চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ১৭ মে ২০১৮। ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫। ৩০ শাবান ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৭-সূরা সাফ্ফাত

১৮২ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১৬০। তবে যারা আল্লাহর নিষ্ঠাবান বান্দা, তারা গ্রেফতার হয়ে আসবে না।

১৬১। অতএব তোমরা এবং তোমরা যাদের উপাসনা কর,

১৬২। তাদের কাউকেই তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।

১৬৩। শুধুমাত্র তাদের ছাড়া যারা জাহান্নামে পৌঁছাবে।

১৬৪। আমাদের প্রত্যেকের জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট স্থান।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


কারো স্বভাব-চরিত্র জানতে হলে কোনো ব্যাপারে তার পরামর্শ চাও।        


-প্লেটো।


নীরবতাই শ্রেষ্ঠতম এবাদত।


ফটো গ্যালারি
চাঁদপুর পৌরসভার নগর সমন্বয় কমিটি (টিএলসিসি)-এর সভায় মেয়র নাছির উদ্দিন আহম্মেদ
আসন্ন বাজেটে শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে পূর্বের চেয়ে বরাদ্দ বাড়ানো হবে
ইনশাল্লাহ চাঁদপুরকে সত্যিকার অর্থেই 'ক্লিন চাঁদপুর গ্রীন চাঁদপুর' করা হবে
চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট
১৭ মে, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ প্রকল্প-৩-এর আওতায় নগর পরিচালন উন্নতিকরণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চাঁদপুর পৌরসভার নগর সমন্বয় কমিটি (টিএলসিসি)-এর এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ১৬ মে বুধবার বেলা ১১টায় চাঁদপুর পৌর পাঠাগারে আয়োজিত সভায় সভাপ্রধান ছিলেন চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র নাছির উদ্দিন আহম্মেদ।



এ সভার মূল আলোচ্য বিষয় ছিলো '২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে কেমন বাজেট দেখতে চান' এবং রি-এসেসমেন্ট সংক্রান্ত আলোচনা। পবিত্র কোরান তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মফিজউদ্দিন হালদারের সঞ্চালনায় এ সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মেয়র নাছির উদ্দিন আহম্মেদ। তারপর বিগত সভার কার্যবিবরণীর আলোকে সিদ্ধান্ত সমূহের অগ্রগতি এবং রি-এসেসমেন্ট নিয়ে আলোচনা করেন পৌর সচিব আবুল কালাম ভূঁইয়া। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জীবন কানাই চক্রবর্তী, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, সনাক, টিআইবি, চাঁদপুর-এর সভাপতি কাজী শাহাদাত, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া জীবন, বর্তমান সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আঃ রশিদ সর্দার, চাঁদপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অধ্যাপিকা মাসুদা নূর, পৌর আওয়ামী লীগ নেতা আকতার হোসেন পাটওয়ারী, টিএলসিসি সদস্য ডাঃ এস. এম. মোস্তাফিজুর রহমান, শাহজাহান মাতব্বর প্রমুখ। সভার এক পর্যায়ে চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল হক বাচ্চু মিয়াজীর মৃত্যুতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।



সভায় স্বাগত বক্তব্য ও সমাপনী বক্তব্যে পৌরসভার মেয়র নাছির উদ্দিন আহম্মেদ অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা না থাকলেই দুর্নীতি হওয়াটা স্বাভাবিক। সেজন্যে চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচিত পৌর পরিষদের পাশাপাশি বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে আইনী ভিত্তিতে চলছে নগর সমন্বয় কমিটি (টিএলসিসি)-এর কার্যক্রম। এর ফলে উন্নয়নমূলক কাজসহ পৌরসভার সামগ্রিক কাজে জনসম্পৃক্ততা বাড়ে এবং এ সকল কাজ টেকসই হয়। তিনি জানান, গত পরশু (সোমবার) পুরাণবাজারে সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালু হয়েছে। যেটি প্রতি ঘন্টায় ৩৫০ ঘন লিটার আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ পানি উৎপাদনে সক্ষম। এ প্লান্টের কারণে আগামী ১০০ বছরে পুরাণবাজার এলাকায় কোনো পানি সমস্যা থাকবে না। আর অল্প কিছুদিনের মধ্যে চাঁদপুর সেতুর নিকটে ঘোড়ামারা আশ্রায়ণ প্রকল্পের পাশে চালু হতে যাচ্ছে আরেকটি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। যেটি প্রতি ঘণ্টায় ২৫০ ঘন লিটার আর্সেনিকমুক্ত পানি উৎপাদনে সক্ষম। এ প্লান্টের কারণে চাঁদপুর শহরের নূতনবাজার এলাকায় আগামী ৫০ বছরে পানির কোনো সমস্যা থাকবে না। শহরের উত্তরাঞ্চলে এ জাতীয় আরেকটি প্লান্টও বসানো হবে। যেটি দ্বারা চাঁদপুর শহরের পূর্ব দিকের বর্ধিতাংশসহ বাবুরহাট এলাকায় আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।



মেয়র বলেন, চাঁদপুর শহরের জন্যে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এ শহরটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। সেজন্যে উত্তরবঙ্গ থেকে ২০ জন শ্রমিক আনা হয়েছে এবং আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেনের ভেতরে কাজ করার জন্যে বরিশাল থেকে বিশেষ শ্রমিক আনা হয়েছে। এরা এমনভাবে কাজ করছে, যাতে ময়লা-আবর্জনা-ড্রেন পরিষ্কার করে শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন করা যায়। তিনি বলেন, অপরিচ্ছন্নতার সাথে আর কোনো আপস নয়। এজন্যে আসন্ন বাজেটে শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে পূর্বের চেয়ে বরাদ্দ বাড়িয়ে রাখা হবে। ইনশাল্লাহ চাঁদপুরকে সত্যিকার অর্থেই 'ক্লিন চাঁদপুর গ্রীন চাঁদপুর' করা হবে। এজন্যে আমরা প্রথমে নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা বোধ জাগ্রত করার জোর প্রয়াস চালাবো, এতে কাজ না হলে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণে কঠোর হবো। তিনি বলেন, শহর পরিষ্কার রাখা প্রতিটি নাগরিকের ঈমানী দায়িত্ব। 'আমার প্রিয় শহর চাঁদপুর' এটি অন্তরে ধারণ করলে অবশ্যই নাগরিকদের মধ্যে আন্তরিকতা সৃষ্টি হবে এবং উক্ত দায়িত্ব পালন সম্ভব হবে।



মেয়র তাঁর বক্তব্যে বলিষ্ঠ কণ্ঠে বলেন, বাংলাদেশে ৩২৭টি পৌরসভা। এর মধ্যে আমাদের সম পর্যায়ে অন্য কোনো পৌরসভা নেই। সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় আমরা এগিয়ে। এ পৌরসভায় ইউজিপ-৩ (টএওওচ-৩), বিএমডিএফ-এর অর্থায়নে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে এবং চলমান রয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে ইউএনসিডিএফ নামে আরেকটি প্রকল্পেও আমাদের পৌরসভা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যার আওতায় হবে আরো কিছু উন্নয়ন। আর ইউএনডিপি বৃটিশ দাতা সংস্থা ডিএফআইডির অর্থায়নে জাতীয় নগর দারিদ্র্য দূরীকরণ প্রকল্প (এনইউপিআরপি) একনেকের অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী ১ থেকে দেড় মাস পর চালু করলে চাঁদপুর শহরের প্রতিটি হরিজন পল্লীতে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে এবং শহরের সকল অলিগলির সড়ক উন্নয়ন করা হবে। ইতঃমধ্যে প্রস্তুতি স্বরূপ চাঁদপুর পৌরসভার সাথে বহু সভা করা হয়েছে এবং কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট কমিটি (সিডিসি) গঠন করা হয়েছে।



মেয়র দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, মাদকের ব্যাপারে আমরা কঠোর। রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক যে কর্নার থেকেই মাদক ব্যবসা ও সেবনে উস্কানি দেয়া হবে, তাতেই নাগরিকরা প্রতিবাদী হবেন এবং তাতেও কাজ না হলে আমাদেরকে জানাবেন, তখন আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণে সক্রিয় হবো। আমরা ইনশাল্লাহ মাদকমুক্ত, পরিচ্ছন্ন শহর গড়বো এবং শহরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সকল প্রকার উদ্যোগ গ্রহণ করবো।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬০২৯৩
পুরোন সংখ্যা