চাঁদপুর । বুধবার ১৮ জুলাই ২০১৮ । ৩ শ্রাবণ ১৪২৫ । ৪ জিলকদ ১৪৩৯
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৯-সূরা আয্-যুমার

৭৫ আয়াত, ৮ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৫৩। বলুন, হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছে তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

৫৪। তোমরা তোমাদের পালনকর্তার অভিমুখী হও এবং তার আজ্ঞাবহ হও তোমাদের কাছে আযাব আসার পূর্বে। এরপর তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না;  

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


প্রত্যেক মানুষের একটা দুর্বল দিক থাকে, জেনে শুনে সেখানে আঘাত দেওয়া উচিত নয়।

 -জন রে।


নামাজ বেহেশতের চাবি এবং অজু নামাজের চাবি।



 


ফটো গ্যালারি
কচুয়ায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদন্ড সহযোগীর যাবজ্জীবন
চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম
১৮ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


কচুয়ার সাদিপুরা গ্রামে যৌতুকের দাবিতে শ্বাসরোধ করে স্ত্রী শাহিনুর বেগম (২০)কে হত্যার অপরাধে স্বামী এরশাদ উল্যাহকে মৃত্যুদন্ড এবং চাচা শ্বশুর আবু তাহের মুন্সীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেছে আদালত। একই সাথে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। আসামীদের উপস্থিতিতেই গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ জুলফিকার আলী খাঁন এ রায় দেন। হত্যার শিকার গৃহবধূ শাহিনুর বেগম হাজীগঞ্জ উপজেলার পাতানিস গ্রামের শহীদুল্লাহ মিয়াজীর কন্যা। মৃত্যুদ-প্রাপ্ত এরশাদ উল্যাহ কচুয়া সাদিপুরা গ্রামের মুন্সী বাড়ির রুহুল আমিনের ছেলে এবং যাবজ্জীবন কারাদ-প্রাপ্ত আবু তাহের মুন্সী একই বাড়ির আব্দুল খালেক মুন্সীর ছেলে। এরশাদ উল্যাহ সম্পর্কে আবু তাহেরের ভাতিজা। শাহিনুরের বিয়ের মাত্র ৩২ দিনের মাথায় এ নির্মম হত্যার শিকার হলো সে।



মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৬ জানুয়ারি এরশাদ উল্যাহর সাথে শাহিনুর বেগমের বিবাহ হয়। ওই সময় ছেলেকে কনের পিতা আড়াই লাখ টাকা যৌতুক দেন। কিন্তু আরো যৌতুকের দাবিতে এরশাদ উল্যাহ নিজ বাড়িতে পরিবারের লোকজনসহ শাহিনুরকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। ঘটনার দিন ২০১৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে এরশাদ উল্যাহ ও শাহিনুর বেগমের মধ্যে যৌতুক নিয়ে ঝগড়াবিবাদ হয়। এ সময় এরশাদ উল্যাহ তার চাচা আবু তাহের মুন্সীর সহযোগিতায় শাহিনুরকে মারধর করে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।



মামলার সূত্রে আরো জানা যায়, ঘটনার পর চাচা শ্বশুর আবু তাহের শাহিনুর অসুস্থ বলে তার পিতাকে সংবাদ দেন। কিন্তু তারা এসে শাহিনুরকে এরশাদ উল্যাহর বসতঘরের বারান্দায় চাদর দিয়ে ঢাকা অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় আবু তাহের ও এরশাদ উল্যাহ বলেন, শাহীনুর আত্মহত্যা করেছে এবং কোনো মামলা করার প্রয়োজন নেই বলে চাপ প্রয়োগ করেন। এরপরেও শাহিনুরের পিতা শহীদুল্লাহর বিষয়টি সন্দেহ হলে কচুয়া থানা পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ১ মার্চ ২০১৫ তারিখে শাহিনুরের পিতা শহীদুল্লাহ কচুয়া থানায় মেয়ের জামাই এরশাদ উল্যাহ ও চাচা শ্বশুর আবু তাহের মুন্সীকে আসামী করে ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করে। পরে পুলিশ তাদেরকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেন।



সরকার পক্ষে আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডঃ আমান উল্যাহ জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কচুয়া থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তফা চৌধুরী একই বছরের ১০ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। প্রায় ৩ বছর মামলাটি চলমান অবস্থায় আদালত ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা করে বিচারক আসামী এরশাদ উল্যাহকে মৃত্যুদ- এবং চাচা আবু তাহের মুন্সীকে যাবজ্জীবন কারাদ- প্রদান করেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডঃ হেলাল উদ্দিন জানান, আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট।



সরকার পক্ষের ছিলেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডঃ মোক্তার আহম্মেদ এবং আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডঃ সেলিম আকবর। আসামী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডঃ সেলিম আকবর বলেন, আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। আমরা আসামীদের মুক্তির ব্যাপারে উচ্চ আদালতে আপিল করবো।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৪৮৫৬০
পুরোন সংখ্যা