চাঁদপুর । বুধবার ১৮ জুলাই ২০১৮ । ৩ শ্রাবণ ১৪২৫ । ৪ জিলকদ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • ফরিদগঞ্জের চান্দ্রার খাড়খাদিয়ায় ট্রাক চাপায় সাইফুল ইসলাম (১২) নামের ৭ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী ও সদর উপজেলার দাসাদি এলাকায় পিকআপ ভ্যান চাপায় কৃষক ফেরদৌস খান নিহত,বিল্লাল নামে অপর এক কৃষক আহত হয়েছে।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৯-সূরা আয্-যুমার

৭৫ আয়াত, ৮ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৫৩। বলুন, হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছে তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

৫৪। তোমরা তোমাদের পালনকর্তার অভিমুখী হও এবং তার আজ্ঞাবহ হও তোমাদের কাছে আযাব আসার পূর্বে। এরপর তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না;  

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


প্রত্যেক মানুষের একটা দুর্বল দিক থাকে, জেনে শুনে সেখানে আঘাত দেওয়া উচিত নয়।

 -জন রে।


নামাজ বেহেশতের চাবি এবং অজু নামাজের চাবি।



 


ফটো গ্যালারি
শাহরাস্তিতে রড ছাড়াই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ দায়সারাভাবে চলছে নির্মাণ কাজ
মোঃ মঈনুল ইসলাম কাজল
১৮ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


শাহরাস্তিতে রড ছাড়াই নির্মিত হচ্ছে মেহের উত্তর ইউনিয়নের কাঁকৈরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল। কোনো প্রকার মান ঠিক না রেখে ঠিকাদারের ইচ্ছে মতোই ৬ লক্ষ ৭১ হাজার ৫শ' ২৬ টাকার কাজ সম্পন্ন হচ্ছে দায়সারাভাবে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিসের কর্তাদের চোখ ফাঁকি দিতে বেলা অবেলা এমনকি ছুটির দিনেও কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদার ও উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিসের কর্মকর্তাদের ইঁদুর বিড়াল খেলায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় অভিভাবক ও জনসাধারণ।



জানা যায়, চলতি অর্থ বছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রকল্পে কাঁকৈরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৬ মিটার বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণে ৩ লক্ষ ৯৮ হাজার ২শ' ২৬ টাকা ও স্কুলের সম্মুখ গেইট নির্মাণে ২ লক্ষ ৭৩ হাজার ৩শ' টাকাসহ সর্বমোট ৬ লক্ষ ৭১ হাজার ৫শ' ২৬ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। দরপত্রের মাধ্যমে মেসার্স করিম এন্ড কোং উক্ত কাজের দায়িত্ব পায়। স্থানীয় ঠিকাদার মোঃ স্বপন সাব ঠিকাদার হিসেবে কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব নেন।



সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণে রড ছাড়াই ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। উপরে গ্রীল ও পলেস্তারা নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছে শ্রমিকরা। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি মোঃ চেরাগ আলীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে শ্রমিকরা জানান, আমরা ঠিকাদারের নির্দেশনার বাইরে কাজ করার সুযোগ নেই। তিনি রড ছাড়াই কাজ সম্পন্ন করতে বলেছেন। ইঞ্জিনিয়ার অফিসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার দায়িত্ব তার। ওই সময় উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিসের সার্ভেয়ার মালবিকা দেবনাথ ঢালাই ভেঙ্গে রড সমেত পুনরায় ঢালাই দেয়ার নির্দেশ দেন।



বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসাঃ নাজমা আক্তার জানান, কাজের শুরু থেকেই এ ঠিকাদার অনিয়ম করে আসছে। আমরা শুরু থেকে বিভিন্ন অনিয়ম চোখে পড়ার সাথে সাথে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ বাধা দিলে পুনরায় কাজটি দায়সারাভাবে করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণে ঠিকাদার কোনো নিয়মের তোয়াক্কাই করেননি। আমি প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে তার কাছে কাজের বিষয়ে অভিযোগ জানালে কিংবা কিছু জানতে চাইলে তিনি আমার সাথে অসদাচরণ করেন। বিদ্যালয় বন্ধের দিনে ঠিকাদার তার শ্রমিকদের কাজে লাগিয়ে রড ছাড়াই বাউন্ডারি ওয়ালের কাজ করে ফেলেছেন। আমাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিসে অবহিত করেছেন। আমরা সঠিকভাবে কাজটি সম্পন্ন করার দাবি জানাচ্ছি। তাছাড়া যে কাজটি চলছে তার কোনো ইস্টিমেট কপি বিদ্যালয়ের দপ্তরে নেই। আমি বেশ ক'বার নিজ উদ্যোগে চেয়েও অদ্যাবধি পাইনি।



বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির পর্ষদ সভাপতি মোঃ চেরাগ আলী জানান, বাউন্ডারি ওয়ালের কাজ বন্ধের দিনে করায় স্থানীয় একজন লোকের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তিনি আমাকে বিষয়টি অবগত করলে সরজমিনে এসে রড ছাড়াই ঢালাইয়ের প্রমাণ পেয়েছি। একজন ঠিকাদার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজে শুরু থেকেই অনিয়ম করে আসছেন বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ওই ঠিকাদারের অনিয়মের ব্যবস্থা ও সঠিক নিয়মে কাজটি শেষ করার দাবি জানাই।



স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, শুধু বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণে অনিয়মই শেষ নয়, ঠিকাদার বিদ্যালয়ের সম্মুখ গেইটের কাজেও অনিয়ম করেছে। ঠিকাদার কাজের দায়িত্ব নিয়ে লাভ করবেন, কিন্তু এভাবে কাজের নামে চুরি করাটা কতটুকু যৌক্তিক তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই ভাল জানেন।



উপজেলা প্রকৌশল অফিসের সার্ভেয়ার মালবিকা দেবনাথ জানান, এ কাজটি আমার তদারকিতে চলছে। আমি শুরু থেকেই মানসম্মতভাবে কাজটি শেষ করার চেষ্টা করছি। ছুটির দিনে আমাকে না জানিয়েই ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে। ঢালাইয়ে রড না থাকলে সেটি ভেঙ্গে পুনরায় নির্মাণ করা হবে।



এ বিষয়ে কাজের দায়িত্বে থাকা সাব ঠিকাদার স্বপন মুঠোফোনে জানান, আমার মায়ের অসুস্থতার কারণে ঢাকায় অবস্থান করায় আমার অনুপস্থিতিতেই শ্রমিকরা ঢালাইয়ের কাজ শেষ করেছে। কাজের সাইটে না গিয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব হচ্ছে না।



উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ রেজওয়ানুর রহমান জানান, আমি বিষয়টি অবগত নই। তবে যে কোনো ঠিকাদারই নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবেন। কাজে অনিয়ম হলে তাতে ছাড় দেয়া হবে না।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৩৯৪৬৮
পুরোন সংখ্যা