলাকায় সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ‘হাছা কথার ভাত নাই’ এমনই এক অপূর্ব কথ্য ব্যঞ্জনায় উচ্চারিত হয়ে থাকে। আর এরই মধ্যে ফুটে উঠেছে আমার সমাজের মানুষের মূল্যবোধের চৌকাঠে ঘুনে ধরা দৃশ্যপট। আমরা হারিয়ে ফেলেছি অমূল্য এক সম্পদ। আর সেই সম্পদটা হলোা ‘বিশ^াস’। এখন তো স্বামী-স্ত্রীতে বিশ^াস নাই। পিতা-পুত্রে বিশ^াস নাই। বিশ^াস নাই বন্ধুতে বন্ধুতে। ডাক্তারের চিকিৎসায় বিশ^াস নাই। বিশ^াস নাই বিচারে। বিশ^াস নাই শিক্ষকের পাঠদানে। বিশ^াস নাই বাসের ড্রাইভারে। আর রাজনীতিতে তো বিশ^াস একদম উধাও হয়েছে। আমার এক বন্ধুতো সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলে, ‘দোস্ত, যে দেশে রাস্তায় বাসের নিচে স্কুলগামী বাচ্চাদের হত্যার বিচার পেতে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করে আরো শিক্ষার্থীর প্রাণ দিতে হয়, সেখানে ‘বিশ^াস’ তো ‘আব্দুর রহমান বিশ^াসের মতো’। আমি ভাবি ওর কথাটা একদম ঠিক। আরেক বন্ধু তো আবেগে বলেই বসলো, ‘এক মিনিটের নাই ভরসা, বন্ধ হবে রং তামাশা, চক্ষু বুঁজিলে, হায়রে দম ফুরাইলে’। সে আরো বলে, ‘বন্ধু, নিশ^াসেরই তো বিশ^াস নাই’। এটাওতো একদম ঠিক কথা।

    সেদিন বাসে করে শাহরাস্তি যাচ্ছিলাম। বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছে কুমিল্লাগামী ‘বোগদাদ’ বাসে উঠে বসলাম। সকাল বেলা। তখনো প্যাসেঞ্জার নাই। মাত্র ক’জন বসে আছি। উঠবার সময় কন্ডাক্টর থেকে জানলাম ৯টা ২০ মিনিটে ছাড়বে। মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে দেখি তখনো ১৭ মিনিট বাকি। শিক্ষার্থী আন্দোলনের ৭ম দিন। তাই বাসের স্বাভাবিক চলাচল কিছুটা বিঘিœত। এরই মাঝে এক বৃদ্ধ ভিখারী উঠে এসে বাসের ভেতরে মাত্র অল্প ক’জন যাত্রী (যাদেরকে সে তার কাস্টমার মনে করে) দেখে একদম হতাশ হয়। দু-একবার সাহায্য চেয়ে বলে, ‘আইজ সকালে কিচ্ছু খাই নাই। কেউ একটা টাহাও দেয় নাই। আমারে একটা রুডি খাওনের টেহা দেন’। সব যাত্রী অন্য এক ভাবনায় নিবিষ্ট হয়ে থাকার অভিনয় করে নির্বিকার বসে থাকে। কিছু না পেয়ে ভিখারী আমার পাশের সিটে বসে পড়লো। আমি অনেকটা কৌতূহলী হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছি। সে তার কাঁধের ঝোলাটা খুলে বেশ কিছু টাকা বের করে গুণতে থকে। অবসর আমিও ওর হাতের আঙ্গুল চালনার সাথে টাকাগুলো গুণেছি, সব মিলিয়ে ১শ’ ২৩ টাকা। আমি বললাম, এগুলো কী? উত্তরে সে বলে, ‘টেহা, আইজ সাইদটা ভালো হইছে’। আমি জিজ্ঞেস করি, ‘সকালে কিছু খেয়েছ?’ উত্তরে সে মাথা কাত করে বলে, পেট ভইরা মোরগ পোলাউ খাইয়া নামছি। আবার দুপুরে মন্নানের দোকানে গরুর মাংস দিয়া খামু। তার সৌজন্যতাবোধ আছে। আমাকে প্রশ্ন করে, ‘আপনে নাস্তা করেছেন?’ আমি তার প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে বলি, ‘তাহলে টাকাগুলো সব আজকে সকালের?’ সেও আমার প্রশ্নের কোনো সরাসরি উত্তর দিল না। কেবল একটু মুচকি হেসে মাথাটা ঝুঁকিয়ে বলে, ‘হাছা কথার ভাত নাই।’ ততক্ষণে বাসের কন্ডাক্টর হাঁক দেয়, বাস সচল হয়। ভিখারী নেমে গেল। শুধু আমার কাছে রেখে গেল এক অমূল্য কথন, ‘হাছা কথার ভাত নাই’।

    এইতো ক’দিন চাঁদপুরে আছি। নিজের কিছু কাজে প্রায় ৭ দিন আটকে গেছি। কাজের আগে-পরে সময় কাটে না। কোর্ট স্টেশন প্লাটফর্মে দোয়াগঞ্জল বুক স্টলে গিয়ে প্রায় সবক’টি স্থানীয় পত্রিকার পাতা উল্টাই। ওখানে সাংবাদিক আর কবি সাহিত্যিক লেখকেরা আসে। চায়ের আড্ডা হয়। রাজনীতি, সম্প্রীতি, সংস্কৃতি, বিরোধ আর অবিশ^াসের লাগামহীন কথার জোয়ার ছোটে। পত্রিকার পাতায় দেখি নির্বাচনী খবর। জানতে পারি নেতা-নেত্রীরা নিজের ঘরেই দুদিনের সফরে আসেন। এলাকায় গণসংযোগ করেন। কত কথা আর আশ^াসের প্রশ^াস ছাড়েন। একটাই উদ্দেশ্য-মানুষের বিশ^াস ফিরে পেতে চায়। রাত পোহালে সফর শেষে আবার পরবাসে ফিরে যায়। রাজনীতিতে ‘কে আপন’ এমন প্রশ্নই ঘুরে ফিরে মানুষের মাথায় জন্ম নেয়, কে সত্যি বলছে? নাকি ঐ ভিখারীর মতোই এলাকার মানুষের (যাদেরকে তারা কেবলই ভোটার মনে করে) কাছে ছুটে যায়। সত্যটা আড়াল করে অনেক মিথ্যে আশ^াসের প্রলোভনের বিনিময়ে কেবল একটি ভোট ভিক্ষা চায়! হয়তো সেও ভিখারীর সেই অমূল্য কথন জানে, ‘হাছা কথার ভাত নাই’।

    ক’দিন ধরে ‘হাছা কথার ভাত নাই’ এমন অমূল্য কথনটা আমার নিওরোসেলের সবক’টি কপাটে ক্রমাগত কড়া নেড়েই চলেছে। আমি ভাবলাম এবার আমি নিজেই এর সত্যতা যাচাই করে দেখবো। আসলেই কি আমাদের সমাজ থেকে সত্য কথার দাম চলে গেছে? আমি তা দেখতে চাই? আমাকে যারা চেনেন সম্ভবত তারা সবাই জানেন আমার সমাজে আমি যাদের সাথে কাজকর্ম করি, উঠাবসা করি, চলাফেরা করি, আড্ডা দিই কিংবা বন্ধুতা করে চলছি তারা সবাই নাট্যকর্মী, সংস্কৃতি কর্মী, সাহিত্য কর্মী আর সংবাদ কর্মী। এর বাইরে আমার জগৎটা প্রায় সংকুচিত। সারাদিন এই কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী-সাংবাদিকদের সাথে চলতে চলতে তারাই আমার বেশি আপন হয়ে উঠেছে। তারা আমাকে ভালোবাসে, সমীহ করে, মূল্যায়ন করে, শ্রদ্ধাও করে, আর সেটা আমি বুঝতেও পারি। আমার চরম দুঃখের কালে অনেকেই আমার পাশে এসেছিল। তবে এরা আমার পাশে শুধু নয়, আমার সব থেকে কাছে ছিল। আর তাদের প্রতি আমার ভালোবাসাটা আমার মাথার উপরে আকাশের চেয়েও অনেক অনেক বেশি। হয়তো এদের অনেকের কাছেই আমি এখন আর যেতে পারি না। তবে তাদের অজান্তে আমার ভালোবাসা সবসময় তাদেকে ছুঁয়ে যায়। তো আমি ঠিক করলাম এবার আমি ঐ ভিখারী কিংবা রাজনীতিকদের মতো মিথ্যা বলে নয়, সত্যটা বলে দেখবো আসলে কি ‘হাছা কথার ভাত নাই’! সকালে কোর্ট স্টেশন প্লাটফর্মে দোয়াগঞ্জল বুক স্টলে গেলাম। সেখানে পর্যায়ক্রমে বুক স্টলের মালিক জসিম মেহেদী, দৈনিক চাঁদপুর বার্তার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শহীদ পাটোয়ারী, দৈনিক সুদীপ্ত চাঁদপুরের বার্তা সম্পাদক এমআর ইসলাম বাবু, কবি ইকবাল পারভেজ, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের সাংবাদিক ইয়াসিন ইকরাম, দৈনিক চাঁদপুর দর্পণের লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর, আমার বন্ধু লেখক মাহাবুব আনোয়ার বাবলু এবং চতুরঙ্গের মহাসচিব ¯েœহের হারুন আল রশীদের সাথে দেখা হলো। আমি একে একে তাদের কাছে আমার একটা ‘হাছা কথা’ উপস্থাপন করলাম। তাদের জানালাম, আমার খুব ইচ্ছে হলো এবার আমি কিছু টাকা উড়াবো। আমি মদ-জুয়ায় আসক্ত নই। দশ বছর হলো সিগারেট ছেড়েছি। তাই উড়াবো বলতে নষ্ট করাকে বোঝাবে না। উড়াবো বলতে আমি ঢাকা রেডিসন হোটেলে ১ দিন থাকবো। তারপর কক্সবাজার সাগর পাড়ে বেড়াতে যাবো, হয়তো সেন্টমার্টিনও যাবো। আর এই সাথে আমার সফর সঙ্গী হবেন আমার স্ত্রী। সেজন্যে আমার কিছু টাকা দরকার। আর সেই টাকার পরিমাণ হলো এক লাখ টাকা। আমি আলাদা আলাদাভাবে ওদের প্রত্যেকের কাছে এই সত্যটা বলে টাকাটা চেয়েছি। আরো বলেছি আমার কোনো ফিক্সড ডিপোজিট কিংবা ডিপিএস নাই। তবুও এক মাস পরে আমি এই টাকা শোধ করে দিবো। আর আমি জানি আমি তা পারবো। কিন্তু এই এক লাখ টাকা উড়াবার কথা শুনে সবাই যেভাবে প্রতিক্রিয়া



জানালো আর সুকৌশলে বিষয়টা পাশ কেটে গেলো, সেটা ছিল আমার কাছে একটা নাটকীয় ব্যঞ্জনাময় অনুভূতি। কথা শুনে জসিম মেহেদী একদম চুপসে যায়। দেখলাম তার মুখের রং বাদামি থেকে কালো হয়ে গেল। দৈনিক চাঁদপুর বার্তার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শহীদ পাটোয়ারী আমাকে নিয়ে চায়ের দোকানে গেল, চা অর্ডার দিয়ে পকেটের বেহাল অবস্থার কথা জানায়। আরো জানায় একমাত্র হারুন আল রশীদ ছাড়া এই টাকা আমাকে কেউ দিবে না। কথা শুনে জসিম মেহেদী আরো জানালো, ‘হারুন ভাই আবার সবাইকে টাকা দেয় না’। একটু পরে চতুরঙ্গের মহাসচিব ¯েœহের হারুন আল রশীদ ওখানে আসে। আমি তাকেও আমার এই টাকা উড়াবার সত্যি কথাটা জানাতেই সে প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে জসিম মেহেদীকে বলে, ‘তোর মামুকে বলিস্ আমার টাকাটা যেন দিয়ে দেয়। ঈদ আসছে, গরু কিনতে টাকা লাগবে’। ¯েœহের হারুনের কথা শুনে ভড়কে গেলাম। মনে মনে ভাবলাম, তাহলে কি ও জসিমের মামুর মতো টাকা না ফেরৎ দেয়ার খাতায় আমার নামও লিখে ফেললো? দৈনিক সুদীপ্ত চাঁদপুরের বার্তা সম্পাদক এমআর ইসলাম বাবু জানালো, ‘ভাই টাকা আপনি পাবেন, তবে এই টাকা উড়াবার সত্য কথাটা সেন্সর করতে হবে। বলতে হবে আপনার খুব বিপদ, তাই টাকার প্রয়োজন’। ওর কথাটায় সবাই সমর্থন জানালো। আমি বললাম, এ কেমন কথা? আমি তো যা সত্যি সেটাই বলছি। এক লাখ টাকা উড়াতে চাই। খুব বেশি কিছু তো নয়। মানুষ তো মিথ্যে বলে কতো কিছুই করে। কাজের নামে মিথ্যে বলে সরকারের তহবিল থেকে কোটি কোটি টাকা এনে আত্মসাৎ করে। মিথ্যে দলিল দেখিয়ে ব্যাংক থেকে হাজার কোটি টাকা চুরি করে নেয়। শহর রক্ষা বাঁধের কাজে রাতের অন্ধকারে হাজার হাজার ব্লক ফেলে সকালে জানায় সবটাই নাকি ¯্রােতের টানে ভেসে গেছে। ভূমিহীনদের আশ্রায়ণ প্রকল্পের জায়গা বেনামে বরাদ্দ নেয়। নদীর গতিপথের তোয়াক্কা না করে লাখ লাখ টন বালু লুট করে নেয়। রাস্তার দুধারে শতবর্ষী গাছ নিধন করে নেয় অনায়াসে মিথ্যে বলে। তাহলে কি ঐ ভিখারীর কথাই সত্যি ‘হাছা কথার ভাত নাই’!

    ঠিক করলাম জেলা প্রসাশক মোঃ মাজেদুর রহমান খানের কাছে যাবো। শুনেছি তিনি একজন সত্যবাদী এবং দানবীর মানুষ। এটাও জেনেছি তিনি একজন সাহিত্যপ্রেমী এবং সংস্কৃতিবান। তাই বুকের ভেতরে সত্য জয়ের আশাটা মরে গেল না। দৈনিক সুদীপ্ত চাঁদপুরের বার্তা সম্পাদক এমআর ইসলাম বাবুকে আমার সাথে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যেতে বললাম। কিন্তু বাবু জানালো, এই কিছুদিন আগেই সে তার কোনো এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্যে জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে দশ হাজার টাকা অনুদান এনেছে। আমি বললাম, ‘তুমি বাইরে থেকো, শুধু আমার সাথে চল। কুড়ি মিনিটের মধ্যে যদি আমি ওনার কক্ষ থেকে বাইরে না আসি তবে জানবে আমি বিপদে আছি। তখন খবরটা আমার সাংবাদিক-সাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গনে এসে জানাবে।’ ও রাজি হলো না, জানালো সিসি ক্যামেরায় তিনি সবই দেখতে পান। আমি ভাবলাম, আসলেই কি তিনি সবই দেখতে পান? তাহলে শহরের প্রাণকেন্দ্রে রাস্তায় এতো যানজট হয় কেন? কেন পালবাজারের সামনে এতো অটোযানের জটলা বেঁধে থাকে? কেন শপথ চত্বর ও সাধনার মোড়ে রাস্তার উপরে অবৈধভাবে অটোস্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে? কেন নতুন বাজার-পুরাণবাজার সেতুর নিচে এমন সুন্দর পথটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে? শহরের ভেতরে পুকুরগুলো এভাবে ক্রমাগত ভরাট হয়ে গেল কেন? নাকি তিনি আসলে কিছুই দেখতে পান না। আসলে তিনি যে সব দেখতে পান সেটাই মিথ্যে। আর ঐ ভিখারীর কথাই সত্যি হয়ে যায়, ‘হাছা কথার ভাত নাই’।

    ঠিক করলাম দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক কাজী শাহাদাতের কাছে যাবো। তাকে আমার সত্যটা জানাবো, এক লাখ টাকা উড়াতে চাই। তাই টাকার প্রয়োজন। কোনো ফিক্সড ডিপোজিট কিংবা ডিপিএস নাই, তবুও এক মাস পরে ফেরৎ দিবো। তার কাছে যাবার আরেকটা কারণ আছে। সেটা এখানে বলতে চাই। নয়তো আর কোনো দিনই আর বলা হয়ে উঠবে না। আর সেটা হলো চরম পরিস্থিতিতেও আমি তাকে সত্যের পক্ষ অবলম্বন করতে দেখেছি। মনে আছে, সেবার জেলা শিল্পকলা একাডেমির কিছু অনিয়মের বিষয়ে একটা ফিচার লিখেছিলাম। সেই ফিচারে তারই পত্রিকার মালিকের সম্পর্কে কিছু কথাও লিখেছিলাম। তখন চাঁদপুর কণ্ঠের অফিস আমার বাসার পাশে। বিকেলে আমি লেখাটা নিয়ে তার দপ্তরে যাই। লেখাটা দেখাই আর বলি, যদি অসুবিধা হয় তো ছাপাবেন না, কারণ অন্যান্য পত্রিকায় তো ছাপবে। তিনি লেখাটা পড়লেন। তারপর বললেন, ‘আমি ছাপবো’। নির্ভীক দায়িত্বশীল এক সম্পাদকের মতো সেটা তিনি ছেপেছিলেন। এবার ভাবলাম এই বিষয়টা নিয়ে তার কাছে যাবো। সাংবাদিকদের কাছে জানলাম তিনি তার অফিসে মিটিং করছেন, বেলা ২টা পর্যন্ত চলবে। তাই ২টার পরেই বন্ধু কবি মাহাবুব আনোয়ার বাবলুকে সাথে নিয়ে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের অফিসে যাই। আমার দুর্ভাগ্য আর কাজী শাহাদাতের সৌভাগ্য আমরা পৌঁছার মাত্র কয়েক মিনিট আগে তিনি চলে গেছেন। আচ্ছা, তিনি থাকলে কী হতো? তিনি কি আমার সবকথা শুনে আমাকে এক লাখ টাকা উড়াতে দিতেন? নাকি সবার মতো করে তিনিও বলতেন, লিটন ভাই, টাকার প্রয়োজনের সত্য কথাটা এডিট করুন, তাহলেই আর টাকার কোনো সমস্যা হবে না। কারণ ‘হাছা কথার ভাত নাই’।

 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৫১৩৯
পুরোন সংখ্যা