চাঁদপুর। শুক্রবার ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭। ৫ ফাল্গুন ১৪২৩। ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • শুক্রবার সকালে হাজীগঞ্জের সৈয়দপুর সর্দার বাড়ির পুকুর থেকে শাহিদা আক্তার মুক্তা নামের এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ॥ স্বামী হাছান সর্দার পলাতক || হাজীগঞ্জের সৈয়দপুর সর্দার বাড়ির পুকুর থেকে শাহিদা আক্তার মুক্তা নামের এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ॥ স্বামী হাছান সর্দার পলাতক
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৯। সুলায়মান উহার উক্তিতে মৃদু হাস্য করিল এবং বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক। তুমি আমাকে সামথ্য দাও যাহাতে আমি তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিতে পারি, আমার প্রতিও আমার পিতামাতার প্রতি তুমি যে অনুগ্রহ করিয়াছ তাহার জন্য এবং যাহাতে আমি সৎকার্য করিতে পারি, যাহা তুমি পছন্দ কর এবং তোমার অনুগ্রহে আমাকে তোমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের শামিল কর।’ 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

ক্ষুধার অগ্নিপ্রবাহ আনবিক অস্ত্র অপেক্ষাও ভয়ংকর।                  -ভ্যান ল্যান্সকটা।


যার দ্বারা মানবতা উপকৃত হয়, মানুষের মধ্যে তিনি উত্তম পুরুষ। 


ফটো গ্যালারি
জেলা-ব্র্যান্ডিং নিয়ে প্রজন্ম ভাবনা-৯
ফলদ ও ভেষজ বৃক্ষ দ্বারা আচ্ছাদিত সবুজ সুশোভিত সুন্দর শহর দেখতে চাই
ফাতেমাতুজ জোহরা
১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


 



 



ফাতেমাতুজ জোহরা চাঁদপুর সরকারি কলেজের বিএসসি (সম্মান) উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৬তে চাঁদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া জাতীয় ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ-২০১৬ উপলক্ষে জাতীয় রাজস্ববোর্ড আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় 'গ' বিভাগে সারাদেশে শীর্ষ ১০ জনের মধ্যে তিনি চতুর্থ হয়েছেন। 'জেলা ব্র্যান্ডিং নিয়ে প্রজন্ম ভাবনা'-এর পক্ষ থেকে এই মেধাবী শিক্ষার্থীর মুখোমুখি হয় চাঁদপুর কণ্ঠ। ছয়টি নির্ধারিত প্রশ্নের আলোকে বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, চাঁদপুর শহরকে ফলদ ও ভেষজ বৃক্ষ দ্বারা আচ্ছাদিত সবুজ সুশোভিত শহর হিসেবে দেখতে চাই।



আর ব্র্যান্ডিং সম্পর্কে এখনো অনেকের বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে তেমন কোনো ধারণা নেই। তাই প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের ব্যাপারে ধারণা দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নিম্নে তার সাক্ষাৎকারটি প্রশ্ন-উত্তর আকারে তুলে ধরা হলো।



চাঁদপুর কণ্ঠ : সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম চাঁদপুর জেলাকে সিঙ্গাপুরের আদলে ব্র্যান্ডিং করার কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। আপনার প্রতিক্রিয়া কী?



ফাতেমাতুজ জোহরা : এক কথায় বলতে গেলে এটি এমন একটি উদ্যোগ, যার দ্বারা চাঁদপুরের উন্নয়নকে উচ্চ শিখরে নেয়া সম্ভব। চাঁদপুর জেলাকে ব্র্যান্ডিং করা মানে এ জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও খ্যাতিমান দিকগুলোকে দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরা। পাশাপাশি এগুলোর সঠিক সংরক্ষণ ও শ্রীবৃদ্ধির মাধ্যমে চাঁদপুরকে আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা যাবে।



চাঁদপুর কণ্ঠ : 'চাঁদপুর সিটি অব হিলশা' (ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর)। ইলিশের খ্যাতি ব্যতীত চাঁদপুরের এমন আর কী কী খ্যাতি আছে, যা ব্র্যান্ডিং সহায়ক হতে পারে?



ফাতেমাতুজ জোহরা : : চাঁদপুর জেলায় রয়েছে অনেক পুরানো ও ঐতিহাসিক স্থান, প্রত্নতাতি্বক নিদর্শন, মসজিদ-মন্দির, ধর্মীয় উপাসনালয়, স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা জেলা ব্র্যান্ডিং সহায়ক হবে বলে আমি মনে করি।



যেমন : স্বাদু পানির তিন নদীর মিলনস্থল, বড় স্টেশন মোলহেড, রক্তধারা, অঙ্গীকার, শপথ চত্বর, ইলিশ চত্বর, শ্রী শ্রী কালী মন্দির, পুরাণবাজার বড় মসজিদ, বায়তুল আমিন রেলওয়ে জামে মসজিদ, বেগম মসজিদ, হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ, মেহের কালী বাড়ি, সাচার রথ, মঠখোলা মঠ, শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির, কাশিমপুম রাজবাড়ি বারদুয়ারী, নাসিরকোর্টের দুর্গ, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের গণকবর, সাহাপুর রাজবাড়ি, নাওড়া মঠ, আমানশাহ ফকিরেরপুল, লেংটার মাজার, হযরত শাহমাহমুদ বোগদাদী (রঃ)-এর মাজার, রাগৈ মসজিদ, দারশাহী তুলপাই মসজিদ, ভিঙ্গুলিয়া মসজিদ, নাটেশ্বর রায়ের দিঘি, কড়ইতলী জমিদার বাড়ি, পর্তুগীজ দুর্গ, মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র, ওঈউউজই, চাঁদপুর সরকারি কলেজ, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ, হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়সহ আরও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।



এছাড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো : ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে চাঁদপুর ২নং সেক্টরে ছিলো, যা এ জেলার আত্মপরিচয়ে সর্বাধিক।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : জেলা-ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে অন্তরায় হবে এমন দুটো সমস্যার কথা এবং করণীয় সম্পর্কে বলুন।



ফাতেমাতুজ জোহরা : দুর্নীতি করা ও আইন ভঙ্গ করা। এসব রোধে যা যা পদক্ষেপ নেয়া যায়- ১) আইনের সঠিক ও কঠোর প্রয়োগ, ২) সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ, ৩) বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার, ৪) সৎ ও যোগ্য (দেশপ্রেমিক) ব্যক্তির উপর দায়িত্ব অর্পণ।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : চাঁদপুর শহর ও জেলাকে আপনি কেমন দেখতে চান?



ফাতেমাতুজ জোহরা : যেহেতু সিঙ্গাপুরের আদলে চাঁদপুর জেলা ব্র্যান্ডিং হতে যাচ্ছে, সেহেতু আমি প্রথমে এ জেলাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন দেখতে চাই। সেজন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। যেমন : যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলা, কাগজ, থু-থু না ফেলা, প্রস্রাব না করা ইত্যাদি। ধূমপানমুক্ত, মাদকমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ-নাশকতা মুক্ত, নারী-পুরুষের শতভাগ শিক্ষিত, প্রযুক্তিনির্ভর এবং ফলদ ও ভেষজ বৃক্ষ দ্বারা আচ্ছাদিত সবুজ সুশোভিত সুন্দর শহর হিসেবে চাঁদপুরকে দেখার প্রত্যাশা করি।



 



চাঁদপুর কণ্ঠ : চাঁদপুরের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?



ফাতেমাতুজ জোহরা : ১) ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানগুলোর সংস্কার করতে হবে। ২) চাঁদপুরকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরতে হলে বিজ্ঞাপন ও ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার ব্যবস্থা করতে হবে। ৩) পর্যটক যারা দূরের, তাদের আবাসিক ব্যবস্থা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।



চাঁদপুর কণ্ঠ : উপরোক্ত প্রশ্নমালার বাইরে ব্র্যান্ডিং সম্পর্কে আপনার বিশেষ কোনো পরামর্শ থাকলে উল্লেখ করতে পারেন।



ফাতেমাতুজ জোহরা : আমার সহপাঠী ও কলেজের অনেক ছাত্র-ছাত্রীর সাথে কথা বলে দেখলাম, তারা অনেকেই ব্র্যান্ডিং সম্পর্কে কিছুই জানে না। তাই আমি মনে করি, প্রথমে ব্র্যান্ডিং সম্পর্কে ছাত্র-ছাত্রী ও তরুণদের মাঝে ধারণা দেয়া প্রয়োজন। কারণ তারাই প্রজন্মের আলোকবর্তিকা। তাদেরকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সেজন্যে প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে ব্র্যান্ডিং সম্পর্কে জানাতে হবে।


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৫০৭০
পুরোন সংখ্যা