চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ১১ অক্টোবর ২০১৮। ২৬ আশ্বিন ১৪২৫। ৩০ মহররম ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪২-সূরা শূরা


৫৪ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৩০। তোমাদের যে বিপদ-আপদ ঘটে তা তো তোমাদেরই হাতের কামাইয়ের ফল এবং তোমাদের অনেক অপরাধ তিনি ক্ষমা করে দেন।


৩১। তোমরা পৃথিবীতে (আল্লাহকে) ব্যর্থ করতে পারবে না এবং আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই, সাহায্যকারীও নেই।


৩২। তাঁর মহা নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত হলো পর্বত সদৃশ সমুদ্রে চলমান নৌযানসমূহ।


৩৩। তিনি ইচ্ছা করলে বায়ুকে স্তব্ধ করে দিতে পারেন; ফলে নৌযানসমূহ অচল হয়ে পড়বে সমুদ্র পৃষ্ঠে। নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন রয়েছে ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্যে।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


প্রাচীন মহিলার দেহের গহনা অবশ্যই খাদবিহীন হবে।


-জুভেনাল।


 


 


ধরেন যদি সদ্ব্যবহার করা হয় তবে তা সুখের বিষয় এবং সদুপায়ে ধন বৃদ্ধির জন্য সকলেই বৈধভাবে চেষ্টা করতে পারে।


 


 


 


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
শাহরাস্তিতে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে জনজীবন
যত্রতত্র এলপিজি সিলিন্ডারের কারণে অগ্নিকাণ্ডে ভয়াবহ বিস্ফোরণসহ প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে : ফায়ার সার্ভিস
মোঃ মঈনুল ইসলাম কাজল
১১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


 নিয়মনীতি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা ছাড়াই শাহরাস্তি উপজেলার শতাধিক ছোট-বড় বাজারের অর্ধ সহ¯্রাধিক দোকানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে তরলকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি সিলিন্ডার। আইনকানুন না মেনেই শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এ জ্বালানির ব্যবসা চলছে যত্রতত্র।

    জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন বাজার, পাড়া, মহল্লার মুদি দোকান, প্লাস্টিক সামগ্রীর দোকান, ফার্নিচারের দোকান, ফোন-ফ্যাক্সের দোকান, রিক্সা গ্যারেজ, এমনকি ওষুধের দোকানেও পাওয়া যাচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার। অপরদিকে সপ্তাহে ২/৩ দিন পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা হতে অটোরিক্সা যোগে ভ্রাম্যমাণ গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতাদের দেখা যায়। এসব দোকানে নেই আগুন নির্বাপক যন্ত্র। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে জানা নেই প্রতিকারের ব্যবস্থা। জনবহুল কিংবা আবাসিক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এ ব্যবসার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে প্রতিনিয়ত। এ কারণে জননিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে, নিরাপত্তার স্বার্থে অনুমোদনহীন এসব দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

    জানা গেছে, জ্বালানি অধিদপ্তরের আইন অনুযায়ী যেসব প্রতিষ্ঠান গ্যাস বিক্রি করবে তাদের গ্যাস বিক্রির স্থানকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালাতে হয়। আইন অনুযায়ী গ্যাস বিক্রির স্থানে কমপক্ষে ফ্লোর পাকাসহ আধ-পাকা ঘর, ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ লাইসেন্সসহ অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার, মজবুত ও ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগার থাকতে হবে। এছাড়াও থাকতে হবে জ্বালানি অধিদপ্তরের অনুমোদন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এর কোনোটিই নেই হাতে গোণা ২/১ জন ছাড়া এই উপজেলার অন্য গ্যাস ব্যবসায়ীদের। এসব ব্যবসায়ী সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে দীর্ঘদিন ধরে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

    সরেজমিনে উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের আয়নাতলী বাজার, মেহার উত্তর ইউনিয়নের শাহরাস্তি (রহঃ) বাজার ও রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের উনকিলা বাজারে দেখা যায়, ছোট-বড় ৩৫ টি দোকানে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাস। এই তিনটি বাজারে মাত্র ১ জন লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ী পাওয়া যায়। বাকিদের মধ্যে অনেকেই জানেন না এই ব্যবসার আইনকানুন। একটু লাভের আশায় দোকানের বাইরে ফুটপাতে রোদে ফেলে রাখা হয়েছে এসব সিলিন্ডার। রাস্তার কিনারে রাখা এসব সিলিন্ডারের পাশ ঘেঁষেই চলছে দ্রুতগামী যানবাহন। অধিক লাভের আশায় মান ও মেয়াদহীন অনেক কোম্পানীর সিলিন্ডার রাখায় এসব দোকানী নিজের অজান্তেই বোমার চেয়ে ভয়ানক বিপদের পসরা সাজিয়ে রেখেছেন।

    এছাড়া উপজেলার অলিতে গলিতে গড়ে ওঠা বিভিন্ন নকল সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহ, ওজনে কমসহ বাড়তি দাম নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে গ্রাহকদের। ফলে একদিকে নিয়মনীতি মেনে পরিচালনা করা ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অপরদিকে  প্রতিনিয়ত এসব দোকান থেকে গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার কিনে প্রতারিত হচ্ছেন গ্রাহকরা।

    আয়নাতলী বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ এবাদুল হক অভিযোগ করে বলেন, আমি বিস্ফোরক লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করলেও লাইসেন্স বিহীন ব্যবসায়ীরা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে পুরোদমে। এ ব্যপারে প্রশাসনের তদারকি না থাকায় আমি ব্যবসায়িকভাবে লোকসান গুণতে হচ্ছে। ২ বছরে এই বাজারে ৩ বার অগ্নিকা-ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও সচেতনতা বাড়েনি। যত্রতত্র সিলিন্ডার বিক্রয়ের ফলে বড় ধরনের অগ্নি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে এ বাজারটি।

    এদিকে দোকানিদের পাশাপাশি গ্রাহকদের মাঝেও গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহনে উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দোকান হতে সিলিন্ডার ক্রয় করে রাস্তায় গড়িয়ে নিতে এবং মোটর সাইকেল কিংবা বাই সাইকেলে অনেককে পরিবহন করতে দেখা গেছে।

    মেহের ডিগ্রি কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মোঃ জিয়া উদ্দিন চৌধুরী জানান, রাস্তার পাশে কিংবা রোদে গ্যাস সিলিন্ডার রাখা ঠিক নয়। এতে চাপ ও তাপ জনিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া একই বোতলে বারবার গ্যাস ভর্তি ও অবৈধ পন্থায় গ্যাস ভর্তি করার কারণে থার্মো সিল বা বাল্ব নষ্ট হয়ে বিস্ফোরণের আশঙ্কাও রয়েছে।  

    শাহরাস্তি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোঃ জাকির হোসেন জানান, ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়া গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসা জননিরাপত্তার জন্যে হুমকি। গত ৩ মাসে এই উপজেলায় ১৫ বারের মতো অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকা-ের সময় আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন দোকান হতে গ্যাস সিলিন্ডার অপসারণ করেছি। যত্রতত্র এলপিজি সিলিন্ডারের কারণে অগ্নিকা-ে ভয়াবহ বিস্ফোরণসহ প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।   

    শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হাবিব উল্যাহ মারুফ জানান, নিয়মনীতি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা ছাড়া যারা গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নকল গ্যাস সিলিন্ডার বা অবৈধ বোতলজাতের সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে ত্বরিৎ অভিযান চালানো হবে।

 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬০১৯৩৬
পুরোন সংখ্যা