চাঁদপুর। শুক্রবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮। ৩০ ভাদ্র ১৪২৫। ৩ মহররম ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪১-সূরা হা-মীম আস্সাজদাহ,

৫৪ আয়াত, ৬ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৬। কাফিররা বলে, তোমরা এই কোরআন শ্রবণ করো না এবং তা তিলাওয়াতকালে শোরগোল সৃষ্টি করো, যাতে তোমরা জয়ী হতে পারো।

২৭। আমি অবশ্যই কাফিরদেরকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাবো এবং নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে নিকৃষ্ট কার্যকলাপের বিনিময় দেবো।

২৮। জাহান্নাম, এটাই আল্লাহর শত্রুদের পরিণাম; সেখানে তাদের জন্যে রয়েছে স্থায়ী  আবাস আমার নিদর্শনাবলি অস্বীকৃতির প্রতিফলস্বরূপ।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


কাঁচা যে-কোনো জিনিসই পচনশীল

 -লুই পাস্তুর।


স্বদেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।

 


ফটো গ্যালারি
রফ রফ লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড
বিশেষ প্রতিনিধি
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর নৌ-টার্মিনালে যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি রফ রফে ইঞ্জিন রুমে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নেভাতে গিয়ে ও আতঙ্কিত যাত্রীরা ছোটাছুটি এবং তাড়াহুড়ো করে লঞ্চ থেকে নামতে গিয়ে কমপক্ষে ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসাগ্রহণ করতে হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে লঞ্চটি ছাড়ার আগ মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এসে পৌনে ১ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে চলে আসেন। তাঁর উপস্থিতিতেই আগুন নেভানোর কাজ চলছিলো। এরপর পুলিশ সুপার ও কোস্টগার্ড কমান্ডার আসেন।



এদিকে অগ্নিকান্ডের সাথে সাথে লঞ্চের মাস্টার মামুনুর রশিদ দুর্ঘটনার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি তাৎক্ষণিক লঞ্চে থাকা ৭ শতাধিক যাত্রীকে লঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়ার খবর নীচে পেঁৗছে দেন। আর তখনই যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে নামতে থাকেন। এতে কিছু যাত্রী আহত হলেও সবাই প্রাণে রক্ষা পান। এ ঘটনায় লঞ্চের নীচতলা ও ২য় তলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লঞ্চের ম্যানেজার জানান, অগ্নিকান্ডে লঞ্চের বিভিন্ন প্রকারের ৬টি ইঞ্জিন, জেনারেটর, পাওয়ার সেকশন, হাওয়ার মেশিন, ডায়াস মেশিনসহ প্রায় ৮ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের ধারণা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হবে প্রায় ২ কোটি টাকা। এ ঘটনা শোনার পর লঞ্চের মালিক আলহাজ্ব এমএ বারী খান মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে লঞ্চের কেরানী গিয়াস উদ্দিন জানান। যাত্রী শিমুল জানান, যেভাবে অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটেছে তাতে করে লঞ্চটি নদীতে চলমান অবস্থায় থাকলে অনেক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিলো।



গতকাল ১৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় লঞ্চটি চাঁদপুর নৌ-টার্মিনাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ার পূর্ব মুহূর্তে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় লঞ্চে ৭ শতাধিক যাত্রী ছিলো বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।



অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে চাঁদপুর উত্তর ফায়ার সার্ভিস, দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-ফায়ার স্টেশনের নৌযান 'অগি্ন বিনাশ' ঘটনাস্থলে এসে ৩টি ইউনিট পৌনে ১ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।



ঘটনার পর পর নৌ-টার্মিনালে গিয়ে জানা যায়, যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি রফ রফ সকাল সাড়ে ৯টায় চাঁদপুর নৌ-টার্মিনাল থেকে ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। হঠাৎ লঞ্চের নীচতলায় বিকট শব্দ হয়ে ইঞ্জিন রুমে আগুন ধরে যায়। লঞ্চের মাস্টার বিষয়টি বুঝতে পেরে লঞ্চটি ঘাট থেকে না ছেড়ে লঞ্চের নীচে তাৎক্ষণিক খবর পাঠান এবং যাত্রীদেরকে নেমে যাওয়ার জন্যে বলেন। মহূর্তের মধ্যে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে যাত্রীরা লঞ্চ থেকে দ্রুত নামতে থাকে। এরই মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ভেতরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এ সময় আতঙ্কিত যাত্রীরা তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে আহত হয় বলে ঘাটে অবস্থানরত বিভিন্ন লঞ্চের সুপারভাইজার ও রফরফ লঞ্চের সুপারভাইজার ইউছুফ আলী বেপারী জানান। তাৎক্ষণিক নৌ-টার্মিনালে অবস্থানরত বিআইডবিস্নউটিএ'র টিআই মোঃ রেজাউল করিম সুমন চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন স্থানে খবর পাঠান। এরই মধ্যে আগুন লঞ্চের পেছনের অংশে ছড়িয়ে পড়লে নৌ-টার্মিনালে থাকা বিভিন্ন লঞ্চের স্টাফ, দুর্ঘটনা কবলিত লঞ্চের স্টাফ, বিআইডবিস্নউটিএ কর্মচারী ও নৌ-টার্মিনালের দোকানদাররা বালতি, জগ, বলসহ বিভিন্ন পাত্র নিয়ে নৌকা ও বিভিন্ন নৌ-যানের মাধ্যমে লঞ্চের পাশে গিয়ে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান। প্রায় ২০ মিনিট পরে চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের ১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পেঁৗছে আগুন নেভানোর কাজে লাগে। এরই মধ্যে ১০টায় চাঁদপুর পুরাণবাজারের ফায়ার সার্ভিস ও নৌ ফায়ার সার্ভিস দল ঘটনাস্থলে এসে যৌথভাবে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে পৌনে এক ঘন্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। তারপরও লঞ্চের ডেকের নীচে ইঞ্জিন রুমে আগুন জ্বলতে থাকে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ডেকের নীচে নেমে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে পৌনে ১১টায় আগুন পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। এ অগ্নিকান্ডে লঞ্চের যন্ত্রাংশ ছাড়াও দোতলা ও নীচ তলার কেবিন, আসবাবপত্র, ফ্রিজ, টিভি, সোফা, চেয়ার, টেবিল, দোকানের মালামাল, লঞ্চের সিলিংসহ ব্যাপক মালামাল পুড়ে যায়। যাত্রীরা ক্ষোভের সাথে জানান, লঞ্চগুলোর উপর সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মনিটরিং না থাকায় এবং লঞ্চগুলো চালুর পর আর কোনো চেকআপ না থাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটা স্বাভাবিক বিষয়। মানুষের জানমালের নিরাপত্তার দিক বিবেচনায় নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মনিটরিং থাকা একান্ত প্রয়োজন বলে যাত্রীরা মন্তব্য করেন।



রফ রফ লঞ্চের মাস্টার মোঃ মামুনুর রশিদ জানান, ইঞ্জিনটি চালু করার পরপরই বিকট শব্দ হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে মারাত্মক দুর্ঘটনা এড়াতে তাৎক্ষণিক যাত্রীদের টার্মিনালে নামিয়ে দেয়া হয়।



মেসার্স রাকিব ওয়াটার ওয়েজের ম্যানেজার মোঃ ফরিদ আহম্মেদ জানান, অগ্নিকান্ডে আমাদের লঞ্চের ইঞ্জিন, কেবিন ও আসবাবপত্রসহ প্রায় ৮ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার মোঃ জিহাদুল কবির পিপিএম, কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশন কমান্ডার লেঃ এনায়েত উল্লাহ, বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। তাঁদের উপস্থিতিতেই আগুন নেভানোর কাজ চলে।



চাঁদপুর উত্তর ফায়ার স্টেশনের উপ-পরিচালক রতন কুমার নাথ জানান, আমাদের ৩টি ইউনিট দিয়ে দ্রুত চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়েছি। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে বলা যাবে। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ যা বলে আমরা তা বলতে পারি না। তাদের ৪টি মেশিন, আসবাবপত্র ও ফ্যান নষ্ট হয়েছে। এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়তো ২ কোটি হতে পারে।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮০১৫৭৮
পুরোন সংখ্যা