চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১৮ জুলাই ২০১৭। ৩ শ্রাবণ ১৪২৪। ২৩ শাওয়াল ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • আজ ভোরে অ্যাডঃ এ.বি.এম. মোনাওয়ার উল্লা মৃত্যুবরন করেছেন (ইন্নালিল্লাহে.....রাজেউন)। তাঁর মৃত্যুতে চাঁদপুর রোটারী ক্লাব ও চাঁদপুর ডায়াবেটিক সমিতির পক্ষ থেকে গভীর শোক জানিয়েছেন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৮৭। তোমার প্রতি আল্লাহর আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর উহারা যেন তোমাকে কিছুতেই সেগুলি হইতে বিমুখ না করে। তুমি তোমার প্রতিপালকের দিকে আহ্বান কর এবং কিছুতেই মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হইও না। ’


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


বিয়ে করা ভালো কিন্তু প্রতিপালনে অক্ষম হলে না করাই ভালো।


                        -ডাব্লিউ জি বেনহাম।

যে ব্যক্তির স্বভাবে নম্রতা  নেই সে সর্বপ্রকার কল্যাণ হইতে বঞ্চিত।


হাসপাতাল প্রদত্ত সেবায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সেবার সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভায় মেয়র নাছির উদ্দিন আহাম্মেদ
আগামীতে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালকে স্বচ্ছতা জবাবদিহিতার দিক থেকে দেশে এক নম্বরে উন্নীত করা হবে
১৮ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


'স্বাস্থ্যসেবায় চাই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনঅংশগ্রহণ' এ শ্লোগান নিয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল প্রদত্ত সেবায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সেবার সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে গতকাল ১৭ জুলাই সোমবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, সেবাগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভা বেলা ১২টায় হাসপাতালের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সনাক সভাপতি কাজী শাহাদাত। মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র ও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, চাঁদপুর-এর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও কমিউনিটি সাপোর্ট কমিটির সভাপতি নাছির উদ্দিন আহাম্মেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ প্রদীপ কুমার দত্ত।



প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র নাছির উদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে আমাদের স্বাস্থ্যসেবাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমরা যারা দায়িত্বশীল তাদেরকে দায়িত্ব নিয়েই নিজ নিজ ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্যে আন্তরিকতার কোনো বিকল্প নেই। তিনি আরো বলেন, আমরা কেউই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঊধর্ে্ব নই। তাই সকল কাজে কর্তৃপক্ষকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রমাণ দিতে হবে জনগণের কাছে। তিনি বলেন, এ হাসপাতালে 'কমিউনিটি সাপোর্ট কমিটি' গঠিত হয়েছে। এই গ্রুপটি হাসপাতালের উন্নয়নে আগামীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ইতোমধ্যেই 'কমিউনিটি সাপোর্ট কমিটি'-এর সভা হয়েছে এবং সেখানে বিগত সভায় (হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, সেবাগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভা) গৃহীত বেশকিছু সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, চাঁদপুর পৌরসভা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দিক থেকে দেশে এক নম্বর। আগামীতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালকেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার



দিক থেকে দেশে এক নম্বরে উন্নীত করা হবে।



বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ প্রদীপ কুমার দত্ত বলেন, বিগত সভায় (হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, সেবাগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভা) গৃহীত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে 'কমিউনিটি সাপোর্ট গ্রুপ'-এর সভায় আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্যে পরিচয়পত্র প্রদান, পর্যাপ্ত ঔষধ সরবরাহ, ন্যায্যমূল্যের দোকান থেকে নির্দিষ্ট ছাড়ে ঔষধ বিক্রয়, হাসপাতালে দৈনন্দিন খাবারের বিস্তারিত তালিকা টাঙ্গানো, আয়রন ও আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহ, অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নকর্মী নিয়োগ, অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের জন্যে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে, যা ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়িত হবে। তিনি আরো বলেন, হাসপাতালের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, টিকেট কাউন্টার ও ঔষধ কাউন্টারের পৃথকীকরণ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা শীঘ্রই বাস্তবায়িত হবে। তিনি বলেন, সনাক, টিআইবি ও পৌর কর্তৃপক্ষসহ সকলের সহযোগিতা নিয়ে হাসপাতালটিকে একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে।



সভার সভাপতি কাজী শাহাদাত বলেন, হাসপাতালের 'কমিউনিটি সাপোর্ট কমিটি'-এর সভায় বিগত সময়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত সমূহের বাস্তবায়ন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র যিনি 'কমিউনিটি সাপোর্ট কমিটি'-এর সভাপতি আমরা তাঁকে সহায়তা করতে চাই। যেহেতু তিনি চান চাঁদপুর পৌরসভার ন্যায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালটিও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দিক থেকে দেশে এক নম্বর অবস্থানে আসুক।



সনাক সদস্য ইসমত আরা সাফি বন্যার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সনাক সদস্য ও স্বাস্থ্য বিষয়ক উপ-কমিটির আহ্বায়ক ডাঃ মোঃ একিউ রুহুল আমিন। তিনি বলেন, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালটি বর্তমানে বিগত সময়ের তুলনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে। মতবিনিময় সভার উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণ করেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও সনাকের উপদেষ্টা ডাঃ সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, প্রেসক্লাব সভাপতি শরীফ চৌধুরী, বিএমএম'র সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মাহমুদুন্নবী মাসুম, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর রেবেকা সুলতানা বকুল, চাঁদপুর সেন্ট্রাল ইনার হুইল ক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহমুদা খানম, চাঁদপুর আত্মনিবেদিতা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ডাঃ এসএম মোস্তাফিজুর রহমান, বিশিষ্ট নাগরিক পীযূষ কান্তি রায় চৌধুরী এবং হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ড থেকে সেবা গ্রহণকারী মিনু বেগম ও শিশু ওয়ার্ড থেকে সেবা গ্রহণকারী আব্দুল হালিম। মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীগণ হাসপাতালের সেবা প্রাপ্তি, সেবা বিষয়ক বিভিন্ন সমস্যা এবং তার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন। মতবিনিময়ের শুরুতে বিগত মতবিনিময় সভার কার্যবিবরণী তুলে ধরেন টিআইবি'র এরিয়া ম্যানেজার মোঃ মাসুদ রানা। এর আগে হাসপাতাল চত্বরে ইয়েস ও ইয়েস ফ্রেন্ডস্ পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ তথ্য ও পরামর্শ ডেস্কের মাধ্যমে সেবা প্রত্যাশীদেরকে তথ্য সেবা প্রদান করা হয়।



সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সনাক চাঁদপুরের সদস্য প্রফেসর মনোহর আলী, প্রফেসর মোহাম্মদ হোসেন খান, আলহাজ্ব আঃ সামাদ দেওয়ান, নজরুল আমিন চৌধুরী, মোঃ আবদুল মালেক, বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিক, হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সাধারণ জনগণ প্রতিনিধি, সনাকের ইয়েস ও ইয়েস ফ্রেন্ড্স সদস্য এবং টিআইবি'র কর্মীবৃন্দ।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৫০৯৩০
পুরোন সংখ্যা