চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। ১ ফাল্গুন ১৪২৪। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯
kzai
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে মাসুদ রানা হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদন্ড ,, জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. শফিকুর রহমান ভুঁইয়া, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক কাজী গোলাম মোস্তফাকে আটক করেছে পুলিশ || বিক্ষোভ চলাকালে বিএনপি নেতা শফিকুর রহমান ভূঁইয়াসহ আটক ৫
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৫-সূরা ফাতির

৫৫ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১১। এবং তাকে আমি বলেছিলাম, প্রশস্ত বর্ম তৈরি কর, কড়াসমূহ যথাযথভাবে সংযুক্ত কর এবং সৎকর্ম সম্পাদন কর। তোমরা যা কিছু কর, আমি তা দেখি।

১২। আর আমি সোলায়মানের অধীন করেছিলাম বায়ুকে, যা সকালে এক মাসের পথ এবং বিকালে এক মাসের পথ অতিক্রম করত। আমি তার জন্যে গলিত তামার এক ঝরণা প্রবাহিত করেছিলাম। কতক জি¦ন তার সামনে কাজ করত তার পালনকর্তার আদেশে। তাদের যে কেউ আমার আদেশ অমান্য করবে, আমি জ¦লন্ত অগ্নির শাস্তি আস্বাদন করাব।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


বাচুর না পানালে দুধ পেতে কোথায়?


-প্রবাদ।


যে সদর দরজা দিয়ে বেহেশতে যেতে চায়, সে তার পিতা-মাতাকে সন্তুষ্ট করুক।


ফটো গ্যালারি
হাইমচরে ধর্ষণের পর হত্যা
আড়াই মাস পর কবর থেকে ৩য় শ্রেণীর ছাত্রীর লাশ উত্তোলন
মিজানুর রহমান
১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


হাইমচরে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে আড়াই মাস পর মারজানা (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। গতকাল ১২ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকালে উপজেলার ৪নং নীলকমল ইউনিয়নের ঈশানবালায় আদালতের নির্দেশে পুলিশ কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্যে চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করেছে। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটে উম্মে হাবিবা মীরা ও হাইমচর থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ মুকবুলসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্য উপস্থিতি ছিলেন।



মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২২ ডিসেম্বর ঈশানবালা গ্রামে বাড়ির রাস্তার পাশে বিল থেকে মারজানার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ভুতে মেরে ফেলেছে এমন কথায় মেয়েটিকে দাফন করা হয়। কিন্তু সন্তানহারা বাবা-মার মন মানে না। মারজানাকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ এনে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি নিহত মারজানার পিতা মোঃ মোকশেদ হাওলাদার বাদী হয়ে চাঁদপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। স্থানীয় ৩ যুবককে আসামী করে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলা নং জিআর ০৪/১৮, ধারা ৩০২/৩৭৬/২০১/৩৪ ও ১০৯। আসামীরা হলো : ওই গ্রামের সুরুজকান্দী এলাকার দ্বীন ইসলামের ছেলে জালাল মিয়া (২০), কাদির বেপারীর ছেলে সিদ্দিক (২১) এবং মোঃ সফিউল্যাহর ছেলে সেলিম (২১)। ওই মামলার সূত্র ধরেই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে আদালত ২৫ জানুয়ারি লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের নির্দেশ দেয়।



মারজানার পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, নীলকমল ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের খলিল মাতাব্বরকান্দি এলাকার মোঃ মোকশেদ হাওলাদারের মেয়ে মারজানা আক্তার স্থানীয় ৩২নং চর কোড়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। মারজানার পিতার ঈশানবালা বাজারে একটি টেইলার্সের দোকান রয়েছে। গত ২২ ডিসেম্বর (২০১৭) সন্ধ্যার আগমুহূর্তে মারজানার মা সেলিনা বেগম সদাইয়ের জন্য মেয়েকে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ হাতে দিয়ে বাজারে তার বাবার দোকানে পাঠায়। পরে মারজানা বাজার থেকে না ফেরায় রাত ৮টার দিকে সেলিনা বেগম মেয়েকে খুঁজতে বের হন। মোকশেদ ও সেলিনা বেগম মেয়েকে খুঁজতে খুঁজতে বাজার থেকে তাদের বাড়ির রাস্তার মাঝখানে একটি বাঁশঝাড়ে মারজানার হাতে থাকা বাজারের ব্যাগটি দেখতে পায়। তারা তখন টর্চ লাইটের আলো জ্বেলে পাশের একটি খালে মারজানার লাশ পড়ে থাকতে দেখে। তখন তাদের ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে তাদের সহযোগিতায় বাবা-মা মিলে মেয়েকে সেখান থেকে উদ্ধার করে ঈশানবালা বাজারের জয়দুল ডাক্তারের দোকানে নিয়ে যায়। তখন ডাক্তার জয়দুল মারজানাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।



খবর পেয়ে হাইমচর থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ রফিকুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। মামলায় আরো উল্লেখ করা হয় যে, সেখান থেকে পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট শেষে মারজানার পরিবারের লোকদের একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে লাশ কবর দেয়ার নির্দেশ দেয়। এ সময় স্থানীয় চেয়ারম্যান লাশ ময়না তদন্তের কথা বললে মারজানাকে শয়তানে মেরেছে এবং তার ময়না তদন্তের প্রয়োজন নেই বলে পুলিশ জানায়। তাছাড়া মামলায় যাদের আসামী করা হয়েছে তারা প্রায়ই মারজানাকে স্কুলে যাওয়ার সময় উত্ত্যক্ত করতো এবং বর্তমানে তারা সবাই পালাতক রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।



মারজানার পিতার মোঃ মোকশেদ জানান, যখন মারজানার লাশ পাওয়া যায় তখন তার গায়ের কামিজটি উল্টানো ছিলো এবং নাকে-মুখে ও চোখে জখমের চিহ্ন ছিলো। ওই সময়ে সেখান থেকে পুলিশ একটি টর্চ লাইট উদ্ধার করেছে। যে মহিলারা লাশ ধোয়ার কাজ করেছে তারা বলেছে যে, মারজানার গোপনঅঙ্গে আঘাতের চিহ্ন ছিলো। এতে করে তিনি ধারণা করেন তার মেয়েকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, যেখানে মারজানার লাশ পাওয়া গেছে তার পাশেই স্থানীয় সেলিম সর্দারের পরিত্যক্ত একটি ঘর রয়েছে। এ ঘটনার পরে আসামীদের পরিবারের পক্ষ থেকে আপোষ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এদিকে মেয়ের শোকে পাগলপ্রায় মারজানার মা সেলিনা বেগম অনেকটাই মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন। মোকশেদ হাওলাদার বলেন, আমি আদালতের মাধ্যমে আমার মেয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি। যাতে করে আর কোনো বাবাকে তার সন্তানের এমন নির্মম মৃত্যু দেখতে না হয়।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫২৮১২৯
পুরোন সংখ্যা