চাঁদপুর। শুক্রবার ১৯ অক্টোবর ২০১৮। ৪ কার্তিক ১৪২৫। ৮ সফর ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪২-সূরা শূরা

৫৪ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৫৩। ঐ আল্লাহর পথ, যাঁর আধিপত্বে রয়েছে আকাশম-লী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে। সাবধান! সকল বিষয় আল্লাহরই দিকে প্রত্যাবর্তন করে।  

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন



 


প্রচারণায় যে বিশ্বাসী নয় নিঃসন্দেহে সে কাজে বিশ্বাসী ।                      -পিথাগোর।


মায়ের পদতলে সন্তানদের বেহেশত।

 


ফটো গ্যালারি
হাজীগঞ্জে গৃহবধূ রিভা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ঘাতক বোন ও স্বামী গ্রেফতার
মিজানুর রহমান ও কামরুজ্জামান টুটুল
১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


হাজীগঞ্জ উপজেলায় গৃহবধূ নাসরিন আক্তার রিভা (২০) হত্যার রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। হত্যা ঘটনার আঠারো দিনের মাথায় বেরিয়ে এলো সেই রহস্য। শ্যালিকা-দুলাভাইয়ের পরকীয়ার বলি হয়ে গত ৯ অক্টোবর খুন হন নাসরিন আক্তার রিভা। রিভার আপন ছোট বোন আইরিন আক্তার ও স্বামী হযরত আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ১৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকা-ের রহস্য উন্মোচনের কথা জানান পুলিশ সুপার মোঃ জিহাদুল কবির পিপিএম।



আইরিন সুলতানা রিভা হাজীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব হাটিলা ইউনিয়নের পূর্ব হাটিলা গ্রামের বেপারী বাড়ির প্রবাসী আব্দুর রহিমের মেয়ে। তিনি হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল পাইলট হাইস্কুল এন্ড কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পাস করেন। হত্যার দায়ে অভিযুক্ত দুবাই প্রবাসী স্বামী হযরত আলী চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের মনিহার গ্রামের তোরাব আলী মুন্সি বাড়ির রুহুল আমিন মাস্টারের ছেলে। মাত্র ৬ মাস পূর্বে (মার্চ মাসে) পারিবারিকভাবে নাসরিন আক্তার রিভার সাথে বিয়ে হয় হযরত আলীর। হযরত আলী বিয়ের চার মাস পর দুবাই চলে যায় এবং হত্যাকা- ঘটানোর লক্ষ্যে চলতি মাসের ৮ তারিখে দেশে ফিরে আসেন। অপর অভিযুক্ত আসামী নাসরিনের ছোট বোন আইরিন আক্তার রেখা (১৬) স্থানীয় টঙ্গিরপাড় হাটিলা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যায়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী।



পুলিশের দেয়া তথ্য ও ঘটনার সূত্রে জানা গেছে, ৯ অক্টোবর ওই গ্রামের বেপারী বাড়িতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নাসরিনের ছোট বোন আইরিন ও স্বামী হযরত আলী রাতের বেলায় নাসরিনের পায়ে ওড়না পেঁচিয়ে পা চেপে ধরে এবং হযরত আলী মুখে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। ওই সময় নাসরিন সজাগ হয়ে চিৎকার দেয়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে হযরত আলী বালিশ ফেলে দিয়ে নাসরিনকে গলা চেপে ধরে এবং বুকে আঘাত করলে তার বুকের পাঁজর ভেঙে যায়। ওই অবস্থায় নাসরিন চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এ সময় অভিযুক্তরা মনে করে নাসরিনের মৃত্যু হয়েছে। নাসরিনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হযরত আলীকে অপর দরজা দিয়ে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে ছোট বোন আইরিন এবং বাড়ির লোকজনকে ভেতরের আরেকটি দরজা খুলে দিয়ে সেও অজ্ঞান হওয়ার ভান ধরে পড়ে থাকে।



এরপর ওই বাড়ির বাসিন্দা ফেরদৌসী আক্তার মিনুসহ লোকজন নাসরিন ও আইরিনকে প্রথমে হাজীগঞ্জ বিসমিল্লাহ হস্পিটালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরবর্তীতে তাদেরকে কুমিল্লা সিটি প্যাথ হস্পিটালে নিয়ে যান। ওই হস্পিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ অক্টোবর রাতে নাসরিনের মৃত্যু হয়। ওই রাতেই কুমিল্লা হস্পিটাল থেকে নিহত নাসরিনের মরদেহ ও ছোট বোন আইরিনকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। ঘটনার রাত (৯ অক্টোবর) নাসরিনের মা নিলুফা ইয়াছমিন ঢাকায় চিকিৎসার জন্যে অবস্থান করছিলেন। আর পিতা আব্দুর রহিম ঘটনার সংবাদ পেয়ে পরদিন দেশে চলে আসেন।



পুলিশ জানায়, মৃত্যুর খবর পেয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে পুলিশ নাসরিনের মরদেহ উদ্ধার, সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি এবং ময়না তদন্ত সম্পন্ন করেন। এই ঘটনায় নিহতের পিতা আব্দুর রহিম ১৪ অক্টোবর হাজীগঞ্জ থানায় ৪৬০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। যার নং ২০।



এ মামলার তদন্ত করার জন্যে দায়িত্ব দেয়া হয় হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহম্মদকে। তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্যে ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় একই উপজেলার বাকিলা বাজার থেকে অভিযুক্ত হযরত আলীকে আটক করেন। তার কথানুযায়ী ঘটনার সাথে জড়িত আইরিনকেও পুলিশ আটক করে।



জিজ্ঞাসাবাদে হযরত আলী স্ত্রীকে খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি পুলিশকে জানান, ঘটনার পূর্বে তিনি এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন। ওই রাতে পরকীয়া প্রেমিকা (শ্যালিকা) আইরিনের সাথে যোগাযোগ করে ওই বাড়িতে আসেন। এর পূর্বে থেকে আইরিনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক এবং শারীরিক সম্পর্ক হয়। তিনি পুলিশকে উল্লেখিত হত্যাকা-ের বিবরণ দেন।



পুলিশ হযরত আলী ও আইরিন আক্তারকে চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করলে অভিযুক্ত হযরত আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। বৃহস্পতিবার রিভার বোন রেখাকে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ আটক করে আদালতে সোপর্দ করেন। সেও হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। আপন বোনের প্ররোচনায় এ হত্যাকা- ছিলো পরিকল্পিত। দুলাভাইয়ের সাথে ঘর-সংসার করবে এই উদ্দেশ্যে তারা এ হত্যাকা- ঘটিয়েছে।



প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোঃ জিহাদুল কবির পিপিএম বলেন, আমরা এ হত্যার মূল আসামীদের ধরতে সক্ষম হয়েছি। বোনকে মেরে বোন জামাইর সাথে ঘর-সংসার করবে এই উদ্দেশ্যে তারা এ হত্যাকা- ঘটিয়েছে। উভয় আসামী হত্যার দায় স্বীকার করেছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মোঃ আফজাল হোসেন, হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আলমগীর হোসেন ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (উপ-পুলিশ পরির্দশক) ফারুক আহাম্মদ।



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৪২৫৩১
পুরোন সংখ্যা