চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ১৭ আগস্ট ২০১৭। ২ ভাদ্র ১৪২৪। ২৩ জিলকদ ১৪৩৮
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • হাজীগঞ্জে আটককৃত বিএনপি'র ১৭ নেতাকর্মীকে জেলহাজতে প্রেরন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৯-সূরা আনকাবূত


৬৯ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৩১। যখন আমার প্রেরিত ফিরিশ্তাগণ সুসংবাদসহ ইব্রাহীমের নিকট আসিল, তাহারা বলিয়াছিল, ‘আমরা এই জনপদবাসীকে ধ্বংস করিব, ইহার অধিবাসীরা তো যালিম।  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


জীবনে শুধু একবার বিবাহ করা যায়, সে উৎসবের পুনরাবৃত্তি অসুন্দর।                     


                            -অন্নদাশঙ্কর।


 


মুসলমান ভাইয়ের সাথে ঝগড়া ফ্যাসাদ করিও না, ওয়াদা ভঙ্গ করিও না।


 

ফটো গ্যালারি
চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় ডাঃ দীপু মনি এমপি
সোহারাওয়ার্দীর পর এই বাংলার নেতা তো একজনই বঙ্গবন্ধু, তাঁকে নিয়ে আবার নতুন করে ষড়যন্ত্রের খেলা শুরু হয়েছে
চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট
১৭ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলার অবিসংবাদিত নেতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজ মহাপ্রয়াণ দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় বাংলার সেই মীর জাফররা এখনো নিঃশেষ হয়ে যায়নি। তাদের কিছু প্রেতাত্মা বাংলার মাটিতে আজো ঘাপটি মেরে আছে। তাদের অপতৎপরতা এবং ষড়যন্ত্র থেমে নেই। সুযোগ পেলেই তারা ছোবল দেয়, ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা চালায়। সেই ষড়যন্ত্রের খেলা আবার নূতন করে শুরু হয়েছে। জাতির পিতার মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এ কথা বলতে চাই, বাংলার মানুষ অতীতেও কোনো ষড়যন্ত্রকে সফল হতে দেয়নি, এখনও এবং ভবিষ্যতেও দিবে না। ষড়যন্ত্রকারীরা ব্যর্থ হবেই হবে। সে যেই হোক, যত বড় ক্ষমতাধারীই হোক। জাতীয় শোক দিবস ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাঃ দীপু মনি এমপি এভাবেই বলিষ্ঠ কণ্ঠে বক্তব্য রাখেন।



১৫ আগস্ট মঙ্গলবার চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ দীপু মনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এই বাংলার মানুষের মুক্তির জন্যে আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন। জীবনের ১৯টি বছর তিনি জেলে কাটিয়েছেন। তাঁর প্রিয়তমা সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুনেছা ছিলেন তাঁর (বঙ্গবন্ধুর) সকল কাজের প্রেরণার উৎস। তিনি বঙ্গবন্ধুকে বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ে সবসময় সাহস যুগিয়েছেন, প্রেরণা দিয়েছেন। পঁচাত্তরের পনরই আগস্ট ঘাতকরা এই মহীয়সী নারীকেও নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। ডাঃ দীপু মনি বলেন, স্বাধীন বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা এবং জনক তো একজনই। এখন নূতন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে তাঁর সমপর্যায়ে অন্য কাউকে বসাতে। ইতিহাস বিকৃতির কলঙ্কের বোঝা বাঙালি পঁচাত্তরের পর একুশটি বছর বহন করেছে। এই বাংলায় সঠিক ইতিহাস এখন সুপ্রতিষ্ঠিত। ১৯৯৬ সালে এবং পরবর্তীতে ২০০৯ সালে জনগণের সরকার তথা শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় এসে বাংলার জনগণকে সেই ইতিহাস বিকৃতির অভিশাপ থেকে মুক্তি দেয়। দীপু মনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনি দেশী-বিদেশী চক্রান্তকারীরা আবার নূতন করে ইতিহাস বিকৃতির ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তিনি বলেন, ১৯৬৩ সালে হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর এই বাংলার নেতা তো একজনই ছিলেন। তাঁর (বঙ্গবন্ধুর) নেতৃত্বেই তো ৬৪, ৬৬, ৬৯-এর আন্দোলন, ৭০-এর নির্বাচন এবং ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। তাঁর জীবনের সিংহভাগ সময়ই তো তিনি বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফুটানের জন্যে বিসর্জন দিয়েছেন। এভাবেই তো তিনি বাঙালি জাতির পিতা হয়েছেন। এখন বাঙালির সেই অবিসংবাদিত নেতাকে নিয়ে তথা বাঙালির অস্তিত্বকে নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্রের খেলা শুরু হয়েছে। অতএব আমাদের সতর্ক এবং সজাগ থাকতে হবে। বাংলার জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না ইনশাআল্লাহ। ডাঃ দীপু মনি বলেন, দেশের আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ এবং নির্বাহী বিভাগ এ তিনটি অঙ্গ তার সমান মর্যাদা নিয়ে পারস্পরিক যে পরিপূরক কাজ সেটি নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে কাজ করবে। সেখানে একের উপরে অন্যের অন্যায় শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করতে গিয়ে, একের উপর অন্যের মত চাপিয়ে দিতে গিয়ে ইতিহাস বিকৃতির আবার যে নতুন খেলা শুরু হয়েছে এটি শুভ নয়। এটির পরিণাম কখনো শুভ হতে পারে না। কাজেই আমাদের প্রত্যেককে সতর্ক হতে হবে। আজকে জাতির পিতার এই মহাপ্রয়াণ দিবসে আমাদের অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে হবে আবারো, আমরা যখন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি তখন এই যত বিচ্যুতি আছে, যত বিভ্রান্তি আছে সেগুলো দূর করতে হবে। যত অপপ্রচার, মিথ্যাচার আছে তা দূর করতে হবে। আর যারা নাশকতা করে দেশ বিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে দেশের সম্পদ বিনষ্ট করে ক্ষমতায় যাবার বাঁকা পথ খুঁজে নানান রকমের দিবাস্বপ্ন দেখেন এদেশকে আবার পাকিস্তান বানাবার, তাদের সকল অপচেষ্টাকে আমাদের প্রতিহত করতে হবে, রুখে দাঁড়াতে হবে। প্রাণের এই বাংলাদেশ আর বার বার পেছনের দিকে ফিরে যাবে না। এই বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের প্রেতাত্মাদের কবলে পড়বে না। এই বাংলাদেশ জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে শুধুমাত্র সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এবং জাতির পিতার যেই স্বপ্নের বাংলাদেশ সেই অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দিকেই আমরা এগিয়ে যাবো। আমাদের প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে আমাদের যা করণীয়, ইতিহাসকে তার সঠিক জায়গায় রেখে জাতির পিতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থকে পরিহার করে বৃহত্তর স্বার্থকে জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে সমুন্নত রেখে আমরা প্রত্যেকে দায়িত্ব এবং কর্তব্য পালন করবো। আর যা কিছু বিচ্যুতি আছে, যা কিছু ভ্রান্ত, যা কিছু পচা, নষ্ট, পাকিস্তানী তার সব কিছুকে আমাদের সমূলে আস্তাকুঁড়ে ফেলে দিতে হবে। তা সে যেই হোক না কেনো, যত বড়ই হোক না কেনো।



জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডলের সভাপ্রধানে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদ্য বিদায়ী কমান্ডার এম এ ওয়াদুদ, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শরীফ চৌধুরী ও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী অধ্যাপিকা মাসুদা নূর খান। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন জেলা কালচারাল অফিসার আবু সালেহ মোঃ আব্দুল্লাহ।



এর আগে চাঁদপুর শহরে বিশাল র‌্যালি বের হয়। র‌্যালির আগে ডাঃ দীপু মনি এমপির নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, জেলা পরিষদসহ সরকারি সকল দপ্তর, শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। এর আগে সকাল ৮টায় আওয়ামী লীগ ও সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে জমায়েত হয়। যেখানে ডাঃ দীপু মনিসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। ডাঃ দীপু মনি এদিন চাঁদপুর সদরের বেশ ক'টি ইউনিয়ন এবং এলাকায় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বিকেলে তিনি হাইমচর উপজেলার কর্মসূচিতে যোগ দেন।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২২৯৯৯৭
পুরোন সংখ্যা