চাঁদপুর। সোমবার ২০ নভেম্বর ২০১৭। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪। ৩০ সফর ১৪৩৯
kzai
muslim-boys

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩২- সূরা সেজদাহ

৩০ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মক্কী’

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১১। বলুন, তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।

১২। যদি আপনি দেখতেন যখন অপরাধীরা তাদের পালনকর্তার সামনে নতশির হয়ে বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা দেখলাম ও শ্রবণ করলাম। এখন আমাদেরকে পাঠিয়ে দিন, আমরা সৎকর্ম করব। আমরা দৃঢ়বিশ্বাসী হয়ে গেছি।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


সংসারে যে সবাইকে আপন ভাবতে পারে, তার মতো সুখী নেই।              

-গোল্ড স্মিথ।


দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞানচর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


ফটো গ্যালারি
সেবা আয়েশা গার্ডেনের কেয়ারটেকার দেলোয়ার হত্যাকা-
মামলার তদন্তভার পিবিআই'র উপর রহস্য উদ্ঘাটনে আশাবাদী
ভবন মালিকের উপর নিহতের পরিবারের অসন্তোষ
চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট
২০ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর শহরের চাঞ্চল্যকর দেলোয়ার হত্যা মামলার তদন্তভার এখন পুলিশের সর্বোচ্চ তদন্ত সংস্থার উপর। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন তথা পিবিআই নামে এ সংস্থাটি চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার তদন্ত করছে। গত মাসের শেষদিকে মামলাটি ডিবি থেকে পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়। মামলাটির এখন তদন্ত কর্মকর্তা হচ্ছেন পিবিআইর ইন্সপেক্টর মোনায়েম।



গত ১৬ অক্টোবর চাঁদপুর শহরের ট্রাক রোডস্থ সেবা আয়েশা গার্ডেনের কেয়ারটেকার দেলোয়ার হত্যাকা-ের ঘটনায় প্রথমে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। একদিন পর মামলার তদন্তভার দেয়া হয় জেলা গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি পুলিশ)। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ আলমগীর হোসেন ছিলেন তখন এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। ডিবি পুলিশ দেলোয়ার হত্যাকা-ের পরদিনই চাঁদপুর জেলা কারাগার এলাকায় একটি বাড়ির সামনে থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলটি দেলোয়ারকে জবাই করে খুনিরা যে চারটি মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে তার একটি। এর দু-একদিন পর মহামায়া এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরো একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে ডিবি পুুলিশ। ঘটনার চারদিনের মাথায় ২০ অক্টোবর রাতে ডিবি পুলিশ হাজীগঞ্জ উপজেলার আলীগঞ্জ এলাকা থেকে জিল্লুর রহমান ওরফে জিল্লু চোরা (৩০) নামে কুখ্যাত এক চোরকে আটক করে। তাকে দেলোয়ার হত্যা মামলায় আটক দেখানো হয়েছে। সে এ হত্যাকা-ের সাথে জড়িত থাকতে পারে বলে পুলিশের ধারণা। এ মামলায় কাজ করতে গিয়ে ডিবি পুলিশের অর্জন এতটুকুই। এর কিছুদিন পর মামলাটি পিবিআই'র কাছে হস্তান্তর করা হয়। এখন মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে।



চাঁদপুর শহরের নিউ ট্রাক রোডস্থ নয়তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবন সেবা আয়েশা গার্ডেনের নিচতলায় এর কেয়ারটেকার দেলোয়ার হোসেনকে (৫৮) তার রুমের ভেতর দুর্বৃত্তরা জবাই করে নৃশংসভাবে খুন করে। এছাড়া তার পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে খুনিরা। ঘটনাটি ঘটে গত ১৫ অক্টোবর দিবাগত গভীর রাতের কোনো এক সময়। দুর্বৃত্তরা দেলোয়ারকে খুন করে চারটি মোটরসাইকেল নিয়ে যায়। রাতের অাঁধার কেটে ভোরের আলো ছড়ানোর সাথে সাথে এ হত্যাকা-ের খবর ছড়িয়ে পড়ে। সকালে ঘটনাস্থলে পুলিশ সুপারসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশ ও পিবিআই সদস্যরা চলে আসেন। এর আগেই এলাকাবাসীর ভিড় জমে যায় সেবা আয়েশা গার্ডেনে। খবর পেয়ে সংবাদ কর্মীরাও ছুটে যায় ঘটনাস্থলে। লোমহর্ষক ও চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকা-ের ধরন দেখে সবাই হতবাক হয়ে যান। এ ঘটনা পুরো জেলায় আলোড়ন সৃষ্টি করে। আইনশৃঙ্খলার একাধিক বাহিনী এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে এবং খুনিদের চিহ্নিত করতে মাঠে নেমে যায়। নানা তথ্য-উপাত্তের সূত্র ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরের সদস্যরা জেলার বাইরেও অনুসন্ধান চালায়। তবে হত্যা ঘটনার সার্বিক চিত্র দেখে সকলের প্রতীয়মান হয়, সংঘবদ্ধ পেশাদার খুনি চক্র ঠা-া মাথায় এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ জন্যে এ রহস্য উদ্ঘাটনে বর্তমান তদন্ত সংস্থা পিবিআই খুব বিচক্ষণতার সাথে কাজ করছে। তারা আশাবাদী যে, খুনিদের তারা শনাক্ত করতে পারবেন।



গতকাল রোববার চাঁদপুর শহরের ওয়্যারলেস এলাকায় অবস্থিত পিবিআই অফিসে গিয়ে কথা হয় দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মোনায়েমেরে সাথে। তিনি জানান, মামলাটি খুব গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। নিবিড়ভাবে তদন্ত কাজ চলছে। অগ্রগতিও আছে। সংগৃহীত নানা তথ্য-উপাত্ত তারা খতিয়ে দেখছেন, যাচাই-বাছাই করছেন। প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁরা পুরো ঘটনা এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিচার বিশ্লেষণ করছেন। জিল্লু চোরা নামে যে একজন আটক হয়েছে তার কাছ থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে। তিনি আশাবাদী যে, এ কাজে তারা সফল হবেন। তবে তিনি কিছুটা হতাশার সুরে বলেন, আসলে কেউ কোনো তথ্য দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করছে না। এলাকার বা ঘটনার আশপাশের কেউ মুখ খুলছে না। কোনো না কোনো ক্লু পেলেই তো আমরা সে পথ ধরে এগুবো। এখন কেউ যদি মুখ না খুলে, আমাদের সহযোগিতা না করে তাহলে এর তদন্ত কাজ কঠিন হয়ে যাবে। এমন ঘটনা দুর্বৃত্তরা সময় নিয়েই ঘটিয়েছে। একজন মানুষকে জবাই করে হত্যা নিশ্চিত হওয়ার পরই দুর্বৃত্তরা চারটি মোটরসাইকেল নিয়ে চলে গেছে। ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ খুনি চক্র এই ভবনে ঢুকার সময় থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যাওয়া পর্যন্ত কেউ না কেউ অবশ্যই দেখেছে। সেই দেখা ব্যক্তিদের থেকেই আমরা তথ্য চাচ্ছি। তা পেলে আমাদের জন্যে কাজটি সহজ হবে।



এদিকে নিহত দেলোয়ারের একমাত্র ছেলে আবদুল মালেক জুয়েলের সাথে এ প্রতিবেদক কথা বলেন। তিনি অনেকটা হতাশা এবং ভবন মালিকদের উপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, যে বাড়িটির নিরাপত্তার দায়িত্বে থেকে আমার বাবাকে জীবন দিতে হলো, সেই মালিক পক্ষ থেকে কেউ আমাদের কোনো খোঁজখবর নিচ্ছে না এবং মামলার বিষয়েও কোনো সহযোগিতা করছে না। তিনি জানান, ঘটনার পর প্রথম চারদিন শুধু আমাদের খোঁজখবর নিয়েছে। আর আর্থিক সহযোগিতা বলতে ওই চারদিন পর্যন্তই আমাদেরকে মোট ত্রিশ হাজার টাকা দিয়েছে। এর মধ্যে আমার বাবার এক মাসের বেতন ১০ হাজার টাকা, লাশের দাফন-কাফনসহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্যে ১০ হাজার টাকা আর চারদিনের দোয়া অনুষ্ঠানের জন্যে দিয়েছে ১০ হাজার টাকা। সেই চারদিনের দোয়া অনুষ্ঠানের পর এ পর্যন্ত আর কোনো খোঁজখবর মালিক পক্ষ নেয়নি।



উল্লেখ্য, সেবা আয়েশা গার্ডেন নামে এ বহুতল ভবনটি একেবারেই অরক্ষিত অবস্থায় ছিলো। এটিতে কোনো সিসি ক্যামেরাও ছিলো না। এমনকি ভবনের নিচতলায় গ্যারেজের তিনদিকে বাউন্ডারী দেয়ালের উপরে ফাঁকা। ভবনের প্রধান গেইটের সাথে যে পকেট গেইট রয়েছে সে গেইটের উপরেও ফাঁকা জায়গা রয়েছে। এসব ফাঁকা জায়গা দিয়ে টপকে অনায়াসে মানুষ আসা-যাওয়া করতে পারবে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৪২৫১৪
পুরোন সংখ্যা