চাঁদপুর। শুক্রবার ২১ এপ্রিল ২০১৭। ৮ বৈশাখ ১৪২৪। ২৩ রজব ১৪৩৮
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ***
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৯২। আমি আরও আদিষ্ট হইয়াছি, কুরআন তিলাওয়াত করিতে; অতএব যে ব্যক্তি সৎপথ অনুসরণ করে, সে সৎপথ অনুসুরণ করে নিজেরই কল্যাণের জন্যে। আর কেহ ভ্রান্ত পথ অবলম্বন করিলে তুমি বলিও, ‘আমি তো কেবল সতর্ককারীদের মধ্যে একজন।   


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 

একজন ভালো প্রশাসকই একজন ভালো রাজা হতে পারে।                      -মিচেল জিন। 


ধন দৌলত ফিরিয়া আসে এবং একটি শুধু কর্মই সঙ্গে থাকে।  


ফটো গ্যালারি
৯ম পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০১৭
উৎসবের আমেজে চাঁদপুর সদর উপজেলার প্রান্তিক পর্ব সম্পন্ন
*বিতার্কিকরা কখনো বিপথগামী হয় না : ডাঃ সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী *বিতর্কে জয় আছে পরাজয় নেই : আলহাজ্ব ইকবাল-বিন-বাশার
বিমল চৌধুরী
২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আনন্দঘন পরিবেশে উৎসবের আমেজে সম্পন্ন হলো চাঁদপুর সদর উপজেলার প্রান্তিক পর্ব। 'বিতর্কের বন্ধনে তারুণ্যের শৃঙ্খলা' এ শ্লোগানকে সামনে রেখে শুরু হওয়া ৯ম পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্ক প্রতিযোগিতার গতকালকের প্রান্তিক পর্বে চাঁদপুর সদর উপজেলার স্কুল-কলেজ পর্যায়ের ২৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে বিতার্কিকরা স্ব স্ব যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে নির্ধারিত বিষয়ে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। পক্ষ বিপক্ষ দলের বিতার্কিকদের যুক্তি-তর্কে মুখরিত হয়ে উঠে বিতর্ক স্থল। মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে জমজমাট করে তোলে উপস্থিত বিতর্ক প্রেমিকরা। গতকাল ২০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হওয়া প্রান্তিক পর্বের সমাপনী অনুষ্ঠান হয় বেলা সাড়ে ১২টায়। চাঁদপুর পৌর পাঠাগার আর চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে একযোগে অনুষ্ঠিত বিতর্ক প্রতিযোগিতা পর্ব শেষে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা প্রখ্যাত চিকিৎসক ডাঃ সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী। তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের জন্ম না হলে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেতাম না। আর স্বাধীন দেশ না পেলে আজকের এমন একটি সুন্দর অনুষ্ঠানে আসারও সুযোগ হতো না। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, ব্যক্তি জীবনে, রাষ্ট্রীয় জীবনে, সামাজিক জীবনে বড় হওয়ার একটা মাধ্যম থাকে। আর বিতর্ক তেমনই একটা মাধ্যম। যারা বিতর্ক করে তারা বিতার্কিক। আর বিতার্কিকরা কখনো বিপথগামী হয় না। তোমরা বড় হয়ে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সমাজের উন্নয়নে, মাদকাসক্তি দূরীকরণে, সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তোমরা বিতার্কিকরা কাজ করবে। তিনি বিতর্কের অগ্রযাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় চাঁদপুরে বিতর্কের প্রাণ পুরুষ কাজী শাহাদাতকে ধন্যবাদ জানান।



অনুষ্ঠানে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন চাঁদপুর কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাতা, সম্পাদক ও প্রকাশক, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি রোটারিয়ান আলহাজ্ব অ্যাডঃ ইকবাল-বিন-বাশার। তিনি বিতার্কিকদের উৎসাহ প্রদান করে বলেন, জীবনের সব জায়গাতেই পরাজয় আছে, শুধু বিতর্কে পরাজয় নেই। এখানে আছে শান্তি আর শিক্ষা। তিনি ছাত্র-ছাত্রীসহ শিক্ষার্থীদের ফেইসবুক আর গুগলে ঢুকে সময় নষ্ট না করে বিতর্কের বাগানে বেশি বেশি ঢোকার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, এমন একদিন আসবে ব্র্যান্ডিংয়ের শহর চাঁদপুরে দেশ-বিদেশের মানুষ আসবে বিতর্ক শোনার জন্য। তারা পয়সা দিয়ে টিকেট কিনে আমাদের সন্তানদের বিতর্ক শুনবে।



অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক ও সিকেডিএফের সভাপতি রোটারিয়ান কাজী শাহাদাত। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শরীফ চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সংগঠন চতুরঙ্গের মহাসচিব ও ইলিশ উৎসবের রূপকার হারুন আল রশীদ এবং বিশিষ্ট সংগঠক ও সাবেক ছাত্রনেতা আলীম আল রাজী কবির। বিচারকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সিকেডিএফের সিনিয়র সহ-সভাপতি, দৈনিক মেঘনা বার্তার সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন মিলন।



ফলাফল ঘোষণা করেন সিকেডিএফের সাধারণ সম্পাদক রাজন চন্দ্র দে। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মোঃ রাসেল হাসান। বিচার কার্য পরিচালনা করেন সিকেডিএফের উপদেষ্টা ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া, উপাধ্যক্ষ আফরোজা মেরী, সিকেডিএফের সিনিয়র সহ-সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলন, সহ-সভাপতি এ এইচ এম আহসান উল্লাহ, বিশিষ্ট আবৃত্তিকার বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদের সভাপতি সামীম আহমেদ খান, সিকেডিএফের আজীবন সদস্য ইসমত আরা সাফী বন্যা, যুগ্ম সম্পাদক উজ্জ্বল হোসাইন, সম্পাদক রাজন চন্দ্র দে ও সেরা বিতার্কিক রাসেল হাসান।



গতকাল প্রান্তিক পর্বে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে ১৩টি বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয়। এতে বিজয়ী হয় স্কুল পর্যায়ে লেডী প্রতিমা মিত্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (শ্রেষ্ঠ বক্তা তাহমিনা নূর সাদিয়া), ফরক্কাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় (শ্রেষ্ঠ বক্তা রিমা আক্তার পপি), লেডী দেহলভী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (শ্রেষ্ঠ বক্তা রোমানা আক্তার তিনি্ন), জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয় (শ্রেষ্ঠ বক্তা মোঃ রাইফুল ইসলাম), হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (মাশরুর সাদ ইমাদ), মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (শ্রেষ্ঠ বক্তা তাহসিন আক্তার অর্থী), আল আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজ (শ্রেষ্ঠ বক্তা বাবুরহাটের তাসনিম তামিলা) ও পুরাণবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (শ্রেষ্ঠ বক্তা চন্দ্রিমা দাস)।



কলেজ পর্যায়ে চাঁদপুর সরকারি কলেজ (চ-দল) (শ্রেষ্ঠ বক্তা মহিলা কলেজের আমেনা আক্তার পলি), ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ (শ্রেষ্ঠ বক্তা মোঃ সিয়াম মজুমদার), চাঁদপুর সরকারি কলেজ (গ-দল) (শ্রেষ্ঠ বক্তা রিভা আক্তার), চাঁদপুর সরকারি কলেজ (খ-দল) (শ্রেষ্ঠ বক্তা মুশফিকা ইসলাম), আল-আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজ (শ্রেষ্ঠ বক্তা মেহেদী হাসান)।



স্কুল পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বক্তাদের মাঝে সেরা হন মাশরুর সাদ ইমাদ (হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়), তাসনিম তামিলা (বাবুরহাট হাই স্কুল) ও মোঃ রাইফুল ইসলাম (জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়)।



কলেজ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ বক্তাদের মাঝে সেরা হন আমেনা আক্তার পলি (চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ ক-দল), মেহেদী হাসান (আল আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজ) ও মুশফিকা ইসলাম (চাঁদপুর সরকারি কলেজ খ-দল)।



বিজয়ী দলগুলোর মধ্যে নম্বর প্রাপ্তিতে স্কুল পর্যায়ে হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রথম, আল-আমিন একাডেমী দ্বিতীয় ও ফরক্কাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় তৃতীয় অবস্থান পায়। আর কলেজ পর্যায়ে নম্বর প্রাপ্তিতে চাঁদপুর সরকারি কলেজ 'চ' দল প্রথম, আল আমিন একাডেমী দ্বিতীয় এবং চাঁদপুর সরকারি কলেজ 'খ' দল তৃতীয় অবস্থান পায়।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১২২৮৫
পুরোন সংখ্যা