চাঁদপুর। শুক্রবার ১২ জানুয়ারি ২০১৮। ২৯ পৌষ ১৪২৪। ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৩-সূরা আহ্যাব


৭৩ আয়াত, ৯ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৭২। আমি আকাশ পৃথিবী ও পর্বতমালার সামনে এই আমানত পেশ করেছিলাম, অতঃপর তারা একে বহন করতে অস্বীকার করল এবং এতে ভীত হল; কিন্তু মানুষ তা বহন করল। নিশ্চয় সে জালেম-অজ্ঞ।


৭৩। যাতে আল্লাহ মুনাফিক পুরুষ, মুনাফিক নারীর, মুশরিক পুরুষ, মুশরিক নারীদেরকে শাস্তি দেন এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে ক্ষমা করেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


 


 


 


সবকিছুর মধ্যে আইনই হচ্ছে রাজা।


-হেনরি আলফোর্ড।


 


 


পিতার আনন্দে খোদার আনন্দ এবং পিতার অসন্তুষ্টিতে খোদার অসন্তুষ্টি।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
ভিডিও কনফারেন্সে চাঁদপুরে তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী
চাঁদপুরে তো দেখি চাঁদের হাট ভালই বসেছে, ট্যুর লঞ্চ সার্ভিস চালু করতে পারে পর্যটন করপোরেশন
চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট
১২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল, আন্তরিকতা ও হৃদ্যতাপূর্ণভাবে চাঁদপুরের প্রান্তিক জনগণের সাথে কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ মিনিট ধরে চলে তাঁর এ কথোপকথন। কথা বলেছেন একজন মৎস্যজীবী ও একজন কৃষিজীবীর সাথে। এছাড়া জেলা প্রশাসক চাঁদপুরে উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তুলে ধরেছেন। দুই সহস্রাধিক মানুষ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চাঁদপুরের প্রান্তিক জনগণের সাথে প্রধানমন্ত্রীর এ কথোপকথন সরাসরি উপভোগ করেছেন। এই দর্শকসারির সম্মুখভাবে বসা ছিলেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি। আরো ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম দুলাল পাটওয়ারী, চাঁদপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওচমান গণি পাটওয়ারী সহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।



চাঁদপুর স্টেডিয়ামে গতকাল বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনদিনব্যাপী ৩য় উন্নয়ন মেলা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চাঁদপুরসহ দেশের পাঁচটি জেলার উন্নয়ন মেলা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি উদ্বোধন করেন। তিনি এই ভিডিও কনফারেন্স শুরু করেন বরগুনা জেলা দিয়ে আর শেষ করেন চাঁদপুর জেলা দিয়ে।



ভিডিও কনফারেন্সে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের পরে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য শুরু করেন 'চাঁদপুরে তো দেখি চাঁদের হাট ভালোই বসে' এমন প্রেরণা ও উদ্দীপনাদায়ক কথা দিয়ে। শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যের অনেক সময় জুড়ে চাঁদপুরকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, ছোট বেলায় যখন লঞ্চ-স্টিমারে দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াত করতাম তখন চাঁদপুর হয়ে যেতাম। পদ্মা ও মেঘনার পানি একটি স্বচ্ছ ও অন্যটি ঘোলা, এই দুই নদীর পানি মিশ্রণ দেখার জন্যে চাঁদপুর আসলেই লঞ্চের সাইডে গিয়ে বসে থাকতাম। দুই নদীর পানির মিলন দেখতাম। আবার চাঁদপুর স্টিমার ঘাটে নেমে মাটির হাঁড়ির রসগোল্লা খুব মজা করে খেতাম। এভাবেই তিনি চাঁদপুরকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে চাঁদপুরের নদী পথকে খুব সমৃদ্ধ এবং ঐতিহ্যম-িত বলে উল্লেখ করেন। তিনি চাঁদপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে প্রথমে বক্তব্য শুনেন এক মৎস্যজীবীর। তার চমৎকার বক্তব্য এবং দাবির সাথে সহমত পোষণ করে শেখ হাসিনা বলেন, কারেন্ট জাল উৎপাদন এবং বিক্রেতাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা উচিত। আর আমি খোঁজ নিয়ে জানাবো কারেন্ট জাল কী কী কাজে লাগে। এ বিষয়ে জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আমি নির্দেশ দেবো। এ মৎস্যজীবীর বক্তব্যের সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, নদী খননের দাবিটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলবো। জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডলের বক্তব্যের আলোকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে পর্যটন শিল্প অনেক সম্ভাবনাময়। চাঁদপুরে পরিকল্পিতভাবে পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা যায়। নৌ-ভ্রমণকে পর্যটন শিল্পের আওতায় আনা যায়। পর্যটন কর্পোরেশন চাঁদপুরের নদী পথে ট্যুর লঞ্চ সার্ভিস চালু করতে পারে। অর্থাৎ যে কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে ইচ্ছে করলে জাহাজে ভ্রমণ করে আবার গন্তব্যে চলে যাবে। এ বিষয়ে আমি পর্যটন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো।



ভিডিও কনফারেন্সের শুরুতে জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। এ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা থেকে চাঁদপুর পিছিয়ে নেই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, বিদ্যুৎ উন্নয়নে অভাবনীয় সাফল্য। গত নয় বছরে আমরা ২ হাজার ৬শ' ৮১ কিলোমিটার নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন স্থাপন করে ২ লাখ ৪১ হাজার পরিবারকে নূতন বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছি। হাজীগঞ্জ থেকে গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ করে দেয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এ জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে ১ দিনের বেতন ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ফান্ডে জমা হয়েছে। এছাড়া এ বছরের শুরুতেই মতলব উত্তরে ৩ হাজার ৩৭ একর জমিতে ইকোনমিক জোন হিসেবে গড়ে তোলার ব্যাপারে প্রস্তাব সরকার পাস করেছে এবং হাইমচরে ৪ হাজার ৭শ' একর জমি ইকোনমিক জোন হিসেবে গড়ে উঠতে সরকারের কাছে প্রস্তাবনা আকারে দেয়া হয়েছে। আশা করি সরকার এটি পাস করবে। জেলা প্রশাসক চাঁদপুরে পর্যটন সম্ভাবনার কথা বেশ জোর দিয়ে বলেন, মোলহেডকে ঘিরে নদীমাতৃক পর্যটন গড়ে তোলার জন্যে যদি কিছু উপকরণ দিতে পারি তাহলে বাংলাদেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ পর্যটন অঞ্চল হবে চাঁদপুর।



জেলা প্রশাসকের বক্তব্যের পর প্রধানন্ত্রী প্রান্তিক জনগণের পক্ষ থেকে বক্তব্য শুনতে চাইলে প্রথমে হাইমচরের মৎস্যজীবী মানিক দেওয়ান বক্তব্য রাখেন। মানিক দেওয়ান তাঁর বক্তব্যে কারেন্ট জাল উৎপাদন বন্ধের জোর দাবি জানান। এছাড়া এবার আশানুরূপ মাছ না পাওয়ার কারণ হিসেবে নদীর নাব্যতা সঙ্কটকে দায়ী করে নদী খননের দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের প্রশংসা করে তার দাবি এবং বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দেখবেন বলে জানান। এরপর কৃষকদের পক্ষ থেকে কুমারডুগীর কৃষক মিজান বক্তব্য রাখেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে চাঁদপুরে সবজি কোল্ড স্টোরেজ করার দাবি জানান। যাতে করে ভর মৌসুমে উৎপাদিত সবজি হিমাগারে রেখে পরবর্তীতে কৃষক ন্যায্যমূল্য পেতে পারে।



গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরগুনা, ঝিনাইদহ, হবিগঞ্জ, গাইবান্ধা ও চাঁদপুর জেলা উন্নয়ন মেলা উদ্বোধন করেন। চাঁদপুর স্টেডিয়ামে ভিআইপি প্যাভেলিয়নের সামনে মেলা প্রাঙ্গণে মঞ্চে স্থাপিত মাল্টি মিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে গণভবনের সেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সকাল পৌনে ১১ টায় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থলে এসে উপস্থিত হন। তাঁর দুপাশে ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশারফ হোসেন ও ডেপুটি স্পীকার অ্যাডঃ ফজলে রাব্বী মিয়া। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চলনা করেন মুখ্য সচিব মোঃ নজিবুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাবেক মুখ্য সচিব এবং বর্তমানে এসডিজি বাস্তবায়ন প্রকল্পের পরিচালক আবুল কালাম আজাদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে এসডিজি বিষয়ে বিভিন্ন তথ্যসহ বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, এ তিন দিনের উন্নয়ন মেলায় খোঁজা হবে আর কী উন্নয়ন করা যায়। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সূচনা বক্তব্য রাখেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ২৪ বছরের সংগ্রামের ফসল হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতা। বাংলাদেশ ছিলো একটি প্রদেশ। সেই প্রদেশকে একটি রাষ্ট্রে পরিণত করে একটি রাষ্ট্রের জন্যে যা যা করণীয় তা বঙ্গবন্ধু করে গেছেন। তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। দেশের জনগণ ডিজিটালের সব সেবা পাচ্ছে। আমরা জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসকে সামনে রেখে এই ৩য় বারের মতো সারাদেশে উন্নয়ন মেলা করছি। এ মেলা ধনীকে আরো ধনী করার মেলা নয়। এ মেলা গ্রামের মানুষের সার্বিক উন্নয়ন মেলা। তিনি বলেন, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে আমরা কেমন বাংলাদেশ দেখতে চাই সে জন্যেই এ উন্নয়ন মেলা। আর সে বাংলাদেশ হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ। তিনি সারাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের এ উন্নয়ন মেলার সফলতা কামনা করেন।



প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পর বরগুনার জেলা প্রশাসক প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। সে জেলার আশ্রায়ন প্রকল্পের এক বাসিন্দা ও রাখাইন পল্লীর এক বাসিন্দার বক্তব্য শুনেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর পর্যায়ক্রমে ঝিনাইদহ, হবিগঞ্জ, গাইবান্ধা ও সর্বশেষ চাঁদপুর জেলার উন্নয়ন মেলা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব জেলার জেলা প্রশাসক এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে পুনর্বাসিত ভিক্ষুক, মুক্তিযোদ্ধা, নারী উদ্যোক্তা, চা শ্রমিক, একটি বাড়ি, একটি খামার প্রকল্পের সুবিধাভোগী প্রতিনিধি, মসজিদের ইমাম ও বয়স্ক ভাতাভোগী এক বয়োবৃদ্ধ পুরুষ বক্তব্য রাখেন। এরা সকলেই প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত এসব কর্মসূচির দ্বারা যে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে সে বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।



এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে চাঁদপুরের উন্নয়ন মেলায় স্থাপিত স্টলগুলো পরিদর্শন করেন ডাঃ দীপু মনি এমপি। তাঁর সাথে ছিলেন জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা।



 



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৮২১০২
পুরোন সংখ্যা