চাঁদপুর। সোমবার ১৬ এপ্রিল ২০১৮। ৩ বৈশাখ ১৪২৫। ২৮ রজব ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • হাজীগঞ্জে পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৭- সূরা আস-সাফফাত

১৮২ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৯। তারা বলবে, বরং তোমরা তো বিশ^াসীই ছিলে না।

৩০। এবং তোমাদের উপর আমাদের কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, বরং তোমরাই ছিলে সীমা লংঘনকারী সম্প্রদায়।

৩১। আমাদের বিপক্ষে আমাদের পালনকর্তার উক্তিই সত্য হয়েছে। আমাদেরকে অবশ্যই স্বাদ আস্বাদন করতে হবে।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


দারিদ্র্যকে যে মাথা পেতে গ্রহণ করে, সে ব্যক্তিত্বহীন পুরুষ।         


-লংফেলো।




মানুষ মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হবার জন্যে এটাই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে (যাচাই না করে) তা-ই বলে বেড়ায়।  

 


ফটো গ্যালারি
বর্ণিল আয়োজনে চাঁদপুরে উদযাপিত হলো পহেলা বৈশাখ
চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট
১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


পহেলা বৈশাখ বাঙালির নিজস্ব উৎসব। যেখানে শেকড়ের সন্ধান মিলে। এ দিন বাঙালির ঐতিহ্যের দিন, নিজস্ব সংস্কৃতিতে অবগাহন করার দিন। তাই তো এ দিন বাঙালি উৎসবে মেতে উঠবে, আনন্দে উদ্বেলিত হবে। হয়েছেও তাই। উৎসবপ্রিয় বাঙালি সেদিন প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছে বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে। মেঘনা-ডাকাতিয়া বিধৌত চাঁদপুর শহরে সেদিন সে দৃশ্যই দেখা গেলো। মানুষের বাঁধভাঙ্গা জোয়ারে সয়লাব হয়ে গেছে চাঁদপুর শহর। প্রাণের উচ্ছ্বাসে যেনো মাতোয়ারা ছিলো চাঁদপুর। নানা রংয়ে, নানা ঢংয়ে নিজস্ব সংস্কৃতিকে মেলে ধরেছে সববয়সী মানুষ। ১৪২৪ বঙ্গাব্দের আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্নার হিসেব চুকিয়ে নতুন বছর ১৪২৫ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিয়েছে চাঁদপুরের আপামর জনতা। প্রকৃতির সাথে যেনো সেদিন মিশে গেছে চাঁদপুরবাসী।



পহেলা বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দকে বরণ করে নিতে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও চাঁদপুর পৌরসভার আয়োজনে এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় দিনব্যাপী এই বর্ষবরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয় প্রেসক্লাব ঘাট সংলগ্ন ডাকাতিয়ার পাড়ে উন্মুক্ত তীরভূমিতে। ১৪ এপ্রিল ১ বৈশাখ শনিবার সকালে বর্ণাঢ্য ও বর্ণিল সাজে সুসজ্জিত মঙ্গল শোভাযাত্রা দিয়ে বর্ষবরণ উৎসব শুরু হয়। সকাল ৯টায় শুরু হয় চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে এই শোভাযাত্রা। বাঙালিয়ানা সাজে নানা রংয়ে, নানা ঢংয়ে বর্ণিল এ শোভাযাত্রাটি পুরো উৎসবকে মাতিয়ে তোলে এবং আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান। সাথে ছিলেন পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওচমান গণি পাটওয়ারী ও জেলা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলালসহ প্রশাসনিক বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।



শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান কয়েকটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাব ঘাট সংলগ্ন ডাকাতিয়ার তীরে মূল অনুষ্ঠানস্থলে এসে শেষ হয়। চাঁদপুর শহরের প্রায় সকল শিশু সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন, নাট্য সংগঠন, নৃত্য সংগঠন, চিত্রকলা সংগঠন, সঙ্গীত সংগঠনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক ম-লী এবং রাজনীতিবিদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পেশার নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর এ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। শোভাযাত্রায় শিশু ও বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের হাতে বাঙালি কৃষ্টি ও সংস্কৃতির নানা উপকরণের প্রতিকৃতি শোভা পায়। আর অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা ছিলো শোভাযাত্রাটিকে কার চেয়ে কে কতো সুন্দর, আকর্ষণীয় ও বর্ণিল করবে। সাথে ছিলো বাঙালির সেই ঢোল আর বাদ্য বাজনা। শিশুরা কেউ নববধূ-নববর, কেউবা জেলে, কামার-কুমার, কৃষক-কৃষাণীসহ নানা রংয়ে সেজে বাঙালি ঐতিহ্যকে তুলে ধরে শোভাযাত্রাটিকে বর্ণিল করে তোলে। 'ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর' এ লগোখচিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড শোভাযাত্রাটিকে আরো নান্দনিক করে তোলে।



শোভাযাত্রা শেষে প্রেসক্লাব ঘাট সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে মূল অনুষ্ঠান মঞ্চে শুরু হয় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সংগীত নিকেতনের কণ্ঠশিল্পীদের পরিবেশনা 'এসো হে বৈশাখ এসো এসো' গান দিয়ে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এরপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপ্রধান ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগীত নিকেতন পরপর বেশ ক'টি গান পরিবেশন করে। এরপর চাঁদপুরের বিভিন্ন সংগঠন সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করে। এদিকে পূর্ব নির্ধারিত সময় বিকেল ৫টায় পুরো অনুষ্ঠান শেষ করার কথা থাকলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তাৎক্ষণিক নির্দেশে বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠান শেষ করা হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যে পুরো মাঠ খালি করা হয়। পরে প্রেসক্লাব ঘাট প্রবেশ মুখে পুলিশ বসিয়ে আর কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত বহু মানুষ প্রেসক্লাব এলাকায় এসে মন খারাপ করে ফিরে যায়।



এদিকে পয়লা বৈশাখে বিকেল ২টার পর থেকে চাঁদপুর বড় স্টেশন মোলহেড এলাকায় এবং প্রেসক্লাব এলাকায় যেনো জনস্রোত নামে। শহর তো বটেই, শহরের আশপাশ এবং গ্রামের মানুষগুলোও চাঁদপুর শহরমুখী হতে থাকে। সকলেরই গন্তব্য ছিলো বড় স্টেশন মোলহেড এবং প্রেসক্লাব এলাকা। এছাড়া চাঁদপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এবার 'গলিয়া' হওয়ায় সেখানেও এদিন প্রচুর মানুষ ভীড় হয়। চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ (গাছতলা) সেতু ও নতুন বাজার-পুরাণবাজার সেতু এলাকায়ও প্রচুর ভিড় করে। অতিরিক্ত যানবাহন এবং মানুষের ভিড়ে শহরে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। তারপরও সকলের চোখেমুখে ছিলো আনন্দ-উচ্ছ্বাস। নানা বয়সী মানুষ তাদের আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছে।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬২৫৯১৭
পুরোন সংখ্যা