চাঁদপুর। শুক্রবার ২০ অক্টোবর ২০১৭। ০৫ কার্তিক ১৪২৪। ২৯ মহররম ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩০-সূরা রূম


৬০ আয়াত, ৬ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৪৪।  যে কুফরি করে, কুফরির শাস্তি তাহারই প্রাপ্র্য; যাহারা সৎকর্ম করে তাহারা নিজেদেরই জন্য রচনা করে সুখসশ্যা।


৪৫। কারণ যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাহাদেরকে নিজ অনুগ্রহে পুরস্কৃত করেন। তিনি কাফিরদেরকে পছন্দ করেন না।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


সন্দেহ করার চেয়ে বিশ্বাস করা সহজ।


                                  -ইডিমাটিন।

যে সব ব্যক্তি নিন্দুক এবং যারা অপমানকারী, তাদের সর্বনাশ, অর্থাৎ তারা কষ্টদায়ক পরিণতি প্রাপ্ত হবে।


হাজীগঞ্জে দুই বখাটের উত্ত্যক্তে অতিষ্ঠ হয়ে আত্মহত্যা করলো জেডিসি পরীক্ষার্থী
কামরুজ্জামান টুটুল
২০ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


হাজীগঞ্জে দুই বখাটের উত্ত্যক্তে অতিষ্ঠ হয়ে হালিমা আক্তার (১৫) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রী গত বুধবার সন্ধ্যায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার হাটিলা পশ্চিম ইউনিয়নের পাতানিশ গ্রামের পাটওয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। হালিমা আক্তার আগামী ১ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিলো। এ ঘটনায় নিহতের পিতা ফজলুল হক বাদী হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগ এনে ওই দুই কিশোরের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং-১৪।



হালিমা আক্তার পাতানিশ গ্রামের ফজলুল হকের ছোট মেয়ে। সে সুহিলপুর এবিএস ফাযিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলো। পুলিশ নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্যে চাঁদপুর মর্গে পাঠিয়েছে।



মামলার আসামীরা হলো একই গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে মোঃ ইউনুস মিয়া (১৪) ও দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মোঃ ইকবাল হোসেন (১৬)। ইউনুস সুহিলপুর এবিএস ফাযিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণী ও ইকবাল হোসেন সুহিলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তারা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা।



থানায় দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা গেছে, হালিমা আক্তার মাদ্রাসায় আসা-যাওয়ার পথে ইউনুস ও ইকবাল পৃথকভাবে প্রায়ই তাকে প্রেম নিবেদন করে উত্ত্যক্ত করতো। গত ১২ অক্টোবর ইকবাল প্রেমের প্রস্তাব নিয়ে হালিমার বাড়িতে যায়। তখন হালিমার বাবা ফজলুল হক ইকবালকে গালমন্দ করেন। জবাবে ইকবালও হালিমা এবং তার বাবাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। গত ১৮ অক্টোবর বুধবার হালিমা মাদ্রাসায় মডেল টেস্ট পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় ইকবাল হালিমার বাড়ির পশ্চিম পাশে এসে তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে। এ সময় অপর উত্ত্যক্তকারী বখাটে ইউনুস ঘটনাটি দেখে ফেলে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও মারামারি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার সন্ধ্যার আগে বখাটে ইউনুস দা নিয়ে হালিমার বাড়িতে গিয়ে তাদের বসতঘরের ঘর-দরজা কুপিয়ে ক্ষতিসাধন করে। ইউনুস হালিমা ও তার বাবাকে গালমন্দ করে চলে যায়।



হালিমার মা রহিমা খাতুন জানান, ইউনুস ঘর-দরজা ভাংচুর করার পর বখাটে ইকবাল এসে হালিমাকে পুনরায় গালমন্দ করে। এতে হালিমা লজ্জা ও অপমান সহ্য করতে না পেরে আমাদের অগোচরে বসতঘরের পাশে কাঁঠাল গাছের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেয়। পরে আমরা ঘটনা টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েনিয়ে যাই। সেখানে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।



রহিমা খাতুন আরো জানান, ওই দুই ছেলে আমার মেয়েকে পথেঘাটে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিলো। তাদের অভিভাবকদের জানিয়ে কোনো প্রতিকার পাইনি। উপরন্তু ঘটনার দিন বিকেলে ইউনুসের মা এসে আমার মেয়ে ও আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে গেছেন। তিনি তার মেয়ের আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান।



এ প্রসঙ্গে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাবেদুল ইসলাম চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, এ বিষয়ে হালিমার বাবা বাদী হয়ে দু'জনকে আাসামী করে মামলা দায়ের করেছেন। আসামীদ্বয়কে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫০২৮৯
পুরোন সংখ্যা