চাঁদপুর। রোববার ১৩ আগস্ট ২০১৭। ২৯ শ্রাবণ ১৪২৪। ১৯ জিলকদ ১৪৩৮
kzai
muslim-boys

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৯-সূরা আনকাবূত

৬৯ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৮। স্মরণ কর লুতের কথা, সে তাহার সম্প্রদায়কে বলিয়াছিল, ‘তোমরা তো এমন অশ্লীল কর্ম করিতেছ, যাহা তোমাদের পূর্বে বিশ্বে কেহ করে নাই।   

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন




একটি সুন্দর মন থাকা একটি সুন্দর রাজ্যে বসবাস করার আনন্দের মতো।                     

 -জনওয়েলস।


রাসূল (সাঃ) বলেছেন, নামাজ আমার নয়নের মণি।


ফটো গ্যালারি
সব উপজেলায় শেখ মানিক বনাম সাবেক এমপি গ্রুপের দ্বৈত কমিটি
বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না চাঁদপুরের বিএনপি
চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট
১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

বাংলাদেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। সারা দেশে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে চাঁদপুর বেশ পরিচিত হলেও অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দলের কারণে সাংগঠনিক শক্তিতে ক্রমশঃ দুর্বল হয়ে পড়ছে এ দলটি। জেলার আট উপজেলায়ই দুটি করে গ্রুপ রয়েছে। সব উপজেলায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলয় বনাম সাবেক এমপিদের দ্বৈত কমিটি বিদ্যমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন। দলের দুঃসময়েও বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না চাঁদপুরের বিএনপি। দলের ভেতর চলমান প্লাস-মাইনাসের রাজনীতি-এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ। তারা মনে করছেন, কেন্দ্র থেকেই এখানকার দলীয় কোন্দল জিইয়ে রাখা হয়েছে। তা না হলে বছরের পর বছর জেলা বিএপির আহ্বায়ক কমিটি কীভাবে থাকছে, নতুন কমিটি করার খবর নেই। কোন্দল নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ কেন্দ্র থেকে নেয়া হচ্ছে না।

খোদ চাঁদপুর জেলা শহরে শেখ মানিকের সাথে চরম দ্বন্দ্ব জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান সফিকুর রহমান ভূঁইয়ার। এই সফিক ভূঁইয়া একটা সময় শেখ ফরিদ আহমেদ মানিককে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় করেছিলেন। অথচ সেই মানিক দলের নেতৃত্ব পেয়ে সফিক ভূঁইয়াকে কোণঠাসা করে রাখতে চাইছেন। সফিক ভূঁইয়ার অনুসারী নেতা-কর্মীরা মনে করেন, প্রায় ৩৫ বছর বিএনপির রাজনীতিতে যারা ত্যাগী সেসব নেতাকে মানিক সাহেব কেন্দ্রের প্রভাবে বেশি দিন নেতৃত্ব থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারবে না। এ ছাড়াও মানিকের সাথে দ্বন্দ্ব রয়েছে চাঁদপুর-৩ সদর আসনের সাবেক এমপি জিএম ফজলুল হকের। চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলায়ও বিএনপির দুই গ্রুপ-বর্তমান কমিটির মানিক গ্রুপ আর সফিক ভূঁইয়া ও সাবেক এমপি জিএম ফজলুল হক গ্রুপ। ফরিদগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপিতে দুটি কমিটি সক্রিয়। এখানে সাবেক এমপি লায়ন হারুনুর রশিদের সাথে শেখ মানিক মোতাহের হোসেন পাটওয়ারীকে মাঠে রেখেছেন বলে সেখানকার নেতা-কর্মী সূত্রে জানা যায়। হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি পৌর এবং উপজেলায়ও রয়েছে দুটি গ্রুপ। এখানেও গত নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিঃ মমিনুল হকের সাথে বিরোধ ধরে রাখার জন্যে মানিক সাহেবের কমিটি কাজ করেছে। কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও এমপি আনম এহছানুল হক মিলন যখন কচুয়া উপজেলাকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন, বর্তমান সরকারের সময় এক বছরের অধিক সময় তিনি কারাগারে আটক ছিলেন, যার বিরুদ্ধে অনেক মামলা, সেই মিলনের উপজেলায়ও মানিকের কমিটি। এ উপজেলায় মিলনের কমিটির সাথে মোশারফ ও হুমায়ুন কবির প্রধানের কমিটি রয়েছে। দ্বৈত কমিটি থেকে বাদ থাকেনি মতলব দক্ষিণ ও উত্তর উপজেলা বিএনপি। এখানেও সাবেক এমপি মরহুম নূরুল হুদা গ্রুপের নেতৃত্বে এখন তাঁর ছেলে তানভীর হুদা। এই গ্রুপের সাথে মাঠে আছে ড. জালাল গ্রুপ। সাবেক এমপির অনুসারীদের বাদ রেখে দুই মতলবে মানিক বলয়ের বিএনপির কমিটি রয়েছে।

সম্প্রতি চাঁদপুর জেলার দলীয় বিরোধ নিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা টেবিলে বসেছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক টিমের প্রধান মীর নাসির। ওই সভায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে স্থান পাওয়া চাঁদপুরে ১শ' জন সদস্যদের মধ্যে ঊনিশজন নির্বাহী কমিটি বর্তমান জেলা কমিটির বিপক্ষে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন বলেন নির্বাহী কমিটির একাধিক সদস্য জানান। পরবর্তীতে দলের চেয়ারপার্সনের নির্দেশে সাংগঠনিক টিমের চাঁদপুর সফর বাতিল করা হয়। ওই সফরে মীর নাসির চাঁদপুর জেলা বিএনপির সমন্বয় সভা করার কথা ছিলো।

এখানে উল্লেখ্য, ৯১'র জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে চাঁদপুর জেলার ছয়টি আসনের অধিকাংশ আসনে বিএনপির প্রার্থীরা জয়লাভ করে আসছে। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এ জেলার সব ক'টি আসনে জয়লাভ করছিলো। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে শুধুমাত্র একটিতে জিতেছে ধানের শীষের প্রার্থী। দলীয় কোন্দলের কারণে ওই নির্বাচনে বিএপির নিশ্চিত একাধিক আসনও হাতছাড়া হয় বলে অভিমত পর্যক্ষেক মহলের। দলটি প্রায় দশ বছর ক্ষমতার বাইরে। নেতা-কর্মীরা মামলায় জর্জরিত। সভা-সমাবেশ করার প্রকাশ্যে তেমন স্পেস পাচ্ছে না। সামনে আবারো আন্দোলন ও নির্বাচন। এ দু'টিকে সামনে রেখে দল যখন এগুচ্ছে ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকে, সেখানে দলীয় বিভাজনে চাঁদপুরের বিএনপি আবারো বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন এখানকার রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল। আন্দোলন ও নির্বাচনের ফসল ঘরে তুলতে হলে এ ক্ষেত্রে সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীর সমন্বয় যেমন দরকার, তেমনি কমিটিগুলো ঢেলে সাজাতে হবে। আনতে হবে নেতৃত্বের পরির্বতন-অভিমত তাদের।

এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৪৪১৬৭
পুরোন সংখ্যা