চাঁদপুর। শনিবার ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭। ৬ ফাল্গুন ১৪২৩। ২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ***
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২০। সুলায়মান বিহংগদলের সন্ধান লইল এবং বলিল, ‘ব্যাপার কি, হুদ্হুদ্কে দেখিতেছি না যে! সে অনুপস্থিত না কি? 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


বিপ্লব হল সভ্যতার লালা স্বরূপ।


                                 -ভিক্টর হুগো।


বিনয় ও সৌজন্য ঈমানের দুই শাখা এবং বৃথা বাক্যলাপ ও জাঁকজমক কপটতা মুনাফেকির দুই শাখা।  


 

জেলা-ব্র্যান্ডিং নিয়ে প্রজন্ম ভাবনা-১০
ব্র্যান্ডিং হলে চাঁদপুরে অর্থনীতির গতি সঞ্চার ঘটবে
কিউএম হাসান শাহরিয়ার
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


কিউএম হাসান শাহরিয়ার চাঁদপুর সরকারি কলেজের অন্যতম শিক্ষার্থীপ্রিয় শিক্ষক। ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি শহীদ জিয়া ছাত্রবাসের হোস্টল সুপার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। একাধিক পাঠ্যপুস্তকের প্রণেতা কিউএম হাসান শাহরিয়ার সম্প্রতি কথা বলেছেন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের সাথে। জেলা-ব্র্যান্ডিং বিষয়ে তাঁর ভাবনার কথা শুনেছেন মুহাম্মদ ফরিদ হাসান।



চাঁদপুর কণ্ঠ : সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম চাঁদপুর জেলাকে সিঙ্গাপুরের আদলে ব্র্যান্ডিং



করার কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। আপনার প্রতিক্রিয়া কী?



কিউএম হাসান শাহরিয়ার : ব্র্যান্ড বলতে কোনো পণ্যের প্রতীক, চিহ্ন, বর্ণ, সংখ্যা, শব্দ, চিত্র ইত্যাদি বুঝায়, যা এক প্রতিষ্ঠানের পণ্য থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানের পণ্যকে আলাদা পরিচিতি দেয়। চাঁদপুর জেলাকে সর্বপ্রথম ব্র্যান্ডিং করার কার্যক্রমের ফলে চাঁদপুর জেলা একটি আলাদা বৈশিষ্ট্যরূপে পরিচিতি পাবে। ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই উপকৃত হয়। চাঁদপুর জেলা ব্র্যান্ডিং করার ফলে জেলাবাসী যেমন উপকৃত হবে তেমনি এ জেলার সাথে সুবিধা গ্রহণ সম্পর্কিত অন্যরাও উপকৃত হবে এবং এই জেলা বিশ্বে বিশেষ বৈশিষ্ট্য নিয়ে পরিচিতি পাবে।



চাঁদপুর কণ্ঠ : 'চাঁদপুর সিটি অব হিলশা' (ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর)। ইলিশের খ্যাতি ব্যতীত চাঁদপুরের এমন আর কী কী খ্যাতি আছে, যা ব্র্যান্ডিং সহায়ক হতে পারে?



কিউএম হাসান শাহরিয়ার : চাঁদপুর মূলত নদী বিধৌত এলাকা। নদীই হলো চাঁদপুরের সম্পদের ভা-ার ও অন্যতম সৌন্দর্যের প্রতীক। তাই ইলিশের খ্যাতি ব্যতীত পর্যটনের দিকটি তুলে ধরলে ব্র্যান্ডিংয়ে সহায়ক হতে পারে। এছাড়া ঐতিহাসিক স্থাপনা ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সমূহকে সংস্কার ও সৌন্দর্য বর্ধন করতে হবে।



চাঁদপুর কণ্ঠ : জেলা-ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে অন্তরায় হবে এমন দুটো সমস্যার কথা এবং করণীয় সম্পর্কে বলুন।



কিউএম হাসান শাহরিয়ার : জেলা ব্র্যান্ডিং হলে চাঁদপুরে অর্থনীতির গতি সঞ্চার ঘটবে এবং লেনদেন ও যাতায়াতের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু এ জেলার অন্যতম সমস্যা হলো অপরিকল্পিত নগরায়ন ও সরু রাস্তাঘাট। আমার মতে, চাঁদপুর শহরকে মূলত তিনটি অংশে ভাগ করে নগরায়নের পরিকল্পণা গ্রহণ করতে হবে। যেমন : বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অফিস সমূহ বাবুরহাট জেলখানা থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। মার্কেট সমূহ হাজী মহসীন রোড থেকে পালবাজার ব্রিজ পর্যন্ত এবং ব্রিজের পর থেকে নদীর পাড় পর্যন্ত আবাসিক এলাকা ও পর্যটন স্থান করা যেতে পারে। শহরের ব্যস্ততম রোডের দুই পাশে মাছের বাজার (যেমন : বিপণীবাগ মাছের বাজার), ভ্রাম্যমাণ দোকান ও অবৈধ স্থাপনাসমূহ উচ্ছেদ অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। আরেকটি সমস্যা হলো অগোছালো রাস্তাঘাট। এতো অপ্রশ্রস্ত রাস্তাঘাট দিয়ে ব্র্যান্ডিংয়ের কার্যক্রম কতটুকু সফল হবে তা সময়ই বলে দিবে। শহরে প্রবেশের মূল সড়ক ও লঞ্চঘাটে যাবার রাস্তা প্রশ্বস্ত না করা হলে ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম সফলতা লাভ করবে না।



চাঁদপুর কণ্ঠ : চাঁদপুর শহর ও জেলাকে আপনি কেমন দেখতে চান?



কিউএম হাসান শাহরিয়ার : চাঁদপুর শহরকে আমি দেখতে চাই_মাদকমুক্ত এলাকা, ইভটিজিং মুক্ত, চুরি ও ছিনতাই মুক্ত এলাকা, আবর্জনা মুক্ত, প্রতিটি সড়কে একটি ছোট স্থানান্তরযোগ্য ডাস্টবিন, ডাকাতিয়া নদীর দুইপাড় বাঁধাই করা যাতে প্রাতঃ ও সান্ধ্যকালীন ভ্রমণ করা যায়, দৃষ্টিনন্দন আধুনিক পার্ক, শহরের অভ্যন্তরে লোকাল বাসের ব্যবস্থা করা এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য বিশেষ করে মাছ ও সবজির সঠিক মূল্য নির্ধারণ করে ক্রয়-বিক্রয় করা।



চাঁদপুর কণ্ঠ : চাঁদপুরের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে আপনি মনে করেন?



পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে আমার মতে নিম্ন লিখিত পদক্ষেপ কাজে লাগানো যেতে পারে_



* বাণিজ্যিক ভিত্তিতে স্বল্প সময়ের নৌ ভ্রমণের ব্যবস্থা করা। যেমন : মোলহেড থেকে ডাকাতিয়া নদী দিয়ে চাঁদপুর সেতু পর্যন্ত এবং মোলহেড বা পুরাণবাজার থেকে হাইমচর পর্যন্ত নদী ভ্রমণের ব্যবস্থা।



* পর্যটন/শীত মৌসুমে নদীতে যে চর পড়ে সেখানে পিকনিক করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে তাঁবু টানানোর ব্যবস্থা, ছাউনি ও টয়লেট সুবিধা স্থাপন। এছাড়া ন্যায্য মূল্যে ইলিশ ক্রয় করার সুবিধা থাকা।



* পর্যটকদের সুবিধার জন্যে ভালো মানের আবাসিক ও অনাবাসিক হোটেল স্থাপন বা ব্যবস্থা করা।



* আধুনিক মানের পার্ক স্থাপন করা।



* শহরকে আবর্জনা মুক্ত রাখার ব্যবস্থা করা।



* শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা ও শহরকে ইভটিজিং মুক্ত করা।



* বিভিন্ন গণমাধ্যমে পর্যটনের সুবিধার কথা প্রচার করা।



* ইলিশ সংরক্ষণ, বিভিন্ন পদ রন্ধন প্রণালী ও পরিবেশন নিয়ে একটি ডকুমেন্ট তৈরি করা।



* বাবুরহাট থেকে মোলহেড পর্যন্ত লোকাল বাস চলাচলের সুবিধা রাখা।



চাঁদপুর কণ্ঠ : উপরোক্ত প্রশ্নমালার বাইরে ব্র্যান্ডিং সম্পর্কে আপনার বিশেষ কোনো পরামর্শ থাকলে উল্লেখ করতে পারেন।



কিউএম হাসান শাহরিয়ার : জেলা ব্র্যান্ডিং একটি নতুন ধারণা। এই কার্যক্রমের সফলতা নির্ভর করবে অন্য কিছু কার্যক্রমের উপর। শুধুমাত্র ব্র্যান্ডিং করে বসে থাকলেই তা বাস্তবায়ন হবে না; এটি বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। এটি বাস্তবায়নে জেলার সকলকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার সকল ছাত্র-শিক্ষক, ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী, ব্যাংকারসহ সরকারি কর্মকর্তাগণকে এ কাজে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। চাঁদপুর জেলা বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ জেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করুক, ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম সফল হোক এই প্রত্যাশা করছি। সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫২২১২৭
পুরোন সংখ্যা