চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ৬ ডিসেম্বর ২০১৮। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫। ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৪-সূরা দুখান


৫৯ আয়াত, ৩ রুকু, 'মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


২২। অতঃপর মূসা তাহার প্রতিপালকের নিকট আবেদন করিল, ইহারা তো এক অপরাধী সম্প্রদায়।


২৩। আমি বলিয়াছিলাম, 'তুমি আমার বান্দাদিগকে লইয়া রজনী যোগে বাহির হইয়া পড়, তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হইবে।


২৪। সমুদ্রকে স্থির থাকিতে দাও, উহারা এমন এক বাহিনী যাহা নিমজ্জিত হইবে।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


 


যারা যত বেশি টাকার পেছনে ছোটে, তারা জীবনে ততটাই অসুখী হয়। -সৌরভ মাহমুদ।


 


 


নামাজে তোমাদের কাতার সোজা কর, নচেৎ আল্লাহ তোমাদের অন্তরে মতভেদ ঢালিয়া দিবেন।


ফটো গ্যালারি
চাঁদপুর-৫ আসন
আওয়ামী লীগের আস্থা মেজর রফিকে ৯ ডিসেম্বরের অপেক্ষায় বিএনপি
কামরুজ্জামান টুটুল
০৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর-৫ হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি নিয়ে জাতীয় সংসদীয় আসন-২৬৪। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জেলার বাণিজ্যিক শহর খ্যাত হাজীগঞ্জের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হোটেল রেস্তোরাঁ, হাট-বাজার-অফিসপাড়া থেকে শুরু করে বাড়ি বাড়ি জমে উঠেছে নির্বাচনী আলোচনা। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে একক প্রার্থী থাকলেও দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রয়েছে ধানের শীষের নেতা-কর্মীরা। এখানে ধানের শীষ প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে সাবেক এমপি এমএ মতিন ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি লায়ন ইঞ্জিঃ মমিনুল হক আলোচনায় আছেন। যাচাই-বাছাইয়ে মমিন-মতিন দুজনেরই মনোনয়ন টিকে গেছে। সর্বসাকুল্যে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে এখানকার বিএনপি নেতা-কর্মীরা। তবে ৯ ডিসেম্বরের পর বিষয়টি অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে।



হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি দুটি উপজেলা নিয়ে চাঁদপুর-৫ নির্বাচনী এলাকা গঠিত। এর মধ্যে হাজীগঞ্জ উপজেলার আয়তন ১৮৯ বর্গ কিলোমিটার। মোট জনসংখ্যা ৩২৭৩৬৭ জন। ইউনিয়ন ১২টি ও পৌরসভা ১টি। ভোটার সংখ্যা ২৪২৮২৮ জন। পুরুষ ভোটার ১২৩৫৪৫ জন এবং মহিলা ভোটার ১১৯২৮৩ জন। শাহরাস্তি উপজেলার আয়তন ১৫৪.৩১ বর্গকিলোমিটার। মোট জনসংখ্যা ২২৬৭৮৬ জন। ইউনিয়ন ১০টি ও পৌরসভা ১টি। ভোটার সংখ্যা ১৭০৯৫৩ জন। পুরুষ ভোটার ৮৪৭০৭ জন এবং মহিলা ভোটার ৮৬২৪৬ জন।



জেলার বাণিজ্যিক শহর ঐতিহাসিক বড় মসজিদখ্যাত হাজীগঞ্জ আর হজরত শাহরাস্তি (রঃ) মাজারখ্যাত শাহরাস্তি উপজেলার সর্বস্তরের লোকজনের মাঝে নির্বাচনী আমেজ জমে উঠেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অতীতের ভোটের হিসেব নতুন করে কষতে শুরু করেছে ভোটাররা। ১৯৯১ সালে ধানের শীষ প্রতীকে এমপি নির্বাচিত হন এমএ মতিন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের এমপি নির্বাচিত হন মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম। নির্বাচিত হয়েই দায়িত্ব পান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে। তাঁর হাত ধরেই পার্বত্য শান্তি চুক্তি আলোর মুখ দেখে। ২০০১ সালে ফের বিএনপি থেকে এমপি নির্বাচিত হন সাবেক এমপি এমএ মতিন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হন মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম। ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত নির্বাচনের পূর্বে বিএনপির সাবেক এমপি এমএ মতিন নিজের অসুস্থতা দেখিয়ে রাজনীতি থেকে অবসরগ্রহণ করেন। সে সময় বিএনপির মনোনয়ন পান ইঞ্জিঃ মমিনুল হক।



নৌকা প্রতীকে মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি এবার অনেক চরাই-উৎরাই পেরিয়ে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি নৌকা প্রতীক পাওয়ার কারণে দলীয় অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মাঝে বরফ গলতে শুরু করেছে। নৌকার পক্ষে কাজ আর নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের নেতারা ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করেছে। সর্বশেষ গত সোমবার হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তিতে আলাদাভাবে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশেষ বর্ধিত সভা করেছে। এই সভায় নৌকার পক্ষে কাজ করতে দূরে থাকা অনেক শীর্ষ নেতা ও কর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হতে দেখা গেছে।



গত ১ দশকে এলাকায় আওয়ামী লীগ ব্যাপক উন্নয়ন করলেও উন্নয়নের বিষয়গুলো নির্বাচন উপলক্ষে সামনে আসছে না। সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজসহ প্রচুর স্কুল কলেজের নতুন ও সুদৃশ্য ভবন নির্মাণ, ২ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়ন, দুই উপজেলার ডাকাতিয়ার উপর ৭ সেতুর নির্মাণ ও ১টি নির্মাণাধীন সেতুসহ ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছেন মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি।



অপরদিকে ২০০৮ সালের পর থেকে হাজীগঞ্জ শাহরাস্তিতে বিএনপি অনেকটা সুসংগঠিত ছিলো। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত লায়ন ইঞ্জিঃ মমিনুল হক মূলত সেই সময় থেকে দলের নেতা-কর্মীদের সুসংগঠিত করে রেখেছেন। বিশেষ করে ২০১৪ সাল থেকে শুরু করে বিএনপির আন্দোলনে যে সকল নেতা-কর্মী মামলার শিকার হয়েছিলেন তাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক সহায়তাসহ আইনী বিষয়গুলোর সবদিক দেখতেন মমিনুল হক। মূলত এ সকল কারণে দলের কমপক্ষে ৮০ ভাগ নেতা-কর্মীর সমর্থন মমিনুল হকের পক্ষে রয়েছে। আবার ৪ বারের সাবেক এমপি এমএ মতিন বেশ কিছু দিন দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝ থেকে দূরে থাকলেও রাজনৈতিক জীবনে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হয়রানি না করা, দল ও দলের বাইরে ক্লিন ইমেজ সৃষ্টি করা, সাংসদ থাকাকালে এলাকার উন্নয়নের জন্য দলীয় ভোটার ছাড়াও অন্য দলের ভোটারদের মনে স্থান করে রেখেছেন।



তবে বিএনপির শত শত নেতা-কর্মী যখন বহু মামলার আসামী হয়ে আদালতে হাজিরা দিতে ব্যতিব্যস্ত আর এই সকল নেতা-কর্মী যখন নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে নির্বাচিত করার ইচ্ছে পোষণ করছে ঠিক তখনই দলীয় প্রতীক দুইজনকে দেয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছে এখানকার বিএনপির নেতা-কর্মীরা। দলের দুর্দিনে লায়ন ইঞ্জিঃ মমিনুল হক যখন দলকে ধরে রেখেছেন ঠিক সেই কৃতজ্ঞতায় ধানের শীষ মমিনুল হককে দেয়া হোক এমনটাই প্রত্যাশা করছেন এখানকার বিএনপির অধিকাংশ নেতা-কর্মী।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৩৩৪৮০
পুরোন সংখ্যা