চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১৩ মার্চ ২০১৮। ২৯ ফাল্গুন ১৪২৪। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগ দেবেন মোঃ কামরুজ্জামান। তিনি বর্তমানে এলজিইডি মন্ত্রণালয়ে উপ-সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৬-সূরা ইয়াসিন

৮৩ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩৩। তাদের জন্যে একটি নিদর্শন মৃত পৃথিবী। আমি একে সঞ্জীবিত করি এবং তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য, তারা তা থেকে ভক্ষণ করে।

৩৪। আমি তাতে সৃষ্টি করি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান এবং প্রবাহিত করি তাতে নির্ঝরণী।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


অন্ধ ব্যক্তিরাই পৃথিবীর বেশি ভাগ্যাহত।

-ডিকেন্স।

 


যে লোক কম কথা বলে বা চুপ থাকে সে অনেক বিপদ আপদ থেকে বেঁচে যায়।


ফটো গ্যালারি
পালবাজারে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই হলো ২৫ দোকান ক্ষয়ক্ষতি কয়েক কোটি টাকা
এএইচএম আহসান উল্লাহ
১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর শহরের পালবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ২৫টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ২২ জনের ভাগ্যও যেনো পুড়ে ছাই হয়েছে। তাদের সহায় সম্বল পুড়ে তারা একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে। যে দোকানের উপরই ছিলো তাদের একমাত্র জীবন জীবিকা, সে দোকান চোখের সামনে পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। দোকানের মালামাল তো সব পুড়েছে, সাথে দোকানঘরগুলোও পুড়ে গেছে। এখন অবশিষ্ট আছে শুধু ভিটেমাটি। পুড়ে যাওয়া এসব দোকান হচ্ছে মুদি, মুরগী, ডিম ও কাঁচামালের দোকান। দোকানগুলো টিন ও কাঠের হওয়ায় পুড়ে যাওয়া কোনো দোকানেই অবশিষ্ট আর কিছুই নেই। এখন আছে শুধু নিঃস্ব হয়ে যাওয়া দোকানীদের দীর্ঘ নিঃশ্বাস আর ধ্বংসস্তূপের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা। পুড়ে ছাই হয়ে গেছে প্রায়



২ কোটি টাকার মালামাল আর দোকানের অবকাঠামো। যা পুড়েছে তাও হবে প্রায় দেড়-দুই কোটি টাকার সম্পদ। তবে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের প্রাণান্তকর চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় আশপাশের অনেক দোকানঘর এবং রেলওয়ের কোয়ার্টার ও বস্তি এলাকা রক্ষা পেয়েছে। তাদের একটু গাফলতি বা আসতে দেরি করলে হয়তো আশপাশের অনেক বসতঘরও বিরানভূমিতে পরিণত হতো। পুরো পালবাজারের ব্যবসায়ীরা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের তৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে। গতকাল সোমবার ভোর আনুমানিক ৬টায় এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।



আগুনে পুড়ে যাওয়া তিনটি দোকানঘরের ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী আহমদ উল্লাহ জানান, তিনি ফজর নামাজের পর এশরাক নামাজ শেষ করে বাজারের দিকে আসছিলেন। এমন সময় খবর পান বাজারে আগুন লেগেছে। ৬টা ২০ মিনিটের সময় তিনি বাজারে ঢুকে দেখেন মাছ বাজারের উত্তর পাশে টিনশেড ঘরগুলো থেকে শুধু আগুনের লেলিহান শিখা এবং ধোঁয়ার কু-লী বের হচ্ছে। জীবনবাজি রেখে তিনি কোনো রকমে একটি দোকানের ক্যাশ বাঙ্ আর কিছু কাগজপত্র সরাতে পেরেছেন। এছাড়া আর কিছুই সরাতে পারেননি। তার তিনটি দোকানে ৫শ'র মতো মুরগী ছিলো। সব মুরগী পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। দোকান তিনটির মধ্যে একটির মালিত মরহুম এমদাদ পাটওয়ারী আর অপর দু'টির মালিক মনির জমাদার। সব মিলিয়ে এ তিনটি দোকানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হবে ৫/৬ লাখ টাকার মতো। আহমদ উল্লাহ ও তার ছেলে হাবিব খান দোকান দুটি পরিচালনা করতেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মনির জমাদার। তার চারটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দুটি দোকান তিনি নিজে চালাতেন আর দুটি ভাড়া দিয়েছেন আহমদ উল্লাহ ও তার ছেলে হাবিব খানের কাছে। মনির জমাদার যে দুটি দোকান পরিচালনা করতেন সে দুটি হচ্ছে মুদি দোকান, একটি গোডাউন, অপরটি খুচরা ও পাইকারী মাল বিক্রির দোকান। এ দুই দোকানেই তার মালামাল ছিলো প্রায় ৩৫ লাখ টাকার। তার মালিকানাধীন চারটি দোকানেরই মালামালসহ পুরো দোকানঘর পুড়ে গেছে। এমনিভাবে হাজী ছালামত খান, বোরহান স্টোর, নান্নু গাজী, বাদশা (বাশু) ছৈয়াল, আরশাদ মোল্লা, আমিন মাতাব্বর, মোহাম্মদ হযরত আলী, শাহজাহান গোলদার, বিল্লাল, মোক্তার, আহমদ মাঝি, জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ মজিবুর রহমান, কামরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম জমাদার, হাসান খান, মুকবুল চাপরাশি, মিজান জমাদার ও নূরুল ইসলাম গাজীর দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এদের কারো কারো একের অধিক দোকান রয়েছে। দোকানগুলো মুদি, মুরগী, ডিম ও কাঁচামালের দোকান।



ক্ষতিগ্রস্ত আহমদ উল্লাহ আরো জানান, আগুন লাগার ঘটনা প্রথমে বাজারের মাংস বিক্রেতারা দেখতে পান। তখন সময় ভোর ৬টা। তারাই ব্যবসায়ীদের বিভিন্নভাবে খবর দেয়। প্রথমে বাজারের ব্যবসায়ী ও দোকানের লোকজন সম্মিলিতভাবে আগুন নেভানোর কাজে লেগে যান। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে আগুন দ্রুত বহুগুণে বেড়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকলে প্রচ- উত্তাপ আর ধোঁয়ার কু-লীর কারণে কাছে ভিড়তে পারেনি কেউ। এরই মধ্যে ফায়ার সার্ভিস দল খবর পেয়ে দ্রুত ছুটে আসে ঘটনাস্থলে। তারা নিজেদের গাড়ির পানি শেষ করে চৌধুরী মসজিদের অজু খানার হাউজের পানি, বাজারের একটু দূরে থাকা পুকুরের পানি এবং সবশেষে ডাকাতিয়া নদীর সাথে পাইপ লাগিয়ে নদী থেকে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিস উত্তরের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে দমকল বাহিনীর ছয়টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত ছিলো। সাড়ে ৬টার দিকে আগুন নেভানোর কাজ শেষ করলেও প্রায় দেড় ঘন্টার মতো সময় লাগে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে। আর আগুন পুরোপুরি নিভতে সময় লাগে প্রায় চার ঘন্টা। অর্থাৎ সকাল ১০টা পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নেভাতে সময় নেয় দমকল বাহিনী। ততক্ষণে সব কয়লা হয়ে যায়। এদিকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত সুর্নিদিষ্ট করে কেউ বলতে না পারলেও বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে অনেকে ধারণা করছেন। আর বাদশা (বাশু) ছৈয়ালের ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে বাজারের ব্যবসায়ী অনেকে এ প্রতিবেদককে জানান।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৬৫৫৪০
পুরোন সংখ্যা