চাঁদপুর। বুধবার ১৬ মে ২০১৮। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫। ২৯ শাবান ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৭-সূরা সাফ্ফাত

১৮২ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১৫৬। নাকি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট কোন দলিল রয়েছে?

১৫৭। তোমরা সত্যবাদী হলে তোমাদের কিতাব আন।

১৫৮। তারা আল্লাহ ও জ্বিনদের মধ্যে সম্পর্ক সাব্যস্ত করেছে, অথচ জ্বিনেরা জানে যে, তারা গ্রেফতার হয়ে আসবে।

১৫৯। তারা যা বলে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


যারা যুক্তি মানে না, তারা বর্বর।

-জর্জ বার্নাড শ’।


দেশের শাসনভার আল্লাহতায়ালার নিকট হতে আমানত।


ফটো গ্যালারি
পুলিশ ও বিচার বিভাগীয় মতবিনিময় সভা
মানুষের দোরগোড়ায় বিচারিক সেবা পেঁৗছে দিতে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে
জেলা ও দায়রা জজ মোঃ জুলফিকার আলী খাঁন
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ও এর প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের ক্ষেত্রে পুলিশ ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ও পরামর্শ একান্ত প্রয়োজন। গতকাল চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জজ সম্মেলন কক্ষে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণে পুলিশ ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের ভূমিকা ও করণীয় শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।



বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ, জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনডিপি) ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত 'বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প'-এর সহযোগিতায় চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জজের কার্যালয় এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভাটি বিকেল ৫ টায় শুরু হয় এবং রাত ৯ টায় সম্পন্ন হয়। এতে পুলিশ ও বিচার বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা সহ মোট ৪৪ জন অংশগ্রহণ করেন।



সভায় সভাপ্রধানে ছিলেন মাননীয় জেলা ও দায়রা জজ মোঃ জুলফিকার আলী খাঁন। এতে সম্মানীয় অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের মাননীয় জেলা জজ মোঃ আব্দুল মান্নান, পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ মঈনুল হাসান এবং চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) সৈয়দ মোঃ কায়সার মোশাররফ ইউসুফ।



বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ মোঃ জুলফিকার আলী খাঁন সভাটি উদ্বোধন করে বলেন, মানুষের দোরগোড়ায় বিচারিক সেবা পেঁৗছে দেয়ার জন্যে গ্রাম আদালত অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গ্রাম আদালত সঠিকভাবে সক্রিয় করতে পারলে সাধারণ মানুষের কল্যাণ সাধিত হবে। সাধারণ বিচারপ্রার্থীগণ বিচারের আশায় অযথা অর্থ ব্যয়ের ঝুঁকি ও তাদের মূল্যবান সময় অপচয়ের হাত থেকে রেহাই পাবেন। এতে তাদের অনেক আর্থিক সাশ্রয় হবে যা সার্বিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্ন্য়নে গতি সঞ্চার করবে। এ জন্য এর ফলপ্রদ সক্রিয়করণে আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে গুরুত্ব সহকারে কাজ করা উচিত। এর ফলে আমাদের বিভিন্ন পর্যায়ের আদালতে বিচারাধীন মামলার চাপ অনেক কমবে।



মতবিনিময় সভায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ জেলা জজ মোঃ আব্দুল মান্নান বলেন, সামাজিক ন্যায়বিচার যখন মুখ থুবড়ে পড়েছে তখন সেটাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতেই সরকার আইনী দিকগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত স্থাপন করে এক যুগান্তরী পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর যথাযথ প্রয়োগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গ্রাম আদালতের মূলভিত্তি (স্পিরিট) হল সহজে, স্বল্প সময়ে ও অতি স্বল্প ব্যয়ে (ফৌজদারী মামলা ফি ১০ টাকা ও দেওয়ানী মামলা ফি ২০ টাকা মাত্র) বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। উল্লেখিত এই মামলা ফি'র বাইরে আর কোনো খরচ নেই। যেহেতু গ্রাম আদালত স্থানীয়ভাবে ন্যায়-বিচার প্রতিষ্ঠার একটা গুরুত্বপূর্ণ স্থান, সেহেতু পক্ষদ্বয়ের মনোনীত বিচারকদের নিরপক্ষতা ও বিচক্ষণতা বজায় রাখার পাশাপাশি তাদের মাঝে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতিও অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। কারণ, গ্রাম আদালত মূলত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিবাদরত পক্ষদ্বয়ের মাঝে ন্যায্যতা ও শান্তি স্থাপনের কাজ করে। তাই যেভাবেই হোক গ্রাম আদালতকে সক্রিয়করণ করা দরকার এবং এ প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করণে আমাদের সকলের সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা উচিত। তিনি আরো বলেন, গ্রাম আদালতে বিচার প্রার্থীদের আস্থার কোনো সঙ্কট নেই বরং আছে রাজনীতির সঙ্কট।



সভার সম্মানীয় অতিথি পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম বলেন, গ্রাম আদালতের সফলতা-বিফলতা নির্ভর করে এর বিচারিক কার্য-প্রণালীর সাথে যারা সম্পৃক্ত তাদের সক্ষমতা ও সততার উপর। মানুষ যদি তার আস্থার দিকটা হারিয়ে ফেলে তাহলে তার আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকে না। এজন্যে আমরা যেখানেই কাজ করি না কেন সবার আগে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে এবং বিচারপ্রার্থীর কল্যাণে অবশ্যই পুলিশ বিভাগের পক্ষে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে, যাতে এলাকার সাধারণ মানুষ বিনা হয়রানিতে অতি সহজে স্থানীয়ভাবে ন্যায়বিচার পেতে পারেন। এজন্যে চাঁদপুর জেলার পুলিশ থানাগুলোতে যখন গ্রাম আদালতের আওতাভুক্ত কোন মামলা আসবে তখন সেগুলোর মেরিট বিশ্লেষণ সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট গ্রাম আদালতে পাঠিয়ে দেয়া হবে। তবে এ রকম মতবিনিময় সভার আয়োজন মাঝে মাঝে হওয়া প্রয়োজন, যাতে আমরা সকলে গ্রাম আদালতের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারি এবং আমাদের আন্তঃসহযোগিতা আরো বৃদ্ধি করতে পারি। তিনি আরো বলেন, গ্রাম আদালতের মত আরো অনেক সরকারি সেবা আছে যা সাধারণ মানুষ জানে না। তাই এসব সেবা সম্পর্কে মানুষকে জানানোর জন্য সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার।



মতবিনিময় সভায় গ্রাম আদালত আইন ২০০৬ (সংশোধন ২০১৩) নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন সিনিয়র সহকারী জজ ও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার শুভ্রা চক্রবর্তী। বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের উপর কথা বলেন ইউএনডিপি'র আইন বিশেষজ্ঞ শিরিন সুলতানা লীরা এবং চাঁদপুর জেলায় পরিচালিত গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ও বাস্তবতা নিয়ে কথা বলেন প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেটর নিকোলাস বিশ্বাস।



মতবিনিময় সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ মিজানুর রহমান ভূইয়া, চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওয়ালী উল্লাহ, ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ আলম, পাবলিক প্রসিকিউটর মোঃ আমান উল্লাহ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোঃ আব্দুল লতিফ শেখ এবং প্রকল্পের সহযোগী সংস্থা বস্নাস্টের জেলা সমন্বয়কারী মোঃ আলী আজ্জম।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৮২৭৮৯
পুরোন সংখ্যা