চাঁদপুর। মঙ্গলবার ২১ মার্চ ২০১৭। ৭ চৈত্র ১৪২৩। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৫৫। ‘তোমরা কি কামতৃপ্তির জন্য নারীকে ছাড়িয়ে পুরুষে উপগত হইবে? তোমরা তো এক অজ্ঞ সম্প্রদায়।’ 


৫৬। উত্তরে তাহার সম্প্রদায় শুধু বলিল, ‘লূত-পরিবারকে তোমাদের জনপদ হইতে বহিস্কৃত কর, ইহারা তো এমন লোক যাহারা পবিত্র সাজিতে চাহে।’  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


কলমকে হৃদয়ের জিহ্বা বলা যায়।     -কারভেনটেস।

যে মুসলমান অবৈধ (হারাম) বস্তু হইতে দূরে থাকে ও ভিক্ষাবৃত্তি হইতে দূরে থাকে, যাহার শুধু একটি পরিবার (স্ত্রী), খোদাতায়ালা তাহাকেই ভালোবাসেন।   


হঠাৎ জঙ্গি হামলায় উদ্বেগ!
ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে মানুষের মাঝে জঙ্গি বিরোধী মনোভাব তৈরি, সতর্ক ও সচেতন থাকার পরামর্শ
চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট
২১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের পর ঢাকার আশকোনায় জঙ্গিদের আত্মঘাতী কর্মকা-ের কারণে মানুষের মাঝে কিছুটা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে অনেকেই 'এতে আতঙ্কিত নই, উদ্বিগ্ন এবং চিন্তিত' বলে মন্তব্য করেছেন। আর জঙ্গি তৎপরতা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে সকলকে সতর্ক ও সচেতন থাকা এবং ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে মানুষের মাঝে জঙ্গি বিরোধী মনোভাব তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছেন। চাঁদপুরের সচেতন কিছু মানুষের সাথে এ বিষয় নিয়ে কথা বললে তাঁরা এ পরামর্শ দেন। তাঁরা আরো বললেন, এটি চলমান প্রক্রিয়া। কোনো ঘটনা ঘটার পর সবাই নড়েচড়ে বসলাম, কিন্তু কিছু দিন পর এ বিষয়টি নিয়ে আর কোনো কথা হলো না, কিংবা অসচেতন, অসতর্ক হয়ে গেলো সবাই; তাহলে কিন্তু হবে না। সমাজের সকল পর্যায়ে জঙ্গিবাদের কুফল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। দেশের কিছু স্থানে জঙ্গিদের কর্মকা- হঠাৎ দেখা দেয়ায় এ থেকে চাঁদপুরকে কীভাবে মুক্ত রাখা যায় এবং জঙ্গিদের অপতৎপরতা রোধে কী করণীয় থাকতে পারে এ নিয়ে চাঁদপুর কণ্ঠের পক্ষ থেকে কথা হয় পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজসহ সচেতন মহলের কিছু ব্যক্তির সাথে। তাঁরা এ বিষয়ে নানা পরামর্শ দিয়েছেন এবং হঠাৎ জঙ্গিদের ধ্বংসাত্মক কর্মকা- প্রকাশ্যে চলে আসার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে সে বিষয়েও বলেছেন।



চট্টগ্রামের সীতাকু-ে একটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালালে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। ওই অভিযানে বেশ ক'জন জঙ্গি নিহত হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত শুক্রবার ঢাকার আশকোনায় হাজী ক্যাম্পের কাছে র‌্যাবের অস্থায়ী একটি ব্যারাকে এক যুবক অনধিকার প্রবেশ করতে গেলে র‌্যাব তাকে চ্যালেঞ্জ করার সাথে সাথে সে যুবক আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ওই যুবক ঘটনাস্থলেই মারা যায়। যুবকটি যদি অনায়াসেই ভেতরে ঢুকতে পারতো তাহলে হয়তো বড় ধরনের নাশকতা ঘটাতো। এ ঘটনার পরই সারাদেশে মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আর ওইদিনই সারাদেশে কারাগার, বিমানবন্দর ও নদী বন্দরে প্রশাসন রেড এলার্ট জারি করে। এই রেড এলার্ট চাঁদপুরেও রয়েছে। চাঁদপুর জেলা কারাগারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কারাগারের ভেতরে এবং বাইরে নিরাপত্তা প্রহরীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং সকল নিরাপত্তা কর্মী বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরে ডিউটি করছে। থানায় গেলেও দেখা গেছে যে, থানা ভবনের প্রবেশ মুখে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় এবং যার কাছে যাবে তার সাথে মোবাইলে কথা বলে তারপর তাকে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়। চাঁদপুর আদালত অঙ্গনের ভেতরে হাজতখানায়ও বেশ কড়াকড়ি লক্ষ্য করা গেছে। কোনো সভা-সমাবেশে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্যে প্রশাসন থেকে বলে দেয়া হচ্ছে। আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে প্রশাসন। সব মিলিয়ে প্রশাসন সর্বত্রই সতর্ক অবস্থায় আছে।



গত ১৯ মার্চ রোববার এ প্রতিবেদকের কথা হয় চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম-এর সাথে। তিনি বলেন, শুধুমাত্র প্রশাসন দিয়ে এ সমস্যা মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। জনগণকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। জঙ্গিবাদ এবং নাশকতা থেকে সমাজকে মুক্ত রাখতে হলে সতর্কতা ও সচেতনতার বিকল্প নেই। আমরা প্রত্যেকেই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সতর্ক ও সচেতন থাকি, তাহলে কোনো অপশক্তিই শেকড় গাঁড়তে পারবে না। কিন্তু আমরা তো সবাই সচেতন হচ্ছি না, সতর্ক দৃষ্টি রাখছি না। আমার বাসার আশপাশে কে থাকে, কারা থাকে, কারা আসা-যাওয়া করে সেদিকে নজর রাখতে হবে, খোঁজখবর রাখতে হবে। কারো গতিবিধি সন্দেহজনক হলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। আর আমরা তো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছিই। প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত প্রয়াস থাকলে কোনো অপশক্তিই স্থায়িত্ব পাবে না।



গতকাল সোমবার সকালে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় গেলে দেখা যায়, থানা ভবনের ভেতরে সকল গ্রাম পুলিশকে একত্রিত করা হয়েছে। তাদের সাথে কথা বলছেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ মহিউদ্দিন। কিছুক্ষণ পর থানার অফিসার ইনচার্জ ওয়ালীউল্লাহ অলিকে এসে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের ব্রিফিং দিতে দেখা যায়। তিনি চট্টগ্রামের সীতাকু- ও ঢাকার আশকোনায় জঙ্গিদের নাশকতার বিষয় তুলে ধরেন। গ্রাম পুলিশদের জঙ্গিদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। কোনো অপরিচিত লোকের আনাগোনা দেখলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা, তার গতিবিধির উপর নজর রাখা এবং সন্দেহজনক মনে হলে নজরদারিতে রেখে থানায় খবর দেয়ার জন্যে বলা হয়। একই সাথে তিনি মাদক ও বাল্যবিবাহের ব্যাপারেও এমন সতর্ক অবস্থানে থাকতে পরামর্শ দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।



জঙ্গিদের হঠাৎ নাশকতা প্রসঙ্গে কথা হয় চাঁদপুরের প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সুধীজনদের অন্যতম জীবন কানাই চক্রবর্তীর সাথে। তিনি বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশেই নয়, এটি বৈশ্বিক সমস্যা। এর পেছনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শক্তি রয়েছে। অনেক দিন ঘুমন্ত থাকার পর হঠাৎ জঙ্গিদের জেগে ওঠার ব্যাপারে তিনি বলেন, এর পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। তবে আমার ধারণা, শীর্ষ জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানের ফাঁসির রায় বহাল রাখার প্রতিক্রিয়ায় অথবা জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে এমনটি হতে পারে। এই অপশক্তি থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে পবিত্র ইসলাম ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। জঙ্গি ও সন্ত্রাস মনোভাবাপন্ন ব্যাখ্যা যে কোরআন-হাদিসের অপব্যাখ্যা তা জনগণকে বুঝতে হবে। আর এ ভূমিকা ইমাম এবং খতিব সাহেবগণই বেশি রাখতে পারেন। তাছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় সভা-সমাবেশেও আলেমগণ অবিকৃতভাবে কোরআন-সুন্নাহকে তুলে ধরলে ধর্মীয় জঙ্গিবাদ এমনিতেই নির্মূল হয়ে যাবে।



কথা হয় চাঁদপুর পুরাণবাজার কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদারের সাথে। তিনিও এটিকে বৈশ্বিক সমস্যা বলে উল্লেখ করেন। অনেক দিন পর আবার হঠাৎ জেগে ওঠার ব্যাপারে তাঁর মন্তব্য হচ্ছে, আমার ধারণা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকে কেন্দ্র করে জঙ্গিদের এই নাশকতা। ভারতের সাথে বাংলাদেশের কিছু চুক্তি হবে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে। তার বিরূপ প্রতিক্রিয়ায়ই হয়তো জঙ্গিরা এসব করছে। যাতে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। জঙ্গি তৎপরতা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে মানুষের মাঝে জঙ্গি বিরোধী মনোভাব তৈরি করার ব্যাপারে তিনি গুরুত্বারোপ করেন। আর তা হচ্ছেও। যা অতীতে বেশ ক'টি ঘটনাসহ সম্প্রতি সীতাকু-ের ঘটনা প্রমাণ করে। জনগণই এসব জঙ্গি আস্তানার খবর পুলিশকে দিয়েছে।



এমনিভাবে আরো কিছু সচেতন মানুষের সাথে কথা বললে তারাও প্রায় এক ও অভিন্ন ভাষায় জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ করতে সকলকে সতর্ক ও সচেতন থাকার পরামর্শ দেন।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৬৮০০৯
পুরোন সংখ্যা