চাঁদপুর। সোমবার ১৯ জুন ২০১৭। ৫ আষাঢ় জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪। ২৩ রমজান ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬০। তোমাদিগকে যাহা কিছু দেওয়া হইয়াছে তাহা তো পার্থিব জীবনের ভোগ ও শোভা এবং যাহা আল্লাহর নিকট আছে তাহা উত্তম ও স্থায়ী। তোমরা কি অনুধাবন করিবে না?


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


অন্ধভাবে কাউকে ভালোবেসো না তার ফল শুভ হবে না।


                -কারলাইন।

যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ নয়, সে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ নয়। 


কলেজ শিক্ষক মিশুর বর্বরতার শিকার এবার আইনজীবী স্ত্রী
মির্জা জাকির
১৯ জুন, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুরে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির দায়ে শাস্তিমূলক বদলিপ্রাপ্ত সেই কলেজ শিক্ষকের বর্বরতার শিকার হয়ে তার স্ত্রী বর্তমানে হাসপাতালের বেডে অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। লালমনিরহাট পাটগ্রাম সরকারি জসমুদ্দীন কাজী আবদুল গণি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মুসলিম সরদার মিশু তার স্ত্রী অ্যাডঃ কুলসুমা বেগম কাকলীর উপর চাঁদপুর শহরের ভাড়া বাসায় ও ওই শিক্ষকের নিজ গ্রামের বাড়ি মতলবে দুই দফা এই নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে। এই নিয়ে রোববার চাঁদপুর মডেল থানায় নির্যাতিত স্ত্রী অ্যাডঃ কুলসুমা বেগম কাকলী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এলাকাবাসী শনিবার মধ্য রাতে শিক্ষক মিশুকে উত্তম মধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এ নিয়ে সর্বত্র ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নির্যাতনের শিকার আহত স্ত্রীর ছবিসহ কলেজ শিক্ষক মিশুর অতীত কর্মকা- সামাজিক ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।



শুক্রবার সন্ধ্যায় স্ত্রী কুলসুমা বেগম কাকলীর উপর নির্যাতন চালানো হয় চাঁদপুর শহরের বিটি রোডস্থ ভাড়া বাসায়। পরে অচেতন অবস্থায় সেখান থেকে নিয়ে মতলবে বোয়ালিয়া গ্রামে শ্বশুর বাড়ির আরো কয়েকজন মিলে দ্বিতীয় দফা নির্যাতন চালানো হয়। বর্তমানে নির্যাতিত আইনজীবী কুলসুমা বেগম কাকলী চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসাপাতালের ৩য় তলার ৬ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।



কুলসুমার ভাই আরিফ জানান, ৮ বছর আগে তার বোনের বিয়ে হয় মতলব দক্ষিণ উপজেলাধীন বোয়ালিয়া গ্রামের মুসলিম সরদার মিশুর সাথে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় যৌতুক হিসেবে নগদ টাকা দেয়ার জন্য মিশু তার বোনকে চাপ সৃষ্টি করে। পরে তাকে ৫ লাখ টাকা দেয়া হয় কিন্তু এরপরও সে থামেনি। পরবর্তীতে আবারও টাকা চাইলে না দিতে পারায় শুরু হয় তার বোনের উপর নির্যাতন। গত ৬ মাস আগে একবার তার বোনকে বেদমভাবে পিটিয়ে আহত করেছে মিশু। ওই ঘটনার পর থেকে দেড় বছরের শিশু কন্যাকে নিয়ে অ্যাডঃ কুলসুমা বেগম আলাদা থাকতে শুরু করেন। মুসলিম সরদার মিশুও শহরের তালতলায় আলাদা বাসায় বসবাস করেন।



বিটি রোডের বাড়িওয়ালা বাচ্চু মিয়া জানান, তার বাড়িতে ভাড়া নেয়ার পর প্রায়ই মিশু তার স্ত্রীর উপর হামলা করতো এবং গালি গালাজ করতো। বেশ কয়েকবার তিনি নিজে তাদের ঝগড়া থামিয়েছেন এবং মিশুকে সাবধান করেছেন।



এরই মধ্যে চাঁদপুর সরকারি কলেজে চাকরিকালীন তার রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের ৩ ছাত্রীকে নেশাযুক্ত দ্রব্য খাইয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগ চাঁদপুর সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ বরাবর অভিযোগ করা হলে বিষয়টি নিয়ে তখন তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার পর তখন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং অভিযুক্ত শিক্ষক মুসলিম সরদার মিশুকে লালমনিরহাটে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়। সে সময় স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায়ও লেখালেখি হয়।



হাসপাতালের বেডে থাকা নির্যাতিতা চাঁদপুর বারের সদস্য অ্যাডঃ কুলসুমা বেগম কাকলী জানান, লালমনির হাট থেকে বদলি হয়ে চাঁদপুর আসার জন্য সে তাকে ফোন করে ৫ লাখ টাকা দাবি করে। কিন্তু কুলসুমা তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। হঠাৎ শুক্রবার সন্ধ্যায় সে কুলসুমাকে ষোলঘরের ভাড়া বাসায় আসার জন্য বলে। কুলসুমা তার বাসায় আসলে মিশু তার সাথে কোন কথা না বলেই মারধর করতে থাকে। এক পর্যায়ে সে অচেতন হয়ে পড়ে। এই সময় মিশু অচেতন কুলসুমাকে সিএনজি স্কুটারে উঠিয়ে তার গ্রামের বাড়ি নিয়ে যায়। কুলসুমা তার উপর মিশুর ও তার পরিবারের মধ্যযুগীয় নির্যাতনের জন্য রাষ্ট্রের কাছে বিচার চেয়েছেন।



কুলসুমার নিকটাত্মীয় বড় বোনের জামাই ব্যাংকার আব্দুল মালেক জানান, মিশু তার বাড়িতে নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা মিলে কুলসুমার উপর ২য় দফা মারধর করেছে। প্যান্টের বেল্ট খুলে ও রুটি বানানোর বেলুন দিয়ে তাকে আঘাত করে। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে বহু কামড়ের চিহ্ন। অসহ্য ব্যথার যন্ত্রণায় ঘুমাতে পারছে না কুলসুমা বেগম। কুলসুমার বাপের বাড়ির লোকজন তার উপর নির্যাতনের খবর জানতে পেরে ওদিন রাত ১১টায় তাকে মতলবের মিশুর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে এনে ভর্তি করায়।



এই ব্যাপারে কলেজ শিক্ষক মুসলিম সরদার মিশুর সাথে শনিবার বিকেলে জানতে চাইলে তিনি তার স্ত্রীকে নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তার বদলি সংক্রান্ত কাগজপত্র ও বিভিন্ন সার্টিফিকেটের জন্য তিনি তার স্ত্রীকে বাসায় আসতে বলেছিলেন। কে বা কারা তার স্ত্রীকে মেরেছে তিনি জানেন না বরং মিশুকে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন মেরেছে বলে তিনি দাবি করেন।



এ ব্যাপারে চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওয়ালিউল্লাহ অলি বলেন, স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে ক্ষিপ্ত জনতা মুসলিম সর্দার মিশুকে আটক করে থানায় খবর দেয়। আমরা ঘটনাস্থলে পেঁৗছে তাকে থানায় নিয়ে আসি। মামলা হয়েছে। আজ মিশুকে আদালতে উঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে।



এ দিকে চাঁদপুরের বিভিন্ন মনাবাধিকার ও নারীবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সুধী সমাজ হাসপাতালে অ্যাডঃ কুলসুমা বেগম কাকলীর শয্যাপাশে গিয়ে খোঁজ খবর নেন এবং পাষ- কলেজ শিক্ষক মুসলিম সরদার মিশুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।



 



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৫৫৭৭৭
পুরোন সংখ্যা