চাঁদপুর। বুধবার ১৭ অক্টোবর ২০১৮। ২ কার্তিক ১৪২৫। ৬ সফর ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪২-সূরা শূরা

৫৪ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৪৮। তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমাকে তো আমি তাদের রক্ষক করে পাঠাইনি। তোমার দায়িত্ব তো শুধু প্রচার করে যাওয়া। আমি মানুষকে যখন আমার রহমত আস্বাদন করাই তখন সে এতে উৎফুল্ল হয় এবং যখন তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদের বিপদ-আপদ ঘটে তখন মানুষ হয়ে যায় অকৃতজ্ঞ।

৪৯। আকাশম-লী ও পৃথিবীর কর্তৃত্ব আল্লাহরই। তিনি যা ইচ্ছা তা-ই সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন



 


অস্থির মানসিকতা স্বাস্থ্য এবং শান্তি দুটোতেই বিঘœ সৃষ্টি করে।               


-মার্ক টোয়াইন।


আল্লাহ যদি তোমাদের অর্থ-সম্পদ দান করেন তবে তাহা নিজের ও পরিবারের পক্ষ হইতে বন্টন শুরু করো।





 


ফটো গ্যালারি
যেভাবে চলে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার অনিয়ম : অনুসন্ধান-৩
চা-সিঙ্গারা খাওয়ালেই সচিবের নিয়ন্ত্রণে থাকেন কেন্দ্র নিয়ন্ত্রক!
রাসেল হাসান
১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


জেএসসি পরীক্ষা নকলমুক্ত পরিবেশ ও শতভাগ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যে তোড়জোড় চেষ্টা চালান জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের নীতি নির্ধারকগণ। তাই প্রতিটি পরীক্ষার পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে পাঠানো হয় একজন করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা। যাদের কাজ কেন্দ্রের পরীক্ষা সংক্রান্ত শৃঙ্খলা রক্ষা করা। কেন্দ্র নিয়ন্ত্রকগণ তাদের দায়িত্ব পালন করতে গেলেই অধিকাংশ কেন্দ্রে তাদের উপর আসে পরোক্ষ বাধা। নাস্তা করার নামে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় সচিবের অফিস কক্ষে। সেখানে নাস্তার ফাঁকে শুরু হয় সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নানা খোশগল্প। যে কেন্দ্রের সচিব যতটা বিচক্ষণ সে কেন্দ্রে খোশগল্পে ততটা সময় ব্যয় করেন। এদিক দিয়ে ততক্ষণে হয়তো কাজের কাজটি করে ফেলেছেন কেন্দ্রের পূর্ব নির্ধারিত নকল সাপ্লাইকারী!



জানা যায়, পরীক্ষার হলে যখন নৈর্ব্যক্তিকের উত্তরগুলো বলে দেয়া হয় তখন কক্ষের সামনে বারান্দায় দাঁড়িয়ে পাহারা দেন ওই কক্ষের পরিদর্শক। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রশাসনিক কর্মকর্তা সচিবের কক্ষ থেকে বের হলেই সাপ্লাইকারীকে সতর্ক করে দেয়া হয়। তিনি তখন ত্বরিৎ গতিতে হল ত্যাগ করেন। এভাবে একটি কেন্দ্রে একাধিক ভবন থাকলে কর্মকর্তা যখন একটি ভবনে থাকেন সাপ্লাইকারীরা তখন অপর ভবনে প্রবেশ করেন। এভাবে অসাধু শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে চলে লুকোচুরি খেলা। এমনি করে চলতে থাকে মিনিট বিশ-পঁচিশের মত। সর্বোচ্চ আধা ঘণ্টার মাথায় আবার ডাক পড়ে সেই কেন্দ্র নিয়ন্ত্রক প্রশাসনিক কর্মকর্তার। আবার চা-সিঙ্গারার বিরতি। ফুটবল খেলার মাঠে খেলোয়াড়রা টানা দৌড় দিয়েও এতো বেশি পানি পানের বিরতি পান না, পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তা যতবার চা-সিঙ্গারা খাওয়ার জন্যে ডাক পান। কেন্দ্র সচিব বা হল সুপারের ডাকে সাড়া দিয়ে আবার মিলিত হন সচিবের কক্ষে। আবার চলে দীর্ঘ সময় ধরে খোশগল্প। এর মাঝে চলে আবার অপারেশন! যে অপারেশনে চাকু ধরা হয় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উপর। যে অপারেশনে ভেস্তে যায় প্রগতিশীলদের নকলবিরোধী অভিযানের প্রয়াস।



প্রতিদিনই যে চা-সিঙ্গারায় দায়িত্বরত কর্মকর্তা মগ্ন থাকেন তা কিন্তু নয়। যেদিন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ফোনে সার্বক্ষণিক ঘুরে বেড়ান পুরো হলে, সেদিনই পড়ে যায় পরীক্ষা শেষে হৈ চৈ। গা শিউরে ওঠার মত তথ্য বেরিয়ে আসে চাঁদপুর কণ্ঠের এ অনুসন্ধানে। গত বছর চাঁদপুরের একটি উপজেলার কেন্দ্রের ইংরেজি পরীক্ষা শেষে দেখা যায় সাদা ইউনিফর্ম গায়ে একদল ছাত্র মাঠের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। দূর থেকে দেখে যে কেউই ভাববে হয়তো তাদের পরীক্ষায় প্রশ্ন কমন পড়েনি বা কোনো কারণে পরীক্ষা খারাপ হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে কান্নার কারণ জানতে চায় এ প্রতিবেদক। এক ছাত্র চোখ মুছতে মুছতে জানায় সে গ্রামারের একটি প্রশ্নেরও উত্তর দিতে পারেনি। কারণ তাদের স্কুল থেকে মিলাদের দিনে জানিয়ে দেয়া হয়েছিলো, গ্রামার দেয়ার প্রয়োজন নেই, আগে লিখিত অংশ দিতে। গ্রামারের উত্তর নিয়ে কোনো একজন শিক্ষক পরীক্ষার শেষের দিকে যে কোনো সময় হলে যাবেন এবং সঠিক উত্তর বলে দিয়ে আসবেন। ঐ দিন কেন্দ্র নিয়ন্ত্রক সজাগ থাকায় শত চেষ্টা করেও হলে প্রবেশ করতে পারেননি ঐ শিক্ষক। যার ফলে পরীক্ষার সময় যতই শেষ হয়ে আসছিলো, ততই আতঙ্কে সময় পার করছিলো শিক্ষার্থীরা। অবশেষে বেজে উঠে চূড়ান্ত ঘণ্টা। নিশ্চিত ফেল করবে জেনেও কাঁদতে কাঁদতে পরীক্ষার খাতা জমা দেয় তারা। এ তো শুধু একটি কেন্দ্রর চিত্র, জেলার এমন অসংখ্য কেন্দ্র রয়েছে যেখানে হরহামেশেই ঘটছে এমন কা-গুলো।



পূর্বে স্কুলের মিলাদের দিনে শিক্ষার্থীদের মাথায় হাত বুলিয়ে বলা হতো, ভালো মত পড়ালেখা করিস্, ভালো করে পরীক্ষা দিস্। আর এখন অনেক স্কুলে তাদের বলে দেয়া হয়, ইংরেজি গ্রামার বা অবজেকটিভ দাগানোর প্রয়োজন নেই। তোমাদের কেন্দ্রে অমুক-তমুক স্যার গিয়ে উত্তর বলে দিয়ে আসবেন। আর শিক্ষকদের বলে দেয়া সেই উত্তর খাতায় লিখেই বাড়ে স্কুলগুলোতে জিপিএ-৫ এবং পাসের হারের সংখ্যা। এ শিক্ষার্থীরাই বড় হয়ে জানান দেয়, আমি জিপিএ-৫ পেয়েছি। যার ইংরেজি 'আই অ্যাম জিপিএ-৫'!



এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠকে বলেন, প্রথমত আমি সাধুবাদ ও ধন্যবাদ জানাই চাঁদপুর কণ্ঠকে। তারা এত সুন্দর ভাবে এ বিষয়টি অনুসন্ধান করে উঠিয়ে আনার জন্য। আমরা প্রশাসন একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা নেয়ার জন্যে বদ্ধপরিকর। তবে আমাদের কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তা যদি পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চা-সিঙ্গারা বা নাস্তা খেতে অধিক সময় ব্যয় করে বা খোশ গল্পে মগ্ন থাকেন তাহলে স্বভাবতই ধরে নেয়া হবে তিনি তার দায়িত্ব পালন করতে অপারগ বা তিনি কোনো একজনকে নকল সাপ্লাইতে পরোক্ষ ভাবে সুযোগ দিচ্ছেন। এ বছর যদি এ বিষয়টি আমাদের চোখে পড়ে বা কোনো কর্মকর্তা স্পষ্ট ভাবে এমন অভিযোগে প্রমাণিত হন তবে নকল সাপ্লাইকারীর সাথে ঐ কর্মকর্তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। কারণ আমরা কেউই আইনের ঊধর্ে্ব নই। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার পরিবেশ যে বা যারা কর্তৃক বিঘি্নত হবে তাদের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।



জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন-৪ দেখার জন্য চোখ রাখুন আগামীকালকের চাঁদপুর কণ্ঠে।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪১৫৪৯৩
পুরোন সংখ্যা