চাঁদপুর। শুক্রবার ১৫ জুন ২০১৮। ১ আষাঢ় ১৪২৫। ২৯ রমজান ১৪৩৯
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৯-সূরা হাশ্র


২৪ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৩। আল্লাহ উহাদের নির্বাসনের সিদ্ধান্ত না করিলে উহাদিগকে পৃথিবীতে অন্য শাস্তি দিতেন; পরকালে উহাদের জন্য রহিয়াছে জাহান্নামের শাস্তি।


 


 


 


assets/data_files/web

ভালোবাসা মানুষকে শিল্পী করতে পারে কিন্তু প্রাচুর্য বাধার সৃষ্টি করে।


-ওয়াশিংটন অলস্টন।


 


 


কৃপণতা একটি ধ্বংসকারী স্বভাব, ইহা মানুষকে দুনিয়া এবং আখেরাতের উভয় লোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।


 


 


ফটো গ্যালারি
ভোটার আইডি কার্ডের সাথে বাস্তবিক বয়সের অমিল
ফরিদগঞ্জে চাহিদানুযায়ী বয়স্ক ও বিধবা ভাতা পাননি অনেকে
১৫ জুন, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

সানাউল হক

বয়োজ্যেষ্ঠ দুঃস্থ ও স্বল্প উপার্জনক্ষম অথবা বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা বিধানে এবং পরিবার ও সমাজে মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯৭-৯৮ অর্থ বছর থেকে বাংলাদেশে বয়স্ক ভাতা চালু করা হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী দেশের একজন নাগরিক বয়স্ক ভাতা পাওয়ার জন্যে পুরুষের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৬৫ বছর আর নারীর ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৬২ বছর হতে হবে। এক্ষেত্রে তাদেরই বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে যারা কর্মক্ষেত্রে অযোগ্য এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ। বয়স্ক ভাতার আওতায় আসতে হলে বার্ষিক গড় আয় ১০ হাজার টাকার নিচে থাকার কথা উল্লেখ থাকলেও ফরিদগঞ্জে এমন অসংখ্য বয়স্ক নাগরিক রয়েছে যাদের নিজস্ব আয়ের খাত শূন্য। যাকাত-ফিতরা আর সাময়িক দয়ার দান হিসেবেই রয়েছে তাদের বার্ষিক গড় আয়।

হাসমতি খাতুন, বয়স ৭৮। স্বামী ছেরাজল হক। ছেলে সন্তান বলতে যারা আছেন তারা নিরূপায়। দরিদ্রতা আর দুরারোগ্য ব্যাধির কবলে পড়ে বহু বছর পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেছেন তার স্বামী। বিদ্যুৎবিহীন বহু পুরানো দিনের নড়বড়ে একটি ঘরে তার বসবাস। নিরবচ্ছিন্ন অন্ধকারে ঘেরা কুঁড়েঘরেই কথা হলো আশি ছুঁই ছুঁই এই হাসমতি খাতুনের সাথে। অস্পষ্ট ভাষায় তিনি বলতে লাগলেন ২০ বছর হয়েছে স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। ছেলে দুজন উপার্জনক্ষম হওয়াতে তাদের নিজেদের ভরণ-পোষণ কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। কর্ম করার ক্ষমতা নেই বিধায় আমাকে জরাজীর্ণ ঘরে একাকীত্ব জীবনযাপন করতে হয়। বেঁচে থাকলে তো খেতে হবে, পরিধান করতে হবে, চিকিৎসা নিতে হবে। তা আর গত কয়েক বছরে ঠিকভাবে হয়ে উঠেনি। নিয়মানুযায়ী বয়স হওয়া সত্ত্বেও বয়স্ক ভাতার সুযোগ থেকে আমি বঞ্চিত হয়ে আছি।

১৯৯৮-৯৯ অর্থ বছরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিধবা ও স্বামী কর্তৃক নিগৃহীতা নারীদের ভাতা কর্মসূচি প্রবর্তন করা হয়। ফরিদগঞ্জ উপজেলাব্যাপী অসংখ্য বিধবা ও স্বামী কর্তৃক নিগৃহীতা নারী রয়েছে। যারা এখনো ভাতা সনদপত্রের আওতায় আসেনি। স্বামী কর্তৃক নিগৃহীতা নারীর সংখ্যা বয়স্ক নারীদের তুলনায় কম নয়। একাধিক ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, আত্মীয়স্বজনবিহীন বয়স্ক নারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছে।

পৌরসভার বাসিন্দা নাসিমা বেগম, স্বামী মোঃ সেলিম ঢালী। বিবাহ জীবনে দেড়বছর সংসার ছিলো, এর মাঝে একটা কন্যা সন্তান জন্মলাভ করে। তারপর থেকে নিরুদ্দেশ স্বামী মোঃ সেলিম ঢালী। স্বামীর অপেক্ষার প্রহর গুণতে গুণতে এভাবেই কেটে গেলো নাসিমা বেগমের বিবাহিত জীবনের প্রায় ১৮ বছর। গ্রামের এপার-ওপারে থাকা লোকজনের বিভিন্ন কাজ করে বিগত সময় ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তাদের কোলে জন্মানো মেয়েটাকেও বিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে তার অবস্থা নিতান্তই একা আর। কারো দয়ায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করলে অন্ন আসে ঘরে। থাকতে পারেন শান্তিতে। স্বামী কর্তৃক নিগৃহীতা হয়ে দীর্ঘ এতোটা বছর কাটিয়ে আসছেন, অথচ তার নামে হলো না সরকারি ভাতার কার্ড!

পৌরসভার অধিবাসী মোঃ শাহজাহান জানান, ওয়ার্ডভিত্তিক যে হারে ভাতা কার্ড দিয়ে থাকে, তা বণ্টন করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। একদিকে বয়স্ক আর বিধবা নাগরিক রয়েছেন, অন্যদিকে স্বামী কর্তৃক নিগৃহীতাসহ প্রতিবন্ধী নাগরিক জনসংখ্যাও রয়েছে। সমাজের ছায়াতলে বসতি করা অসহায় নাগরিকদের সামান্য ক'জনের নামে আসা কার্ড বিতরণ করতে গেলে নিজেকে অপরাধী মনে হয়। এছাড়া ওয়ার্ডভিত্তিক এমনও নাগরিক রয়েছে যারা তাদের ন্যায্য অধিকার যাকাতের মাল পাওয়া থেকেও বঞ্চিত।

মোহাম্মদ রসু মিয়া জানান, সমাজপতিরা যদি ওয়ার্ডভিত্তিক খোঁজ নিয়ে ভিটেমাটি আর চাল-চুলোবিহীন মানবেতর জীবনযাপন করা মানুষের কল্যাণে একটু সময় ব্যয় করতেন, তবে তাদের এ দুরবস্থা হতো না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বিশেষ করে ওয়ার্ড সদস্য, ইউপি চেয়ারম্যানসহ আরো অন্যান্য দায়িত্বশীল যারা আছেন তারা নিজেদের আখের গোছাতে মরিয়া হয়ে উঠে। উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে এমন অসংখ্য বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী নাগরিক রয়েছে, যাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আজো তাদের কোনো হাল-হকিকতের খবর নেয় নি।

উপজেলার ৯নং ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) মোঃ জাকির হাজী জানান, ওয়ার্ডভিত্তিক সর্বসাকুল্যে ১২/১৫টা কার্ড দেয়া হয়ে থাকে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে যে, ওয়ার্ডভিত্তিক উপার্জনঅক্ষম বয়স্ক নাগরিকই রয়েছে প্রায় ১শ' ২০ থেকে ১শ' ৫০-এর মতো। সরকারিভাবে পাওয়া এ সামান্য কয়েকটা কার্ডে কার নাম রেখে কাকে বাদ রাখবো এ নিয়ে একটা দ্বিধা-সঙ্কোচে পড়তে হয়। এর মাঝে আবার বিরক্তিকর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, প্রকৃতভাবে বয়স্ক লোকের ভোটার আইডি কার্ডের সাথে তাদের বাস্তবিক বয়সের মিল অনেক ক্ষেত্রে থাকে না। এতে সমস্যায় পড়তে হয়। সঠিকভাবে ভোটার আইডি কার্ডে বয়স স্পষ্ট না হওয়াতে তাদেরকে এর আওতায় আনা যায় না।

উপজেলার ২নং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ হারুনুর রশিদ জানান, ইউনিয়নভিত্তিক বয়স্ক, উপাজর্নক্ষম, স্বামী কর্তৃক নিগৃহীতা ও প্রতিবন্ধী নাগরিকের সংখ্যা যদি হয় দুই হাজারের অধিক, সেখানে কার্ড দেয়া হয় মাত্র ২শ'-এর মতো। তাই অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত অনেক অসহায় লোক সরকারি দেয়া এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। আমার ইউনিয়নে এমন ভাতা বঞ্চিত অনেক ব্যক্তি প্রতিনিয়তই দেখা করে থাকেন। যারা অসহায় হওয়া সত্ত্বেও ভাতা কার্ডের আওতায় তাদের নিতে পারিনি, আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের সকলকেই সময়োপযোগী সহযোগিতা প্রদান করে থাকি। এছাড়াও অনেকে আছেন ভোটার আইডি কার্ডের ভুল তথ্যের কারণে এ সুযোগের আওতায় আসেননি। সেক্ষেত্রে আমরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ডিজি বরাবর চিঠি প্রেরণ করেছি।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মীর মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলায় বয়স্ক ভাতার আওতায় আছে প্রায় ১১ হাজার, প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আছে প্রায় ২ হাজার ২শ' এবং স্বামী কর্তৃক নিগৃহীতা ভাতা পেয়ে থাকে প্রায় ৩ হাজারের মতো। সরকার প্রতি অর্থ বছরের বাজেটে এর সংখ্যা বৃদ্ধি করে থাকে। এবারের ২০১৮-১৯ অর্থ বছরেও উপজেলাব্যাপী প্রায় ৮শ'র মতো বৃদ্ধি হবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। একটা সময় বয়স্ক ভাতার আওতায় ছিলো খুব কম সংখ্যক নাগরিক। সময়ের সাথে সাথে বাড়তে থাকে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী, স্বামী কর্তৃক নিগৃহীতা ভাতার কার্ডধারীর সংখ্যাও। এছাড়াও অনেকের ভোটার আইডি কার্ডে বাস্তবিক বয়স না থাকাতে সরকারি এ সুবিধা থেকে তাদের বাইরে রাখতে হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এএইচএম মাহফুজুর রহমান বলেন, উপজেলাব্যাপী অসংখ্য বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও স্বামী কর্তৃক নিগৃহীতা নাগরিক রয়েছেন, যারা সরকারি এ সুযোগের তালিকায় চূড়ান্ত হতে পারেন নি। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এমন অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর যথাযথ ব্যবস্থা নিতে আবেদন করা হবে।

আজকের পাঠকসংখ্যা
১২৫৭৫২০
পুরোন সংখ্যা