চাঁদপুর। শনিবার ১১ আগস্ট ২০১৮। ২৭ শ্রাবণ ১৪২৫। ২৮ জিলকদ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • ফরিদগঞ্জের চান্দ্রার খাড়খাদিয়ায় ট্রাক চাপায় সাইফুল ইসলাম (১২) নামের ৭ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী ও সদর উপজেলার দাসাদি এলাকায় পিকআপ ভ্যান চাপায় কৃষক ফেরদৌস খান নিহত,বিল্লাল নামে অপর এক কৃষক আহত হয়েছে।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪০-সূরা আল মু'মিন


৮৫ আয়াত, ৯ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৩৬। ফেরাউন বলল, হে হামান, তুমি আমার জন্যে একটি সুউচ্চ প্রসাদ নির্মাণ কর, হয়তো আমি পেঁৗছে যেত পারব।


৩৭। আকাশের পথে, অতঃপর উঁকি মেরে দেখব সূসার আল্লাহকে। বস্তুতঃ আমি তো তাকে মিথ্যাবাদীই মনে করি। এভাবেই ফেরাউনের কাছে সুশোভিত করা হয়েছিল তার মন্দ কর্মকে এবং সোজা পথ থেকে তাকে বিরত রাখা হয়েছিল। ফেরাউনের চক্রান্ত ব্যর্থ হওয়ারই ছিল।


৩৮। মুমিন লোকটি বলল: হে আমার কওম, তোমরা আমার অনুসরণ কর। আমি তোমাদেরকে সৎপথ প্রদর্শন করব।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


পরামর্শ মানুষের কাজে বলিষ্ঠতা আনয়ন করে।


-ভার্জিল।


 


 


মানবতাই মানুষের শ্রেষ্ঠতম গুণ।


 


 


 


 


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
চাঁদপুরের নদ-নদীতে মাছের আকাল
মিজানুর রহমান
১১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুরের নদ-নদীতে মাছের দেখা নেই। জেলেরা হতাশ। আর চাষের মাছ যদি না থাকতো তাহলে ভোক্তারা মাছের দেখাই পেতো না। চাঁদপুরের বাজারগুলোতে চাষের মাছ ছাড়া অন্য মাছের তেমন কোনো দেখাই মিলছে না। এদিকে সাগরে আহরিত ইলিশের কিছু অংশ হাতিয়া থেকে সড়কপথে এবং ভোলার দৌলতখাঁ থেকে নদীপথে চাঁদপুর আসায় অবশেষে মন্দা কাটিয়ে ইলিশের নগরীখ্যাত চাঁদপুর মাছঘাটে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। এ ইলিশের আমদানী ও ক্রয়-বিক্রয়ের ফলে এখন ঘাটের অধিকাংশ মৎস্য আড়ত সরগরম। কিন্তু লোকাল নদীতে মাছের দেখা নেই। ইলিশসহ নদ-নদীর অন্য সব দেশীয় মাছের আকাল এখনও চলছে। শহর কিংবা গ্রামের হাট-বাজারে যে পরিমাণ মাছ উঠছে, চাহিদার তুলনায় তা খুবই কম। ইলিশসহ নদীর মাছের দামে যেনো আগুন। সাধারণত নদীর মাছ বলতে চাঁদপুরের গুঁড়া চিংড়িসহ অন্যান্য ছোট ছোট মাছ কিছুটা বাজারে পাওয়া যায়। তবে দাম অনেক বেশি। গুঁড়া চিংড়ি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫/৬শ' টাকায়। মাঝারি সাইজের ৮/৯শ' টাকায়। তাতে সাধারণ মানুষ হাত দিতে পারছে না। তাদের ক্রয়ক্ষমতায় নাগালের বাইরে। দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো মাছের এই আকালকে মোকাবেলা করছেন সাগরের পঁচা মাছ খেয়ে। তাদের একটু ভরসা পুকুর ও ঝিলে চাষ করা পাঙ্গাস আর খাঁচার হাইব্রিড তেলাপিয়া।



চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার নতুন রাস্তার উপর গড়ে ওঠা অস্থায়ী বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজার, মাছঘাট পর্যবেক্ষণ, মৎস্য ব্যবসায়ী, আড়তদার ও জেলেদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, শীতে নদ-নদীতে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা নির্বিচারে নিধন করা হয়। গেলো দুই মাসের জাটকা রক্ষা অভিযান সফল না হওয়া, কম ফাঁসের গুলতি, কোণা, বাঁধাজাল ও কারেন্টজাল দিয়ে নদী ছেঁকে ফেলাসহ বিভিন্ন কারণে নদ-নদীর মাছের এই দুষ্প্রাপ্যতা দেখা দিয়েছে।



চাঁদপুর মাছঘাটে সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, হাজী আঃ মালেক খন্দকার, গফুর জমাদার, কুদ্দুছ খান, শবেবরাত কোম্পানী, রব চোকদার ও আনোয়ার গাজীর আড়তে গত এক সপ্তাহে সাগরের ইলিশ ভরপুর এসেছে। এসব আড়তের ইলিশে মাছঘাটের চেহারাও পাল্টে গেছে। লোকাল মাছ তেমন না থাকলেও নামার ইলিশে চাঙ্গা স্থানীয় ইলিশের বাজার।



চাঁদপুর বরফকল মালিক সমিতির ম্যানেজার মনির হোসেন জানান, আমাদের এই জায়গার নদীতে মাছ নাই। নামায় ইলিশ ধরা পড়ায় আগের তুলনায় এখন বরফ বিক্রি কিছুটা ভালো যাচ্ছে। আমাদের সমিতির ৫টা কলই এখন চলছে। সমিতির বাইরে অন্য বরফকলগুলোও চালু আছে।



চাঁদপুর ঘাট থেকে ইলিশ কিনে হাজীগঞ্জ স্টেশন রোডের বালুর মাঠে মাছ বিক্রি করেন পুরাণবাজার ম্যারকাটিজ রোডের সাইফুল (৩০)। তিনি জানান, '৭/৮টায় এক কেজি হয় এমন পোনা ইলিশের দাম কেজিপ্রতি পাইকারী ৩শ' টাকা, প্রতি মণ ১২ হাজার টাকা। সাড়ে ৪ ও ৫শ' গ্রাম ওজনের ইলিশের মণ ২০ হাজার টাকা, কেজি ৫শ' টাকা। ৬/৭শ' গ্রাম সাইজের ইলিশের মণ ২৮/২৯ হাজার টাকা। এই সাইজের ইলিশের কেজি আড়তের ঘরেই ৭শ' ২৫ টাকা। এক কেজি সাইজের ইলিশের মণ ৫০-৫২ হাজার টাকায় কেনা হয়। সিজনে এমন দাম হলে গরিব মানুষ ইলিশ খাইবো কীভাবে?'



হাইমচর কাটাখালী সফিক দেওয়ান মৎস্য আড়তের জেলে লক্ষ্মণ দাস ও চাঁদপুর শহরের ৩নং কয়লাঘাটে অবস্থান নেয়া কালু ভূঁইয়ার আড়তের জেলে সুজন দাস জানান, চাঁদপুর নৌ-সীমানায় মাছের অবস্থা ভালো না, খোরাকির পয়সা হয় না। দুই খেও দিয়ে ৩/৪ হাজার টাকার মাছ পায়। অভিযানের পর থেকে মাছের পরিস্থিতি খুবই খারাপ যাচ্ছে। এক এক নৌকা দেড়-দুই লাখ টাকা দেনা।



চাঁদপুর সদর উপজেলার আখনেরহাট বাজারের মৎস্য আড়তদার খলিলুর রহমান ও গিয়াস উদ্দিন জানান, দুই মাসের অভিযানের সময় জাটকা মাছ ধইরা খাইয়া লাইছে এজন্যে জেলেরা এখন নদীতে মাছ পাচ্ছে না। হাইমচরের নয়ারহাট ও চাঁদপুর হরিণা ফেরিঘাট এলাকায় কোণা জালের নৌকায় তারা কিছু মাছ পায়, তাও ছোট ছোট মাছ।



চাঁদপুর মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি আব্দুল বারী জমাদার মানিক জানান, লোকালে মাছ একেবারেই কম। গভীর সাগরে আর হাতিয়া এলাকায় ধরাপড়া ইলিশের চালান নিয়ে মাছঘাট এখন কিছুটা সচল দেখা যাচ্ছে। আমাদের এই নদীতে (পদ্মা-মেঘনায়) মৌসুমে ইলিশ না পাবার কারণ দুই মাসের জাটকা রক্ষার অভিযান ভালো হয় নি। এবার ওই সময় নির্বিচারে জাটকা নিধন হয়েছে। এছাড়া ভরা বর্ষায় নদীতে পানি কম, নদীর বিভিন্ন স্থান দিয়ে ডুবোচর। সাগর থেকে হাতিয়া, ভোলা, লক্ষ্মীপুর হয়ে চাঁদপুরের নদীতে মাছটা যে ঢুকবে, তা ডুবোচরের কারণে আসতে পারছে না। লোকালে মাছ না পাওয়ার এই পরিস্থিতি ইলিশের জন্যে ভালো না, অশনিসংকেত বলে মনে করেন এই মৎস্য ব্যবসায়ী। তার মতে, ইলিশ মিঠা পানিতে ডিম ছাড়ে। সাগর মোহনা থেকে বিভিন্ন প্রতিকূলতায় উপরে আসতে পারছে না।



জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, মাছ নদীতে আসার মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি। মাছের যে মাইগ্রেশন দরকার, পাহাড়ি ঢল ও নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে স্রোত বাড়তে হবে। আমাদের সীমিত লজিস্টিক সাপোর্ট ও জনবল নিয়ে আমরা চেষ্টা করেছি জাটকা রক্ষা করতে। তবে তিনি আশাবাদী আশি্বন-ভাদ্র মাসে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে।



চাঁদপুর জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যসূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার নিবন্ধিত মোট জেলের সংখ্যা ৫৭ হাজার ৩শ' ৫ জন। চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলায় মোট নিবন্ধিত জাটকা/ইলিশ মৎস্যজীবীর সংখ্যা ৫১ হাজার ১শ' ৯০ জন। ২০১৬-১৭ সালে নদী থেকে ইলিশ উৎপাদন হয়েছে ৩৫৪২৭.০০মে.টন। এবার বর্ষার শ্রাবণ শেষ পর্যায়। এখনও প্রত্যাশিত ইলিশ ধরা পড়ছে না। সামনে কোরবানির ঈদ। নদীতে মাছ ধরা না পাওয়ায় চরম হতাশ জেলে ও মৎস্যজীবীরা। সবাই অপেক্ষার প্রহর গুণছেন, ইলিশ আল্লাহর দানীয় মাছ। আল্লাহ দিলে মাছ পাবেন।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৫১৬৪৫
পুরোন সংখ্যা