চাঁদপুর। শুক্রবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮। ৩০ ভাদ্র ১৪২৫। ৩ মহররম ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪১-সূরা হা-মীম আস্সাজদাহ,

৫৪ আয়াত, ৬ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৬। কাফিররা বলে, তোমরা এই কোরআন শ্রবণ করো না এবং তা তিলাওয়াতকালে শোরগোল সৃষ্টি করো, যাতে তোমরা জয়ী হতে পারো।

২৭। আমি অবশ্যই কাফিরদেরকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাবো এবং নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে নিকৃষ্ট কার্যকলাপের বিনিময় দেবো।

২৮। জাহান্নাম, এটাই আল্লাহর শত্রুদের পরিণাম; সেখানে তাদের জন্যে রয়েছে স্থায়ী  আবাস আমার নিদর্শনাবলি অস্বীকৃতির প্রতিফলস্বরূপ।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


কাঁচা যে-কোনো জিনিসই পচনশীল

 -লুই পাস্তুর।


স্বদেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।

 


ফটো গ্যালারি
বিদ্যালয় মাঠে ১ লাখ ৩২ হাজার ভোল্টের স্টীল খুঁটি সরানোর উদ্যোগ নেই
হাজীগঞ্জে মৃত্যুর দুয়ারে বসে ক্লাস করছে কয়েকশ' শিক্ষার্থী
কামরুজ্জামান টুটুল
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


হাজীগঞ্জে মৃত্যুর দুয়ারে বসে ক্লাস করছে কয়েকশ' খুদে শিক্ষার্থী। বেশ কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয় ভবনের বিভিন্ন অংশের পলেস্তরা খসে পড়া আর ভিমের মধ্যে বড় ধরনের ফাটল ধরা ভবনেই বসে ক্লাস করছে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গত বছর ভবনের বিষয়ে উপজেলায় রিপোর্ট দেবার পরও কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না বলে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আবার বিদ্যালয়ের ঠিক উপর দিয়ে চলে যাওয়া ১ লাখ ৩২ হাজার ভোল্টের স্টীল খুঁটি সরানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। শিক্ষার্থী হারে শিক্ষক স্বল্পতা রয়েছে প্রকট। এতোসব সমস্যা বিরাজমান রয়েছে হাজীগঞ্জের কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের ৩৪ নং সিদলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।



সরজমিনে দেখা যায়, ১৯৩৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বিদ্যালয়ের বাহ্যিক অবস্থাটি বেশ সুন্দর। একাডেমিক ভবনসহ দুটি ভবনের মধ্যে পশ্চিম পাশের ভবনটির অবস্থা ভয়াবহ। এ ভবনটিতে বেশ কয়েক বছর আগে ভিমে আর ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেয়। ছাদ ভিজে স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থায় রয়েছে। পলেস্তরা খসে পড়ছে প্রতিনিয়ত। ক্ষুদ্র মেরামতের টাকা দিয়ে একদিকে সংস্কার করা হলেও অন্যদিকে পলেস্তরা খসে পড়ছে এবং ফাটলের গভীরতা দিন দিন বেড়েই চলছে । বর্ষা মৌসুমে বা ভারী বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে পানি পড়া আর পলেস্তরা খসে পড়ারোধ করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের শরীরে পলেস্তরা খসে পড়ার ঘটনা চাঁদপুর কণ্ঠকে জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিভাবক।



অপরদিকে বিদ্যালয়ের মাঠের ঠিক মাঝখানে রয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ভোল্টের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন, যা কুমিল্লার জাঙ্গালিয়া থেকে চাঁদপুর শহরের পাওয়ার গ্রিডে যুক্ত হয়েছে জাতীয় গ্রিডের লাইন হিসেবে। খুঁটির নিচের অংশে নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকার বিধান থাকলেও সরজমিনে কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী চোখে পড়েনি। খুদে শিক্ষার্থী খেলার ছলে সচরাচর খুঁটিতে উঠে আর কোনো শিক্ষার্থী দৈবাৎ ভুলক্রমে নির্দিষ্ট অংশে উঠে গেলে ঘটতে পারে জীবনহানির মতো ঘটনা। খুঁটির কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরও খেলাধুলায় ঘটছে মারাত্মক ব্যাঘাত।



বিদ্যালয়ের অফিস সূত্রে জানা যায়, ২শ' ৮৫ জন শিক্ষার্থীর জন্যে প্রধান শিক্ষকসহ ৮ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে শিক্ষক আছে ৫ জন। বাকি ৩ জনের মধ্যে ২০১০ সাল থেকে একজন রয়েছেন পরীক্ষণ বিদ্যালয়ে, একজন বিপিএড প্রশিক্ষণরত এবং একজন সিনিয়র সহকারী শিক্ষক সাম্প্রতিক সময়ে চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষক হয়ে পার্শ্ববর্তী স্কুলে পদায়ন হয়েছেন।



বেশ ক'জন খুদে শিক্ষার্থী চাঁদপুর কণ্ঠের সাথে কথা বলতে গিয়ে বলেন, আমরা ক্লাসে বসলে ভয় লাগে কোন্ সময় জানি মাথায় ইট পড়ে। আর স্টীল খুঁটির বিষয়ে একই শিক্ষার্থীরা জানান, খুঁটির জন্যে খেলাধুলা করতে পারি না, দৌড়াতে পারি না। আমাদের অনেকে আবার খেলতে গিয়ে তাতে উঠার চেষ্টা করে।



ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাহানারা বেগম জানান, আমাদের যে ভবনটির অবস্থা বেশি খারাপ সেটির বিষয়ে গত বছর লিখিত রিপোর্ট জমা দিয়েছি। ভবনটিতে ক্লাস নিতে হচ্ছে পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষ না থাকার কারণে। এমনিতে দুই শিফটে ক্লাস নিচ্ছি, তার উপর ফাটলধরা ভবনের ক্লাস বন্ধ করে দিলে কীভাবে কোথায় শিশুদের বসাবো বুঝছি না।



বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি উম্মে রুমান মজুমদারের স্বামী ও একই বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি বিল্লাল হোসেন মজুমদার মুঠোফোনে জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত ভবনটি পুনঃনির্মাণ প্রয়োজন।



এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বুলবুল সরকার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে তথ্য দেয়া আছে। বরাদ্দ পেলে কাজ করা হবে। এই কর্মকর্তা আরো বলেন, ক্ষুদ্র সংস্কার বরাদ্দের মাধ্যমে ভবনটি সংস্কার করা হয়েছে। আমি প্রধান শিক্ষককে নির্দেশনা দিয়েছি, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতে যেনো ক্লাস না নেয়। তারপরও বিষয়টি দেখছি। দু-একদিনের মধ্যেই উপজেলা প্রকৌশলীকে নিয়ে বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে যাবো।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৩৬২৪৮
পুরোন সংখ্যা