চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ৬ ডিসেম্বর ২০১৮। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫। ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৪-সূরা দুখান


৫৯ আয়াত, ৩ রুকু, 'মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২২। অতঃপর মূসা তাহার প্রতিপালকের নিকট আবেদন করিল, ইহারা তো এক অপরাধী সম্প্রদায়।


২৩। আমি বলিয়াছিলাম, 'তুমি আমার বান্দাদিগকে লইয়া রজনী যোগে বাহির হইয়া পড়, তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হইবে।


২৪। সমুদ্রকে স্থির থাকিতে দাও, উহারা এমন এক বাহিনী যাহা নিমজ্জিত হইবে।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


 


যারা যত বেশি টাকার পেছনে ছোটে, তারা জীবনে ততটাই অসুখী হয়। -সৌরভ মাহমুদ।


 


 


নামাজে তোমাদের কাতার সোজা কর, নচেৎ আল্লাহ তোমাদের অন্তরে মতভেদ ঢালিয়া দিবেন।


ফটো গ্যালারি
হার না মানার গল্প
প্রতিবন্ধী হয়েও সমাজের প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করতে চান ফরিদগঞ্জের রাসেল
শওকত আলী
০৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মানুষের জীবনে কত না বিপদে পড়তে হয় চলার পথে। সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে মানুষ জন্মগ্রহণ করলেও হঠাৎ কাল বৈশাখী ঝড় এসে জীবনকে তছনছ দেয় কোনো এক সময়টাতে। তারপরও জীবন চলার পথ থেমে থাকে না। মনের জোরে ও সাহস থাকলে জীবনকে এগিয়ে নেয়া অনেক সময় সম্ভব হয়ে উঠে। তেমনি এক প্রতিবন্ধী ইকবাল হোসেন রাসেলের জীবন নিয়ে আজকের এ প্রতিবেদন। জীবনে খেটে খাওয়ায় কোনো লজ্জার কিছু নেই। সকল কাজকেই কাজ মনে করতে হবে। মানুষ ছোট থেকেই যেমন বেড়ে উঠে, তেমনি ছোট ব্যবসা থেকে জীবনের বড় হওয়ার অনেক নজির রয়েছে আমাদের এ সমাজে। অনেকে শূন্য (০) থেকে হিরো হয়েছেন এমন নজির চাঁদপুর শহরের রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিদের জীবনে রয়েছে! যা অনেকেরই অজানা নয়। ভিক্ষা নয়, চুরি নয়, দুর্নীতি নয়, কোনো অসৎ পথেও নয়, যিনি জীবিকা নির্বাহের তাগিদে বেছে নিয়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসা। দুটি পা-ই তার অকেজো। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্ব্ওে নিজেকে প্রতিবন্ধী মনে করেন না। প্রচ- ইচ্ছা শক্তির জোরে তিনি পৌঁছেছেন তার অভীষ্ট লক্ষ্যে। ক্ষুদ্র ব্যবসা করে জীবন চালাচ্ছেন তিনি। নিজের জীবনটাকে সামলে নিচ্ছেন প্রচ- প্রতিকূলতাকে অগ্রাহ্য করে। শত বাধা-বিপত্তি আর সমাজের কটুকথাকে প্রাধান্য না দিয়ে আপন মহিমায় জীবনকে সাজিয়ে তুলেছেন তিনি। শুধু নিজেই সচ্ছল হচ্ছেন না, তার ছোট্ট এ দোকানে আরেকটি যুবকেরও কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রতিবন্ধী জীবনের প্রতিবন্ধকতাকে জয় করা সে যুবক মোঃ ইকবাল হোসেন রাসেল।



ছোটবেলা থেকেই যুদ্ধ : জন্ম থেকে তিনি প্রতিবন্ধী নন। জীবনের প্রথম অধ্যায়ের বেশ কিছু সময় সুস্থ ছিলেন। যখন তাঁর বয়স চার কি পাঁচ তখন থেকেই জীবন যুদ্ধটা শুরু। অজানা এক জ্বরের কবলে পড়ে হঠাৎই দু'পায়ের চলন শক্তি হারিয়ে ফেলেন। ঘটনাটা আজ থেকে প্রায় ত্রিশ বছর আগে ঘটে । তখন চিকিৎসা ব্যবস্থা অতটা আধুনিক ছিল না বলেই হয়তো সামান্য জ্বরের কবলে পড়ে তাকে হারাতে হয়েছিল পা দুটো।



বাবার হাত ধরে লেখাপড়া শুরু। হঠাৎ করেই পা হারিয়ে বিপাকে পড়া রাসেলকে লেখাপড়ায় উৎসাহিত করেন জন্মদাতা পিতা মাওঃ আবদুস সত্তার। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অতটা না পেলেও একজন মানুষের জীবন চলার পথে যে শিক্ষাটা পাওয়া দরকার তার পুরোটাই পেয়ে গেছেন তার পিতা থেকে। প্রাথমিকে ভর্তি হলেও স্কুলে তেমনটা যাওয়া হয়নি তার। প্রতিবন্ধীদের জন্যে তখন লেখাপড়ার তেমন কোনো ব্যবস্থাও ছিল না। তাই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।



প্রতিবন্ধকতাকে জয় : ২৪ ঘণ্টা জ্বরের সাথে হার মেনে নিজের পা হারালেও জীবন যুদ্ধে ঠিকই জয় ছিনিয়ে এনেছেন তিনি। প্রতিনিয়ত প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে চলেছেন। ছোটবেলায় পঙ্গুত্ববরণ করা রাসেল সমাজের শত তিরস্কার আর পঙ্গুত্বের অভিশাপকে দূরে ঠেলে নিজের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছেছেন। প্রথম প্রথম সমাজের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে না পারলেও বর্তমানে তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। নিজেকে এখন আর তিনি দোষী করেন না। ভাগ্যকে মেনে নিয়েই জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন।



যেভাবে ব্যবসায় আসা : এত ছোটবেলায় পঙ্গুত্ববরণ করায় বাবা বেশ চিন্তিত ছিলেন ছেলে রাসেলকে নিয়ে। কিছুতো একটা করতে হবে, আর তারই ধারাবাহিকতায় বাড়ির পাশেই ছোট্ট একটি দোকানঘর তুলে দেন। বাজার থেকে চিপস, চকলেট, কেক, আচার, সন্দেশসহ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিক্রি করতে এনে দেন ছেলেকে। একটা সময় বাবা বুঝতে পারেন যে ছেলের ভবিষ্যৎ বলে একটা কথা আছে। সুতরাং এখানে পড়ে থাকলে হবে না। তাই ছেলেকে ফরিদগঞ্জের রূপসা বাজারে একটি দোকানঘর ভাড়া করে দেন। দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে, কিছুদিন পরই বাবা মৃত্যুবরণ করেন। বাবার মৃত্যুতে তিনি থেমে যাননি, এরপরও তিনি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। আস্তে আস্তে ব্যবসার পরিধি বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে তাঁর দোকানে ফ্লেঙ্েিলাড থেকে শুরু করে বিভিন্ন কোম্পানীর মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এছাড়া দোকানে আরো রয়েছে খাতা-কলমসহ নিত্য প্রয়োজনীয় বিবিধ মনোহারী জিনিসপত্র।



পরিবারের ভালবাসায় সিক্ত : রাসেলদের তিন ভাই এক বোনের সংসার। নিজে সবার ছোট। বিয়েও করেছেন। রয়েছে একটি ফুটফুটে কন্যা শিশু। পিতামাতার আদরের সন্তান ছিলেন রাসেল। আত্মীয়, পরিবার-পরিজন সকলের কাছেই পেয়েছেন অঢেল ভালবাসা। মাঝে মাঝে কেউ আবার হীন চোখেও দেখেছে। কিন্তু কোনো কিছুতেই থেমে যাননি রাসেল। ছুটে চলেছেন আপন মহিমায়।



চলাফেরায় শত যন্ত্রণা : বেলা দশটায় তার নিজের দোকানে আসেন হুইল চেয়ারে করে। নিজেই একা একা নেমে পড়েন চেয়ার থেকে। এরপর হাতের সম্বল হিসেবে থাকে দুটি পিঁড়ি। কোনো রকমে পিঁড়ির উপর ভর করে উঠেন মূল দোকানে। মাঝে মাঝে দোকানে উঠতে পড়ে গিয়ে ব্যথাও পেয়ে থাকেন।



প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করার আগ্রহ : রাসেল নিজে এক জন প্রতিবন্ধী হয়েও বেঁচে থাকাটা যে কত কষ্টের তা তিনি হাড়ে হাড়ে বুঝতে পেরেছেন। প্রবল মনোবল আর মনের সাহস ও জোরে সকল প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেছেন। তাই এ সমাজের অসহায় অসংখ্য প্রতিবন্ধীকে নিয়ে কাজ করতে তার অগাধ অগ্রহ রয়েছে বলে তার কথায় প্রকাশ পায়।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৬৩৮৯২
পুরোন সংখ্যা